Hi

০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের মুদ্রাবাজারে ডলারের সামান্য ঊর্ধ্বগতি: খোলা বাজারে বাড়ছে চাপ

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৪:৩০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২ জন দেখেছে

চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মানে সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশের মুদ্রাবাজারেও এর আঁচ পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত দৈনিকে এক্সচেঞ্জ রেট অনুযায়ী, আজ ডলারের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায়, যা গত কয়েকদিনের তুলনায় কিছুটা বেশি। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই সামান্য ওঠানামা সার্বিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডলারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যবহৃত অন্যান্য প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যেও মিশ্র প্রবণতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, চীনা ইউয়ান এবং সিঙ্গাপুরি ডলারের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলীয় ডলারের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে এবং ভারতীয় রুপি ও জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুদ্রাবাজারে এই তারল্য সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদার সমীকরণ বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা ধরনের পলিসি বা কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে।

তবে ব্যাংকিং খাতের বাইরে খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেটে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন হয় আরও চড়া দামে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক দরের চেয়ে খোলা বাজারে ডলারসহ অন্যান্য প্রধান মুদ্রা সাধারণত কিছুটা বেশি মূল্যে বেচাকেনা হয়ে থাকে। এর ফলে বিদেশগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী এবং প্রবাসীদের স্বজনদের বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী রেমিডিয়েন্স প্রবাহ আরও বাড়ানোর বিকল্প নেই। মুদ্রাবাজারের এই চলমান ওঠানামা শেষ পর্যন্ত দেশের আমদানি ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের ওপর কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয়

জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না: মির্জা ফখরুল

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

দেশের মুদ্রাবাজারে ডলারের সামান্য ঊর্ধ্বগতি: খোলা বাজারে বাড়ছে চাপ

আপডেট : ০৪:৩০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মানে সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশের মুদ্রাবাজারেও এর আঁচ পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত দৈনিকে এক্সচেঞ্জ রেট অনুযায়ী, আজ ডলারের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায়, যা গত কয়েকদিনের তুলনায় কিছুটা বেশি। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই সামান্য ওঠানামা সার্বিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডলারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যবহৃত অন্যান্য প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যেও মিশ্র প্রবণতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, চীনা ইউয়ান এবং সিঙ্গাপুরি ডলারের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলীয় ডলারের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে এবং ভারতীয় রুপি ও জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুদ্রাবাজারে এই তারল্য সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদার সমীকরণ বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা ধরনের পলিসি বা কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে।

তবে ব্যাংকিং খাতের বাইরে খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেটে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন হয় আরও চড়া দামে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক দরের চেয়ে খোলা বাজারে ডলারসহ অন্যান্য প্রধান মুদ্রা সাধারণত কিছুটা বেশি মূল্যে বেচাকেনা হয়ে থাকে। এর ফলে বিদেশগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী এবং প্রবাসীদের স্বজনদের বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী রেমিডিয়েন্স প্রবাহ আরও বাড়ানোর বিকল্প নেই। মুদ্রাবাজারের এই চলমান ওঠানামা শেষ পর্যন্ত দেশের আমদানি ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের ওপর কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।