Hi

০২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুলশান লেককে বাঁচাতে ‘চলো খাল বাঁচাই’ কর্মসূচি: পরিচ্ছন্নতায় শামিল পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী

রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান লেককে দূষণমুক্ত, পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুরু হয়েছে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ‘চলো খাল বাঁচাই’ স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), গুলশান সোসাইটি, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি বাংলাদেশ এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফুটস্টেপস বাংলাদেশ যৌথভাবে অংশগ্রহণ করছে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে আগামী রোববার পর্যন্ত। মূলত নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং লেকের পানির গুণমান রক্ষায় এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবার গুলশান-২ লেক ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, লেকের পানিতে ভাসমান বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ও প্লাস্টিক অপসারণ করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তাদের সাথে সংহতি জানিয়ে ফুটস্টেপস বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী লেকের পাড় ও আশপাশের সড়ক পরিচ্ছন্ন করতে নিরলস কাজ করছেন। লেক থেকে উত্তোলিত ময়লা-আবর্জনা সুশৃঙ্খলভাবে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে স্তূপ করা হচ্ছে, যাতে তা পরবর্তীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় পাঠানো যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযান শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক) মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা কেবল সরকারি কোনো কার্যক্রম নয়, বরং একে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। তিনি খাল পুনরুদ্ধার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণকে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পরিবেশ রক্ষা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা নয়, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব। তিনি নগরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও মশকনিধন কার্যক্রম সম্পর্কেও আলোকপাত করেন এবং কিছু এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত গত দুই দশকের অপরিকল্পিত নগরায়ণকে গুলশান এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অধিকাংশ ভবনের পয়োনিষ্কাশন লাইন সরাসরি লেকে যুক্ত থাকায় পানি দূষিত হচ্ছে। গুলশানকে একটি আদর্শ মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিথ মীওয়ানাগে ও চিফ ডিজিটাল অফিসার আহমেদ জাফরুল হাসান জানান, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ হিসেবেই তারা এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক ইখলাস উদ্দিন ও প্রত্যাশা সুমন জানান, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন করে তোলার লক্ষ্যেই তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গুলশান লেকের দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

খুলনায় স্কুলছাত্রীকে গুলি: রহস্যময় ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা, তদন্তে পুলিশ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গুলশান লেককে বাঁচাতে ‘চলো খাল বাঁচাই’ কর্মসূচি: পরিচ্ছন্নতায় শামিল পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী

আপডেট : ১১:১১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান লেককে দূষণমুক্ত, পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুরু হয়েছে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ‘চলো খাল বাঁচাই’ স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), গুলশান সোসাইটি, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি বাংলাদেশ এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফুটস্টেপস বাংলাদেশ যৌথভাবে অংশগ্রহণ করছে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে আগামী রোববার পর্যন্ত। মূলত নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং লেকের পানির গুণমান রক্ষায় এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবার গুলশান-২ লেক ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, লেকের পানিতে ভাসমান বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ও প্লাস্টিক অপসারণ করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তাদের সাথে সংহতি জানিয়ে ফুটস্টেপস বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী লেকের পাড় ও আশপাশের সড়ক পরিচ্ছন্ন করতে নিরলস কাজ করছেন। লেক থেকে উত্তোলিত ময়লা-আবর্জনা সুশৃঙ্খলভাবে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে স্তূপ করা হচ্ছে, যাতে তা পরবর্তীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় পাঠানো যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযান শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক) মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা কেবল সরকারি কোনো কার্যক্রম নয়, বরং একে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। তিনি খাল পুনরুদ্ধার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণকে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পরিবেশ রক্ষা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা নয়, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব। তিনি নগরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও মশকনিধন কার্যক্রম সম্পর্কেও আলোকপাত করেন এবং কিছু এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত গত দুই দশকের অপরিকল্পিত নগরায়ণকে গুলশান এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অধিকাংশ ভবনের পয়োনিষ্কাশন লাইন সরাসরি লেকে যুক্ত থাকায় পানি দূষিত হচ্ছে। গুলশানকে একটি আদর্শ মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিথ মীওয়ানাগে ও চিফ ডিজিটাল অফিসার আহমেদ জাফরুল হাসান জানান, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ হিসেবেই তারা এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক ইখলাস উদ্দিন ও প্রত্যাশা সুমন জানান, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন করে তোলার লক্ষ্যেই তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গুলশান লেকের দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।