Hi

০৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনায় যুবদল কর্মীর গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে চুরি হওয়া গরু উদ্ধার, আটক ১

পাবনা সদর উপজেলার কোমরপুর সীমান্ত বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই দুটি গরুসহ শরিফুল ইসলাম প্রধান নামের এক যুবদল কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে আসামির বাড়ির অভিনব আন্ডারগ্রাউন্ড বা ভূগর্ভস্থ গোপন কক্ষ থেকে ওই গবাদিপশুগুলো উদ্ধার করা হয়। পাবনা সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার একটি বাড়ি থেকে আকস্মিকভাবে দুটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মৌখিকভাবে সদর থানাকে অবহিত করলে পুলিশ তদন্তে নামে। পরবর্তীতে শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশের কাছে তথ্য আসে যে, চুরি যাওয়া গরুগুলো কোমরপুর এলাকার শরিফুল ইসলামের বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির নিচে তৈরি করা একটি গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে গরু দুটি উদ্ধার করে এবং শরিফুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আটক শরিফুল ইসলাম প্রধান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আড়ুয়া বাধা এলাকার মৃত ইসমাইল প্রামাণিকের ছেলে হলেও বর্তমানে তিনি পাবনা সদর এলাকার ভোটার হিসেবে বসবাস করছেন এবং স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা যুবদলের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার ছবি এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের দৃশ্য পাওয়া গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। তিনি বলেন, অপরাধীরা বিভিন্ন উপায়ে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে কিংবা নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা করে। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় দল বা কোনো পদের দায়িত্বশীল ব্যক্তি নেবে না। আমরা চাই প্রশাসন আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তবে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মনির আহমেদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক শরিফুল ইসলামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ সময় সে এই চোর চক্রের আরও বেশ কিছু সদস্যের নাম প্রকাশ করেছে। পুলিশ তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে উদ্ধারকৃত গরু দুটির মধ্যে অন্তত একজনের প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার লিখিত অভিযোগ বা মামলার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কাতারে আগ্নেয়াস্ত্র ধার দিলে আইনি ব্যবস্থার সতর্কতা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পাবনায় যুবদল কর্মীর গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে চুরি হওয়া গরু উদ্ধার, আটক ১

আপডেট : ০৫:২২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

পাবনা সদর উপজেলার কোমরপুর সীমান্ত বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই দুটি গরুসহ শরিফুল ইসলাম প্রধান নামের এক যুবদল কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে আসামির বাড়ির অভিনব আন্ডারগ্রাউন্ড বা ভূগর্ভস্থ গোপন কক্ষ থেকে ওই গবাদিপশুগুলো উদ্ধার করা হয়। পাবনা সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার একটি বাড়ি থেকে আকস্মিকভাবে দুটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মৌখিকভাবে সদর থানাকে অবহিত করলে পুলিশ তদন্তে নামে। পরবর্তীতে শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশের কাছে তথ্য আসে যে, চুরি যাওয়া গরুগুলো কোমরপুর এলাকার শরিফুল ইসলামের বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির নিচে তৈরি করা একটি গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে গরু দুটি উদ্ধার করে এবং শরিফুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আটক শরিফুল ইসলাম প্রধান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আড়ুয়া বাধা এলাকার মৃত ইসমাইল প্রামাণিকের ছেলে হলেও বর্তমানে তিনি পাবনা সদর এলাকার ভোটার হিসেবে বসবাস করছেন এবং স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা যুবদলের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার ছবি এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের দৃশ্য পাওয়া গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। তিনি বলেন, অপরাধীরা বিভিন্ন উপায়ে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে কিংবা নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা করে। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় দল বা কোনো পদের দায়িত্বশীল ব্যক্তি নেবে না। আমরা চাই প্রশাসন আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তবে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মনির আহমেদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক শরিফুল ইসলামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ সময় সে এই চোর চক্রের আরও বেশ কিছু সদস্যের নাম প্রকাশ করেছে। পুলিশ তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে উদ্ধারকৃত গরু দুটির মধ্যে অন্তত একজনের প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার লিখিত অভিযোগ বা মামলার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।