Hi

০৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেনী সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা নস্যাৎ, ৭ ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠাল বিজিবি

ফেনীর পরশুরাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ কিংবা অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) একটি চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সাতজন নারী ও শিশুকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রহরীদের তাৎক্ষণিক বাধার মুখে বিএসএফের সেই অপচেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে বিএসএফ তাদের নিজস্ব সীমানার অভ্যন্তরে ওই নারী ও শিশুদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

সীমান্ত সংলগ্ন স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেবনগর-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে ওই নারী-শিশুদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঢোকানোর প্রক্রিয়া শুরু করে বিএসএফ। সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত বিজিবির টহল দল বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা মাত্রই কৌশলগত অবস্থান নেয় এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে কঠোর বাধা প্রদান করে। বিজিবির জোরালো প্রতিবাদের মুখে অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত শূন্যরেখায় আটকে পড়ে। দীর্ঘ সময় দরকষাকষির পর সকাল ১০টার দিকে পশ্চিম সাহেবনগর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ওই নারী-শিশুদের পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত নিয়ে যায় বিএসএফ।

বিজিবির প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বিএসএফ কর্তৃক পুশ ইনের শিকার হওয়া উক্ত সাতজন ব্যক্তিই মূলত বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিক। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও নিয়ম লঙ্ঘন করে এভাবে সাধারণ নাগরিকদের ঠেলে পাঠানোর অপচেষ্টার কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ফেনী সীমান্ত দিয়ে কোনোভাবেই অবৈধ পুশ ইন বা বেআইনি অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবি কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন অংশে মাঝেমধ্যেই বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিকদের ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ ওঠে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে। তবে সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার, অতিরিক্ত নজরদারি এবং প্রহরীদের প্রস্তুত অবস্থানের কারণে সম্প্রতি এ ধরনের একাধিক অপচেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে। বিজিবি কর্তৃপক্ষের মতে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে, যেন কোনো অবস্থাতেই বিএসএফের এ ধরনের বেআইনি উদ্যোগ বাস্তবায়ন হতে না পারে।

এ ঘটনার পর থেকে পরশুরাম উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বাড়তি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রুখতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজিবির এই দ্রুত ও দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে স্থানীয় সীমান্তবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একইসঙ্গে সীমান্ত নীতি মেনে চলার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয়

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ না করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফেনী সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা নস্যাৎ, ৭ ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠাল বিজিবি

আপডেট : ০৩:১৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ফেনীর পরশুরাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ কিংবা অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) একটি চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সাতজন নারী ও শিশুকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রহরীদের তাৎক্ষণিক বাধার মুখে বিএসএফের সেই অপচেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে বিএসএফ তাদের নিজস্ব সীমানার অভ্যন্তরে ওই নারী ও শিশুদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

সীমান্ত সংলগ্ন স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেবনগর-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে ওই নারী-শিশুদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঢোকানোর প্রক্রিয়া শুরু করে বিএসএফ। সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত বিজিবির টহল দল বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা মাত্রই কৌশলগত অবস্থান নেয় এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে কঠোর বাধা প্রদান করে। বিজিবির জোরালো প্রতিবাদের মুখে অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত শূন্যরেখায় আটকে পড়ে। দীর্ঘ সময় দরকষাকষির পর সকাল ১০টার দিকে পশ্চিম সাহেবনগর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ওই নারী-শিশুদের পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত নিয়ে যায় বিএসএফ।

বিজিবির প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বিএসএফ কর্তৃক পুশ ইনের শিকার হওয়া উক্ত সাতজন ব্যক্তিই মূলত বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিক। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও নিয়ম লঙ্ঘন করে এভাবে সাধারণ নাগরিকদের ঠেলে পাঠানোর অপচেষ্টার কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ফেনী সীমান্ত দিয়ে কোনোভাবেই অবৈধ পুশ ইন বা বেআইনি অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবি কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন অংশে মাঝেমধ্যেই বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিকদের ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ ওঠে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে। তবে সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার, অতিরিক্ত নজরদারি এবং প্রহরীদের প্রস্তুত অবস্থানের কারণে সম্প্রতি এ ধরনের একাধিক অপচেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে। বিজিবি কর্তৃপক্ষের মতে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে, যেন কোনো অবস্থাতেই বিএসএফের এ ধরনের বেআইনি উদ্যোগ বাস্তবায়ন হতে না পারে।

এ ঘটনার পর থেকে পরশুরাম উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বাড়তি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রুখতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজিবির এই দ্রুত ও দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে স্থানীয় সীমান্তবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একইসঙ্গে সীমান্ত নীতি মেনে চলার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।