ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা একটি গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের বাইসাইকেল নিজের নাতিকে দেওয়ার ঘটনায় নৈতিক স্খলন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত উপজেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এডিপি প্রকল্পের আওতায় অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বাইসাইকেল বিতরণের সময়। অভিযোগ রয়েছে যে, মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজের প্রভাব খাটিয়ে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দকৃত বাইসাইকেলটি সেই শিক্ষার্থীর হাতে না তুলে নিজের নাতিকে দিয়ে দেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এবং স্বজনপ্রীতির এই ঘটনা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে সংকটের মুখে ফেলে দেয়।
জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের আপস করে না। মাওলানা তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তের পর তার কর্মকাণ্ডকে দলীয় গঠনতন্ত্র ও আদর্শের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে আমিরের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে উপজেলা নায়েবে আমির আজিজুর রহমানকে নতুন আমিরের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মো. আবু বকর। তিনি এবং জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, সংগঠনের প্রতিটি সদস্যকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকতে হবে এবং কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জামায়াত যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, এই সিদ্ধান্ত তারই একটি অংশ।
উল্লেখ্য যে, অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারি সুবিধা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে দলীয় পর্যায়ের এমন দ্রুত ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, জনপ্রতিনিধি বা দলীয় পদে থাকা ব্যক্তিদের নৈতিক শুদ্ধতা বজায় রাখা অপরিহার্য। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকারি সম্পদ ও সুবিধা বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি সহ্য করা হবে না। স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
রিপোর্টার নাম: 








