Hi

০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে মাদকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সামাজিক আন্দোলনের ৪ কর্মী কারাগারে

মাদকের কারবারে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ায় ‘আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন কমিটি’র ওয়ার্ড পর্যায়ের চার সদস্যকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করলে আদালত তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত শনিবার বিকেলে লালমনিরহাট সদর থানা-পুলিশের মাধ্যমে এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বহিষ্কৃত ও কারাবন্দী চার ব্যক্তি হলেন—লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হরিণচড়া গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমান, আনারুল ইসলাম, মো. আবদুর রাজ্জাক এবং জাহেদুল ইসলাম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল এবং তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করার মহৎ উদ্দেশ্যে এই সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। অথচ সংগঠনেরই দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিরা যখন অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তখন তা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর হতাশার জন্ম দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে। ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ‘আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন কমিটি’র ইউনিয়ন শাখার প্রধান সমন্বয়ক খায়রুজ্জামান মণ্ডল। তাঁর স্বাক্ষরসংবলিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে উল্লিখিত চারজনকে সংগঠন থেকে পাকাপাকিভাবে বহিষ্কার করা হলো। সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এবং সমাজবিরুদ্ধ এই কর্মকাণ্ডের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে এবং পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়। শনিবার সকালে অভিযুক্তদের আটক করে লালমনিরহাট সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার বিকেলে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে সংগঠনের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ও তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে অপরাধীরা সমাজ সংস্কারের মোড়কে আড়ালে থেকে পার পাওয়ার সুযোগ পাবে না এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটবে।

জনপ্রিয়

তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

লালমনিরহাটে মাদকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সামাজিক আন্দোলনের ৪ কর্মী কারাগারে

আপডেট : ০১:২২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মাদকের কারবারে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ায় ‘আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন কমিটি’র ওয়ার্ড পর্যায়ের চার সদস্যকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করলে আদালত তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত শনিবার বিকেলে লালমনিরহাট সদর থানা-পুলিশের মাধ্যমে এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বহিষ্কৃত ও কারাবন্দী চার ব্যক্তি হলেন—লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হরিণচড়া গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমান, আনারুল ইসলাম, মো. আবদুর রাজ্জাক এবং জাহেদুল ইসলাম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল এবং তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করার মহৎ উদ্দেশ্যে এই সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। অথচ সংগঠনেরই দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিরা যখন অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তখন তা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর হতাশার জন্ম দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে। ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ‘আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন কমিটি’র ইউনিয়ন শাখার প্রধান সমন্বয়ক খায়রুজ্জামান মণ্ডল। তাঁর স্বাক্ষরসংবলিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে উল্লিখিত চারজনকে সংগঠন থেকে পাকাপাকিভাবে বহিষ্কার করা হলো। সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এবং সমাজবিরুদ্ধ এই কর্মকাণ্ডের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে এবং পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়। শনিবার সকালে অভিযুক্তদের আটক করে লালমনিরহাট সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার বিকেলে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে সংগঠনের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ও তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে অপরাধীরা সমাজ সংস্কারের মোড়কে আড়ালে থেকে পার পাওয়ার সুযোগ পাবে না এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটবে।