Hi

০৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাফরুলে যুবদল কর্মী হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৭ জন গ্রেফতার

রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় যুবদল কর্মী মো.ইউসুফ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। মোঃ নাহিদ হাসান (২১) ২। মোঃ শাফিন আহমেদ (২২) ৩। মোঃ জিয়ারুল মোল্লা (৩৯) ৪। মোঃ আলী হোসেন (৪৫) ৫। মোঃ জিহাদ মোল্লা (৩০) ৬। মোঃ মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও ৭। মোঃ আবির হাওলাদার (২৫) ।

ডিবি মিরপুর বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১:১০ ঘটিকায় কাফরুল থানাধীন ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় কয়েকজন অস্ত্রধারীর ছোড়া গুলিতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নালাম সরদার ও মনির হোসেন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসীকে আটক করে কাফরুল থানায় সোপর্দ করে। পরবর্তীতে পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে । এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরপরই ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২৫ জুলাই ) গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের একটি টিম মিরপুর এলাকা থেকে মো. নাহিদ হাসান ও মো. শাফিন আহমেদকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরা জেলার শালিখা থানাধীন আড়পাড়া এলাকা থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর এলাকা থেকে মো. আলী হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

অপরদিকে, কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে মো. জিহাদ মোল্লা এবং যশোর জেলার বাগারপাড়া এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেফতার করে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয় পরবর্তীতে কাফরুল থানায় সোপর্দ করে।

ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেশাদার খুনি ভাড়া করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।

গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করে। তারা মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। এ সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসে। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে মিসফায়ার হলে ওই দিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা লক্ষ্যব্যক্তি হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়।

পরবর্তীতে ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সিএনজি হাফিজের নির্দেশে তারা পুনরায় ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর ২৩ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।

ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১ ঘটিকায় হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অবস্থানকালে অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশি করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি নিহত হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জনপ্রিয়

ধূমপানে কার ক্ষতি বেশি—নারী নাকি পুরুষ? নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কাফরুলে যুবদল কর্মী হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৭ জন গ্রেফতার

আপডেট : ০২:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় যুবদল কর্মী মো.ইউসুফ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। মোঃ নাহিদ হাসান (২১) ২। মোঃ শাফিন আহমেদ (২২) ৩। মোঃ জিয়ারুল মোল্লা (৩৯) ৪। মোঃ আলী হোসেন (৪৫) ৫। মোঃ জিহাদ মোল্লা (৩০) ৬। মোঃ মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও ৭। মোঃ আবির হাওলাদার (২৫) ।

ডিবি মিরপুর বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১:১০ ঘটিকায় কাফরুল থানাধীন ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় কয়েকজন অস্ত্রধারীর ছোড়া গুলিতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নালাম সরদার ও মনির হোসেন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসীকে আটক করে কাফরুল থানায় সোপর্দ করে। পরবর্তীতে পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে । এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরপরই ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২৫ জুলাই ) গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের একটি টিম মিরপুর এলাকা থেকে মো. নাহিদ হাসান ও মো. শাফিন আহমেদকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরা জেলার শালিখা থানাধীন আড়পাড়া এলাকা থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর এলাকা থেকে মো. আলী হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

অপরদিকে, কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে মো. জিহাদ মোল্লা এবং যশোর জেলার বাগারপাড়া এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেফতার করে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয় পরবর্তীতে কাফরুল থানায় সোপর্দ করে।

ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেশাদার খুনি ভাড়া করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।

গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করে। তারা মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। এ সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসে। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে মিসফায়ার হলে ওই দিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা লক্ষ্যব্যক্তি হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়।

পরবর্তীতে ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সিএনজি হাফিজের নির্দেশে তারা পুনরায় ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর ২৩ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।

ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১ ঘটিকায় হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অবস্থানকালে অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশি করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি নিহত হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।