কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের একজন সাবেক সদস্যকে একটি চায়ের দোকান থেকে তুলে নিয়ে পাশবিক কায়দায় কুপিয়ে জখম করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার হ্নীলা বাজারে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আহত ওই সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম জামাল উদ্দিন (৪০), যিনি হ্নীলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় জামাল উদ্দিন হ্নীলা বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ করেই পাঁচ থেকে সাতজন মুখোশ পরিহিত সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে জোরপূর্বক তুলে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে হ্নীলা দরগাহ এলাকার নির্জন স্থানে ফেলে যাওয়ার আগে নিষ্ঠুরভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়। তার হাঁটুর অংশে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে, যা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে হ্নীলার পাহাড় এবং রোহিঙ্গা শিবির সংলগ্ন এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী ও মাদক চক্রের সদস্যরা জড়িত। তাদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীদের কাছে পিস্তল, গুলি এবং ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ছিল। ঘটনার সময় তারা কয়েকটি ফাঁকা গুলিও ছুড়েছিল, যা এলাকার মানুষকে আরও বেশি ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে। টেকনাফ একটি সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানে মাদক পাচার, বিশেষ করে ইয়াবা কারবার এবং এর সাথে জড়িত অপরাধী চক্রের তৎপরতা দীর্ঘদিনের। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর এ ধরনের হামলা প্রায়শই এসব চক্রের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা অথবা কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের ফল হিসেবে দেখা হয়।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, তারা হ্নীলায় সাবেক ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিনকে তুলে নিয়ে মারধরের বিষয়টি অবগত হয়েছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওসি আরও উল্লেখ করেন যে, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।
টেকনাফ অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমনিতেই চ্যালেঞ্জিং, যেখানে মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং বিভিন্ন অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হয়। একজন সাবেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর প্রকাশ্যে এমন হামলা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের অপরাধ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। আহত জামাল উদ্দিনের পরিবার এবং স্থানীয় জনতা দ্রুত হামলাকারীদের বিচার দাবি করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
রিপোর্টার নাম: 





















