Hi

০৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিসিবির পণ্য নিতে এসে চাল না পেয়ে ক্ষুব্ধ নিম্নআয়ের মানুষ, ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভায় টিসিবির পণ্য কিনতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারের নির্ধারিত প্যাকেজে চাল থাকার কথা থাকলেও তা না পেয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা। বৃহস্পতিবার পৌরসভা চত্বরে সরেজমিনে দেখা যায়, কার্ডধারীরা তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে এসে চাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন। সরস্বতী সরকার নামের এক নারী আক্ষেপ করে জানান, দুই দিন ধরে ভ্যান ভাড়া খরচ করে লাইনে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত চালটুকু পাননি। তার মতো এমন অনেকেরই দাবি, সরকার নির্ধারিত প্যাকেজে চাল না পাওয়া তাদের পারিবারিক বাজেটে বড় ধরনের টান সৃষ্টি করছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালীতে মোট ১,৪৮১ জন টিসিবি কার্ডধারী রয়েছেন। জুন মাসের বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, দুই লিটার সয়াবিন তেল এবং সাবান পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোহান ট্রেডার্স নামের এক ডিলার চাল ও সাবান ছাড়া কেবল ডাল, চিনি ও তেল বিক্রি করছেন। এর ফলে ৩৭১ জন কার্ডধারী চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ভ্যানচালক ফজল শেখের ভাষ্যমতে, চাল পাওয়ার আশায় তিনি কষ্ট স্বীকার করে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু চালের সরবরাহ না থাকায় তার পুরো দিনের শ্রম ও খরচ বৃথা গেছে।

এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে রোহান ট্রেডার্সের মালিক ফিরোজ হোসেন দায় চাপিয়েছেন চাল সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ডিলার ফাহিম এশরাকের ওপর। তার দাবি, সময়মতো চাল না পাওয়ায় তিনি তা বিতরণ করতে পারেননি। তবে ফাহিম এশরাক এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ২১ জুনের মধ্যে চাল নেওয়ার শেষ সময় ছিল এবং তিনি বারবার যোগাযোগ করলেও ফিরোজ হোসেন চাল নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন। বিষয়টিতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও গুদাম কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেই চাল অন্য ডিলারের মাধ্যমে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কার্ডধারীদের প্রাপ্য পণ্য থেকে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি কার্ডধারী যেন তাদের নির্ধারিত চাল পায় তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় যারা গাফিলতি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, তাই এমন অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

সিজদার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য: বিনয় ও দাসত্বের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

টিসিবির পণ্য নিতে এসে চাল না পেয়ে ক্ষুব্ধ নিম্নআয়ের মানুষ, ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট : ০১:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভায় টিসিবির পণ্য কিনতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারের নির্ধারিত প্যাকেজে চাল থাকার কথা থাকলেও তা না পেয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা। বৃহস্পতিবার পৌরসভা চত্বরে সরেজমিনে দেখা যায়, কার্ডধারীরা তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে এসে চাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন। সরস্বতী সরকার নামের এক নারী আক্ষেপ করে জানান, দুই দিন ধরে ভ্যান ভাড়া খরচ করে লাইনে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত চালটুকু পাননি। তার মতো এমন অনেকেরই দাবি, সরকার নির্ধারিত প্যাকেজে চাল না পাওয়া তাদের পারিবারিক বাজেটে বড় ধরনের টান সৃষ্টি করছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালীতে মোট ১,৪৮১ জন টিসিবি কার্ডধারী রয়েছেন। জুন মাসের বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, দুই লিটার সয়াবিন তেল এবং সাবান পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোহান ট্রেডার্স নামের এক ডিলার চাল ও সাবান ছাড়া কেবল ডাল, চিনি ও তেল বিক্রি করছেন। এর ফলে ৩৭১ জন কার্ডধারী চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ভ্যানচালক ফজল শেখের ভাষ্যমতে, চাল পাওয়ার আশায় তিনি কষ্ট স্বীকার করে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু চালের সরবরাহ না থাকায় তার পুরো দিনের শ্রম ও খরচ বৃথা গেছে।

এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে রোহান ট্রেডার্সের মালিক ফিরোজ হোসেন দায় চাপিয়েছেন চাল সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ডিলার ফাহিম এশরাকের ওপর। তার দাবি, সময়মতো চাল না পাওয়ায় তিনি তা বিতরণ করতে পারেননি। তবে ফাহিম এশরাক এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ২১ জুনের মধ্যে চাল নেওয়ার শেষ সময় ছিল এবং তিনি বারবার যোগাযোগ করলেও ফিরোজ হোসেন চাল নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন। বিষয়টিতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও গুদাম কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেই চাল অন্য ডিলারের মাধ্যমে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কার্ডধারীদের প্রাপ্য পণ্য থেকে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি কার্ডধারী যেন তাদের নির্ধারিত চাল পায় তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় যারা গাফিলতি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, তাই এমন অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।