Hi

০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন-বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক ভারত: তিস্তা প্রকল্প ও সামরিক সরঞ্জাম ইস্যুতে কড়া নজর

বাংলাদেশে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক এবং সামরিক ও অবকাঠামোগত খাতে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। সম্প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনের কাছ থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা এবং তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে বেইজিংয়ের সম্পৃক্ততার আগ্রহের বিষয়টি নয়াদিল্লির নজরে এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিবেশী অঞ্চলের প্রতিটি কৌশলগত উন্নয়ন ভারত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।

তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে জয়সওয়াল জানান, এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আগেই অবহিত করা হয়েছে। তিস্তা ইস্যুটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত একটি বড় বিষয়। ভারতের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং পানি বণ্টন সংক্রান্ত যেকোনো সংকট নিরসনে সুসংগঠিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা পদ্ধতি বিদ্যমান। তবে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক জটিলতা এবং বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি বিষয়টিকে প্রতিনিয়ত জটিল করে তুলছে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তি থাকলেও, শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিয়ে বাংলাদেশের অভিযোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে ঢাকা তার পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে বেইজিংয়ের সাথে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা নয়াদিল্লির জন্য একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, তিস্তা প্রকল্পের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে চীনের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহায়তা ভারতের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত সর্বদা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে এবং কোনো তৃতীয় শক্তির প্রভাব যেন ভারতের নিরাপত্তা বলয়কে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখছে।

পরিশেষে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর ও বহুমাত্রিক। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের প্রভাব বজায় রাখতে ভারত তার কৌশলগত অবস্থানে কোনো ছাড় দিতে নারাজ। তিস্তা ইস্যু থেকে শুরু করে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়—সবক্ষেত্রেই ভারত তার জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে। ঢাকার সাথে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি নয়াদিল্লি এখন পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জনপ্রিয়

খুলনায় স্কুলছাত্রীকে গুলি: রহস্যময় ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা, তদন্তে পুলিশ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চীন-বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক ভারত: তিস্তা প্রকল্প ও সামরিক সরঞ্জাম ইস্যুতে কড়া নজর

আপডেট : ১০:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক এবং সামরিক ও অবকাঠামোগত খাতে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। সম্প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনের কাছ থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা এবং তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে বেইজিংয়ের সম্পৃক্ততার আগ্রহের বিষয়টি নয়াদিল্লির নজরে এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিবেশী অঞ্চলের প্রতিটি কৌশলগত উন্নয়ন ভারত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।

তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে জয়সওয়াল জানান, এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আগেই অবহিত করা হয়েছে। তিস্তা ইস্যুটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত একটি বড় বিষয়। ভারতের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং পানি বণ্টন সংক্রান্ত যেকোনো সংকট নিরসনে সুসংগঠিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা পদ্ধতি বিদ্যমান। তবে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক জটিলতা এবং বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি বিষয়টিকে প্রতিনিয়ত জটিল করে তুলছে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তি থাকলেও, শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিয়ে বাংলাদেশের অভিযোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে ঢাকা তার পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে বেইজিংয়ের সাথে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা নয়াদিল্লির জন্য একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, তিস্তা প্রকল্পের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে চীনের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহায়তা ভারতের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত সর্বদা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে এবং কোনো তৃতীয় শক্তির প্রভাব যেন ভারতের নিরাপত্তা বলয়কে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখছে।

পরিশেষে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর ও বহুমাত্রিক। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের প্রভাব বজায় রাখতে ভারত তার কৌশলগত অবস্থানে কোনো ছাড় দিতে নারাজ। তিস্তা ইস্যু থেকে শুরু করে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়—সবক্ষেত্রেই ভারত তার জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে। ঢাকার সাথে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি নয়াদিল্লি এখন পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।