Hi

১০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে ফলন্ত কমলাবাগান ধ্বংসের ঘটনা: সরেজমিন তদন্ত করল উচ্চপর্যায়ের কমিটি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফলভর্তি কমলাগাছ কেটে ফেলার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে মাঠে নেমেছে প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।

উচ্ছেদ অভিযানের নামে ফলন্ত কমলাবাগান ধ্বংস করার এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১৬ জুলাই কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন আদমপুর বিটের কালিঞ্জি এলাকায় উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে প্রায় পাঁচ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়। বন বিভাগের দাবি ছিল, সেখানে অবৈধভাবে কমলার বাগান, পুকুর এবং বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। তবে এই উচ্ছেদ অভিযانের সময় আনুমানিক ১ হাজার ২০০ ফলভর্তি কমলাগাছ কেটে ফেলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন স্থানীয় কৃষক আলীম উল্লা ও তাঁর পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ আট বছরের শ্রম এবং প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এই বাগানটি গড়ে তোলা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল এবং সেই চাঁদা না দেওয়ার কারণেই ফল তোলার ঠিক আগে আক্রোশবশত গাছগুলো কেটে ফেলা হয় বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। অন্যদিকে, বন বিভাগ চাঁদা দাবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে সংরক্ষিত বনভূমিতে এ ধরনের বাণিজ্যিক বাগান করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং বনভূমি উদ্ধারের অংশ হিসেবেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।

তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান জানিয়েছেন, কমিটির অন্য দুই সদস্য—সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আবদুর রহমান এবং মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোসা. শাহীনা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন। খুব দ্রুতই একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেওয়া হবে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে জানা গেছে, ঘটনাটি নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রশাসন তদন্ত কমিটিকে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেছেন যে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন।

জনপ্রিয়

মার্ভেলের নতুন চমক ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’: আসছে টম হল্যান্ডের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কমলগঞ্জে ফলন্ত কমলাবাগান ধ্বংসের ঘটনা: সরেজমিন তদন্ত করল উচ্চপর্যায়ের কমিটি

আপডেট : ০৭:১২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফলভর্তি কমলাগাছ কেটে ফেলার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে মাঠে নেমেছে প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।

উচ্ছেদ অভিযানের নামে ফলন্ত কমলাবাগান ধ্বংস করার এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১৬ জুলাই কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন আদমপুর বিটের কালিঞ্জি এলাকায় উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে প্রায় পাঁচ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়। বন বিভাগের দাবি ছিল, সেখানে অবৈধভাবে কমলার বাগান, পুকুর এবং বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। তবে এই উচ্ছেদ অভিযانের সময় আনুমানিক ১ হাজার ২০০ ফলভর্তি কমলাগাছ কেটে ফেলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন স্থানীয় কৃষক আলীম উল্লা ও তাঁর পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ আট বছরের শ্রম এবং প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এই বাগানটি গড়ে তোলা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল এবং সেই চাঁদা না দেওয়ার কারণেই ফল তোলার ঠিক আগে আক্রোশবশত গাছগুলো কেটে ফেলা হয় বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। অন্যদিকে, বন বিভাগ চাঁদা দাবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে সংরক্ষিত বনভূমিতে এ ধরনের বাণিজ্যিক বাগান করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং বনভূমি উদ্ধারের অংশ হিসেবেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।

তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান জানিয়েছেন, কমিটির অন্য দুই সদস্য—সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আবদুর রহমান এবং মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোসা. শাহীনা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন। খুব দ্রুতই একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেওয়া হবে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে জানা গেছে, ঘটনাটি নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রশাসন তদন্ত কমিটিকে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেছেন যে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন।