Hi

০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অননুমোদিত লিগে খেলায় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি পিসিবির

জিম্বাবুয়েতে আয়োজিত ‘এশিয়ান লেজেন্ডস লিগ’-এ অননুমোদিত অংশগ্রহণের কারণে পাকিস্তানের একাধিক সাবেক ক্রিকেটারকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, বোর্ডের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া বিদেশি লিগে অংশ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের উপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এমনকি বোর্ডের অধীনে যে কোনো ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড, যেমন কোচিং, পরামর্শদাতা বা অন্য কোনো দায়িত্ব পালনেও তাদের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, জাম্বিয়ার লুসাকায় গত ৩০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে ‘পাকিস্তান প্যান্থার্স’ নামে একটি দল অংশগ্রহণ করছে, যেখানে এক ডজনেরও বেশি পাকিস্তানি সাবেক ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতেই জাম্বিয়া ক্রিকেট ইউনিয়ন (জেডসিইউ) এক বিবৃতিতে জানায় যে, এই লিগ তাদের দ্বারা ‘অনুমোদিত, স্বীকৃত বা সমর্থিত নয়’। জেডসিইউ-এর এই ঘোষণার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও বিষয়টি ‘অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে’ বিবেচনা করছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। পিসিবি আরও উল্লেখ করেছে যে, এই ঘটনাটি তাদের নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘনের শামিল হওয়ায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া তাদের অন্য কোনো উপায় নেই।

পিসিবির পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পিসিবির পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে কোনো অননুমোদিত ক্রিকেট ইভেন্টে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে অনুমোদিত বিদেশি ক্রিকেট লিগ বা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য পিসিবির অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেতে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। একই সাথে, পিসিবি এবং পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) যে কোনো ধরনের ক্রিকেটীয় ভূমিকা যেমন – খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, পরামর্শদাতা, মেন্টরিং অথবা অন্য কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে দুই বছরের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। ক্রিকেটের সততা ও সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করতে আইসিসির নিয়মকানুন অক্ষুণ্ন রাখতে পিসিবি সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো সূত্রে জানা গেছে, পিসিবি মনে করে যে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনাটি ইতোমধ্যে ঘটে গেছে। যদিও মোহাম্মদ হাফিজ, সোহেল তানভীর এবং উমর আকমলের মতো কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার লিগে চুক্তিবদ্ধ হয়ে লুসাকায় পৌঁছালেও, তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাব জানতে পেরে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরও অনেক সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার এই লিগে অংশ নিয়েছেন বা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

‘এশিয়ান লেজেন্ডস লিগ’-এ মোট ছয়টি দল অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে ‘পাকিস্তান প্যান্থার্স’ ছাড়াও রয়েছে ইন্ডিয়ান রয়্যালস, শ্রীলঙ্কান লায়নস, বাংলাদেশ টাইগার্স, আফগানিস্তান পাঠানস ও এশিয়ান স্টারস। এই দলগুলোতে ৯টি ভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা অংশ নিলেও, এখন পর্যন্ত কেবল পিসিবিই তাদের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

‘পাকিস্তান প্যান্থার্স’ দলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যে সকল খেলোয়াড়ের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: শারজিল খান, কামরান আকমল, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, উমর আকমল, ইমরান নাজির, সাঈদ আজমল, সোহেল তানভীর, ইয়াসির শাহ, নাভিদ-উল-হাসান, মোহাম্মদ ইরফান, জুলফিকার বাবর, রাহাত আলী, হাসান রাজা, ইয়াসির ভাট এবং রানা নাঈম আনোয়ার। ক্রিকইনফো নিশ্চিত করেছে, এই তালিকার সবাই না হলেও অন্তত কয়েকজন খেলোয়াড় টুর্নামেন্টের এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোয় অংশ নিয়েছেন। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে, পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের পেশাদার জীবনে এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।

জনপ্রিয়

নেত্রকোনায় মহাদেও নদে অবৈধ বালু উত্তোলনে শ্রমিকের মৃত্যু: জনজীবন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

