Hi

১২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় স্কুল কামাইয়ের পরামর্শ টুখেলের, কঠোর অবস্থানে ব্রিটিশ সরকার

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে এক অদম্য উন্মাদনা। এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে ইংল্যান্ডেও। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর মধ্যকার হাইভোল্টেজ শেষ ষোলোর ম্যাচটি নিয়ে ব্রিটিশ জনমনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে ম্যাচটি ব্রিটিশ সময় গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিপত্তি বেঁধেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে। ইংল্যান্ডের হেড কোচ থমাস টুখেল এক সংবাদ সম্মেলনে মজার ছলে অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন, সন্তানদের যেন একটি অজুহাত লিখে দিয়ে স্কুল কামাই করার সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে তারা নিশ্চিন্তে খেলাটি উপভোগ করতে পারে। টুখেলের মতে, স্কুল প্রতিদিন খোলা থাকে, কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মহোৎসব চার বছর পরপর আসে।

টুখেলের এই মন্তব্য মুহূর্তেই ব্রিটিশ রাজনীতি ও সমাজমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলে। তবে তার এই আহ্বানে সাড়া দিতে নারাজ দেশটির সরকার। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচের গুরুত্ব যতই থাকুক না কেন, সোমবার শিশুদের স্কুলে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন কি না সেটি তাদের একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও, সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্বচ্ছ—শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রী জ্যাকি স্মিথ এক অভিনব পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসকে সম্মান জানিয়েও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, তিনিও ম্যাচটি দেখবেন, তবে তার আগে বিকেলে কিছুটা ঘুমিয়ে (যাকে তিনি ‘ডিস্কো ন্যাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন) শরীর চাঙ্গা করে নেবেন, যাতে পরদিন সকালে যথারীতি কাজে ফিরতে পারেন। একই সাথে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত না হয়।

এদিকে ম্যাচটি গভীর রাতে হওয়ায় ইংল্যান্ডের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব স্পষ্ট। শিশু দেখাশোনার অ্যাপ ‘বাবল’ জানিয়েছে, সোমবার সকালের জন্য তাদের বুকিং আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেড়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে অনেক অভিভাবক রাত জেগে ম্যাচ দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেক সমর্থক সোমবার বিশেষ সরকারি ছুটির দাবি তুললেও সরকার তা নাকচ করে দিয়েছে। আবাসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি ছুটির তালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আশার বাণী শুনিয়েছেন যে, ইংল্যান্ড যদি বিশ্বকাপ জয় করে, তবে ভবিষ্যতে বিশেষ জাতীয় ছুটির বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। সব মিলিয়ে, খেলাধুলা ও শিক্ষার ভারসাম্যের এই বিতর্ক এখন ব্রিটিশ জনজীবনের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয়

জুলাই-আগস্টে বন্যার উচ্চঝুঁকি: ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় সতর্কবার্তা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় স্কুল কামাইয়ের পরামর্শ টুখেলের, কঠোর অবস্থানে ব্রিটিশ সরকার

আপডেট : ০৯:৪৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে এক অদম্য উন্মাদনা। এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে ইংল্যান্ডেও। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর মধ্যকার হাইভোল্টেজ শেষ ষোলোর ম্যাচটি নিয়ে ব্রিটিশ জনমনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে ম্যাচটি ব্রিটিশ সময় গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিপত্তি বেঁধেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে। ইংল্যান্ডের হেড কোচ থমাস টুখেল এক সংবাদ সম্মেলনে মজার ছলে অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন, সন্তানদের যেন একটি অজুহাত লিখে দিয়ে স্কুল কামাই করার সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে তারা নিশ্চিন্তে খেলাটি উপভোগ করতে পারে। টুখেলের মতে, স্কুল প্রতিদিন খোলা থাকে, কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মহোৎসব চার বছর পরপর আসে।

টুখেলের এই মন্তব্য মুহূর্তেই ব্রিটিশ রাজনীতি ও সমাজমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলে। তবে তার এই আহ্বানে সাড়া দিতে নারাজ দেশটির সরকার। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচের গুরুত্ব যতই থাকুক না কেন, সোমবার শিশুদের স্কুলে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন কি না সেটি তাদের একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও, সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্বচ্ছ—শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রী জ্যাকি স্মিথ এক অভিনব পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসকে সম্মান জানিয়েও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, তিনিও ম্যাচটি দেখবেন, তবে তার আগে বিকেলে কিছুটা ঘুমিয়ে (যাকে তিনি ‘ডিস্কো ন্যাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন) শরীর চাঙ্গা করে নেবেন, যাতে পরদিন সকালে যথারীতি কাজে ফিরতে পারেন। একই সাথে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত না হয়।

এদিকে ম্যাচটি গভীর রাতে হওয়ায় ইংল্যান্ডের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব স্পষ্ট। শিশু দেখাশোনার অ্যাপ ‘বাবল’ জানিয়েছে, সোমবার সকালের জন্য তাদের বুকিং আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেড়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে অনেক অভিভাবক রাত জেগে ম্যাচ দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেক সমর্থক সোমবার বিশেষ সরকারি ছুটির দাবি তুললেও সরকার তা নাকচ করে দিয়েছে। আবাসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি ছুটির তালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আশার বাণী শুনিয়েছেন যে, ইংল্যান্ড যদি বিশ্বকাপ জয় করে, তবে ভবিষ্যতে বিশেষ জাতীয় ছুটির বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। সব মিলিয়ে, খেলাধুলা ও শিক্ষার ভারসাম্যের এই বিতর্ক এখন ব্রিটিশ জনজীবনের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।