Hi

০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে হুমকির মুখে লিটন চৌধুরী সেতু: আতঙ্কে স্থানীয়রা

মাদারীপুরের শিবচরে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মিত ‘লিটন চৌধুরী’ সেতুটি ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদের প্রচণ্ড ঘূর্ণিস্রোতের কারণে সেতুর সংযোগ সড়কের পাশের মাটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত বছরের জুন-জুলাই মাসে সেতুর প্রায় ২০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার পর, এবারের বর্ষা মৌসুমে পুনরায় ভাঙন শুরু হওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর ৫৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ৯ দশমিক ৮০ মিটার প্রশস্ত এই সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রায় ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি শিবচর সদরের সঙ্গে দত্তপাড়া, শিরুয়াইল ও নিলখী ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদের গতিপথ পরিবর্তন এবং তীব্র ঘূর্ণিস্রোতের কারণেই মূলত এই ভাঙন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে সেতুটির কাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সজিব হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সেতুর নিচে এবং পাশের মাটি যেভাবে ধসে পড়ছে, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা বা স্থায়ী প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শিবচর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ১১টি স্প্যান ও ১২৩টি পাইল বিশিষ্ট এই সেতুটি নির্মাণের সময় আধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতি ব্যবহার করা হলেও বর্তমানের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদের ভাঙনের তীব্রতা প্রকৌশলীদের ভাবিয়ে তুলেছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ভাঙন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে জনদুর্ভোগ লাঘব হয় এবং কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা পায়।

জনপ্রিয়

জামায়াতের শরিয়াহ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়: মির্জা ফখরুল

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে হুমকির মুখে লিটন চৌধুরী সেতু: আতঙ্কে স্থানীয়রা

আপডেট : ০৬:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

মাদারীপুরের শিবচরে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মিত ‘লিটন চৌধুরী’ সেতুটি ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদের প্রচণ্ড ঘূর্ণিস্রোতের কারণে সেতুর সংযোগ সড়কের পাশের মাটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত বছরের জুন-জুলাই মাসে সেতুর প্রায় ২০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার পর, এবারের বর্ষা মৌসুমে পুনরায় ভাঙন শুরু হওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর ৫৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ৯ দশমিক ৮০ মিটার প্রশস্ত এই সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রায় ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি শিবচর সদরের সঙ্গে দত্তপাড়া, শিরুয়াইল ও নিলখী ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদের গতিপথ পরিবর্তন এবং তীব্র ঘূর্ণিস্রোতের কারণেই মূলত এই ভাঙন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে সেতুটির কাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সজিব হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সেতুর নিচে এবং পাশের মাটি যেভাবে ধসে পড়ছে, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা বা স্থায়ী প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শিবচর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ১১টি স্প্যান ও ১২৩টি পাইল বিশিষ্ট এই সেতুটি নির্মাণের সময় আধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতি ব্যবহার করা হলেও বর্তমানের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদের ভাঙনের তীব্রতা প্রকৌশলীদের ভাবিয়ে তুলেছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ভাঙন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে জনদুর্ভোগ লাঘব হয় এবং কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা পায়।