অননুমোদিত লিগে খেলায় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি পিসিবির

আপডেট : ০২:২৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জিম্বাবুয়েতে আয়োজিত ‘এশিয়ান লেজেন্ডস লিগ’-এ অননুমোদিত অংশগ্রহণের কারণে পাকিস্তানের একাধিক সাবেক ক্রিকেটারকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, বোর্ডের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া বিদেশি লিগে অংশ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের উপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এমনকি বোর্ডের অধীনে যে কোনো ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড, যেমন কোচিং, পরামর্শদাতা বা অন্য কোনো দায়িত্ব পালনেও তাদের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, জাম্বিয়ার লুসাকায় গত ৩০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে ‘পাকিস্তান প্যান্থার্স’ নামে একটি দল অংশগ্রহণ করছে, যেখানে এক ডজনেরও বেশি পাকিস্তানি সাবেক ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতেই জাম্বিয়া ক্রিকেট ইউনিয়ন (জেডসিইউ) এক বিবৃতিতে জানায় যে, এই লিগ তাদের দ্বারা ‘অনুমোদিত, স্বীকৃত বা সমর্থিত নয়’। জেডসিইউ-এর এই ঘোষণার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও বিষয়টি ‘অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে’ বিবেচনা করছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। পিসিবি আরও উল্লেখ করেছে যে, এই ঘটনাটি তাদের নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘনের শামিল হওয়ায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া তাদের অন্য কোনো উপায় নেই।

পিসিবির পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পিসিবির পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে কোনো অননুমোদিত ক্রিকেট ইভেন্টে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে অনুমোদিত বিদেশি ক্রিকেট লিগ বা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য পিসিবির অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেতে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। একই সাথে, পিসিবি এবং পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) যে কোনো ধরনের ক্রিকেটীয় ভূমিকা যেমন – খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, পরামর্শদাতা, মেন্টরিং অথবা অন্য কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে দুই বছরের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। ক্রিকেটের সততা ও সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করতে আইসিসির নিয়মকানুন অক্ষুণ্ন রাখতে পিসিবি সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো সূত্রে জানা গেছে, পিসিবি মনে করে যে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনাটি ইতোমধ্যে ঘটে গেছে। যদিও মোহাম্মদ হাফিজ, সোহেল তানভীর এবং উমর আকমলের মতো কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার লিগে চুক্তিবদ্ধ হয়ে লুসাকায় পৌঁছালেও, তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাব জানতে পেরে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরও অনেক সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার এই লিগে অংশ নিয়েছেন বা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

‘এশিয়ান লেজেন্ডস লিগ’-এ মোট ছয়টি দল অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে ‘পাকিস্তান প্যান্থার্স’ ছাড়াও রয়েছে ইন্ডিয়ান রয়্যালস, শ্রীলঙ্কান লায়নস, বাংলাদেশ টাইগার্স, আফগানিস্তান পাঠানস ও এশিয়ান স্টারস। এই দলগুলোতে ৯টি ভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা অংশ নিলেও, এখন পর্যন্ত কেবল পিসিবিই তাদের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

‘পাকিস্তান প্যান্থার্স’ দলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যে সকল খেলোয়াড়ের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: শারজিল খান, কামরান আকমল, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, উমর আকমল, ইমরান নাজির, সাঈদ আজমল, সোহেল তানভীর, ইয়াসির শাহ, নাভিদ-উল-হাসান, মোহাম্মদ ইরফান, জুলফিকার বাবর, রাহাত আলী, হাসান রাজা, ইয়াসির ভাট এবং রানা নাঈম আনোয়ার। ক্রিকইনফো নিশ্চিত করেছে, এই তালিকার সবাই না হলেও অন্তত কয়েকজন খেলোয়াড় টুর্নামেন্টের এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোয় অংশ নিয়েছেন। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে, পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের পেশাদার জীবনে এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।