Hi

০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুলশান লেক পুনরুদ্ধারে ‘চলো খাল বাঁচাই’: তিন দিনব্যাপী বৃহৎ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের পরিবেশ রক্ষায় এবং নগরীর জলাধারগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ‘চলো খাল বাঁচাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে গুলশান লেকে শুরু হয়েছে এক বৃহৎ পরিসরের পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), গুলশান সোসাইটি, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি বাংলাদেশ এবং বেসরকারি সংস্থা ফুটস্টেপস বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিটি আগামী তিন দিনব্যাপী চলমান থাকবে।

শুক্রবার সকাল থেকেই গুলশান-২ লেক ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এক কর্মযজ্ঞ পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়। লেকের পানিতে জমে থাকা ভাসমান ময়লা অপসারণের পাশাপাশি লেকের পাড় ও আশপাশের রাস্তা পরিষ্কারের কাজে অংশ নিয়েছেন গুলশান সোসাইটির কর্মী, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।

এই উদ্যোগের নেপথ্যে থাকা আয়োজক ও অংশীদাররা জানিয়েছেন, এটি কেবল তিন দিনের একটি সাময়িক অভিযান নয়, বরং গুলশান লেককে দীর্ঘমেয়াদে সুন্দর ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি বাংলাদেশের চিফ ডিজিটাল অফিসার আহমেদ জাফরুল হাসান জানান, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বা সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা এই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, কেবল গুলশানের মতো অভিজাত এলাকা নয়, ঢাকা শহরের প্রতিটি খাল ও জলাধারের আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত সচেতনতা ও উদ্যোগ প্রয়োজন।

ফুটস্টেপস বাংলাদেশের ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড আউটরিচ লিড রিদওয়ান আহমেদ জানান, এটি তাদের চতুর্থ খাল বা লেক পরিচ্ছন্নতা প্রকল্প। এর আগে তারা সফলভাবে আরও তিনটি জলাধার পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, যতক্ষণ না গুলশান লেক সম্পূর্ণভাবে আবর্জনামুক্ত ও দুর্গন্ধহীন হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচিটি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির একটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। মোহাম্মদপুর থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবক ইখলাস উদ্দিন এবং প্রত্যাশা সুমন বলেন, ছোট ছোট এই উদ্যোগগুলোই একদিন ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান কেবল লেক নয়, বরং নগরীর সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত পরিসরে বছরব্যাপী পরিচালনা করার পরিকল্পনাও রয়েছে আয়োজক কমিটির।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় রিকশাচালককে রক্ষায় বাধা দিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন যাত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গুলশান লেক পুনরুদ্ধারে ‘চলো খাল বাঁচাই’: তিন দিনব্যাপী বৃহৎ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

আপডেট : ১২:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের পরিবেশ রক্ষায় এবং নগরীর জলাধারগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ‘চলো খাল বাঁচাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে গুলশান লেকে শুরু হয়েছে এক বৃহৎ পরিসরের পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), গুলশান সোসাইটি, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি বাংলাদেশ এবং বেসরকারি সংস্থা ফুটস্টেপস বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিটি আগামী তিন দিনব্যাপী চলমান থাকবে।

শুক্রবার সকাল থেকেই গুলশান-২ লেক ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এক কর্মযজ্ঞ পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়। লেকের পানিতে জমে থাকা ভাসমান ময়লা অপসারণের পাশাপাশি লেকের পাড় ও আশপাশের রাস্তা পরিষ্কারের কাজে অংশ নিয়েছেন গুলশান সোসাইটির কর্মী, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।

এই উদ্যোগের নেপথ্যে থাকা আয়োজক ও অংশীদাররা জানিয়েছেন, এটি কেবল তিন দিনের একটি সাময়িক অভিযান নয়, বরং গুলশান লেককে দীর্ঘমেয়াদে সুন্দর ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি বাংলাদেশের চিফ ডিজিটাল অফিসার আহমেদ জাফরুল হাসান জানান, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বা সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা এই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, কেবল গুলশানের মতো অভিজাত এলাকা নয়, ঢাকা শহরের প্রতিটি খাল ও জলাধারের আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত সচেতনতা ও উদ্যোগ প্রয়োজন।

ফুটস্টেপস বাংলাদেশের ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড আউটরিচ লিড রিদওয়ান আহমেদ জানান, এটি তাদের চতুর্থ খাল বা লেক পরিচ্ছন্নতা প্রকল্প। এর আগে তারা সফলভাবে আরও তিনটি জলাধার পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, যতক্ষণ না গুলশান লেক সম্পূর্ণভাবে আবর্জনামুক্ত ও দুর্গন্ধহীন হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচিটি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির একটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। মোহাম্মদপুর থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবক ইখলাস উদ্দিন এবং প্রত্যাশা সুমন বলেন, ছোট ছোট এই উদ্যোগগুলোই একদিন ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান কেবল লেক নয়, বরং নগরীর সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত পরিসরে বছরব্যাপী পরিচালনা করার পরিকল্পনাও রয়েছে আয়োজক কমিটির।