সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ বা আগামীকালের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের নিজ বাসভবনে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর প্রস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করবেন। তবে তিনি বঙ্গভবনে অফিস করলেও স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। গত শুক্রবার বিকেলে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার এই পদত্যাগের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর হওয়ায় তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। তবে নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় ২১ মাস আগেই স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সুযোগ না থাকায় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ও শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ত্যাগ করার পরদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেখানে অফিস কার্যক্রম শুরু করবেন স্পিকার।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত মো. সাহাবুদ্দিনের ব্যক্তিগত বাসভবনে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও পরিচ্ছন্নতার কাজ। বাড়ির নিচতলার বসার জায়গাটি নতুন করে রং করা হচ্ছে এবং আসবাবপত্র পরিষ্কার করা হচ্ছে। বাড়ির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানান, স্যার যেকোনো সময় বাসায় ফিরতে পারেন, এমন নির্দেশনা নিয়েই তাঁরা কাজ করছেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি এই বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। বর্তমানে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বিশেষ সদস্যের উপস্থিতি না থাকলেও সংবাদকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ রোববার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর দুপুরে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন। বঙ্গভবন হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের আনুষ্ঠানিক কার্যালয় ও বাসভবন। এখানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ থেকে শুরু করে জাতীয় দিবসের নানা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এসব রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই পরিচালিত হতে থাকবে।
রিপোর্টার নাম: 




















