প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মান বজায় রাখতে ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নিম্নমানের ডিম বিতরণের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের গাফিলতি বা আপস করা হবে না।
তথ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। উপজেলা শিক্ষা অফিসের তদন্তে উঠে আসে যে, গত ১ জুলাই বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিমের গুণগত মান ছিল নিম্নমানের। তবে বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সুশীলন’ ত্রুটিপূর্ণ ডিমগুলো সরিয়ে নিয়ে মানসম্মত ডিম সরবরাহ নিশ্চিত করে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য, তাই খাবারের মানে সামান্যতম বিচ্যুতিও বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ১৮ মে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মায়েদের অংশগ্রহণে পাঁচ সদস্যের একটি ‘গার্ডিয়ান কমিটি’ গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনায় এই কমিটির কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অভিভাবক কমিটির সচেতনতার কারণেই নিম্নমানের খাবার শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মন্ত্রণালয় মনে করছে, স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও গুণমান বজায় রাখতে অভিভাবক কমিটির নিয়মিত নজরদারি একটি মডেল হিসেবে কাজ করছে। শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার পরিবেশকে মানসম্মত রাখতে সরকার এ ধরনের কঠোর তদারকি অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 








