প্রকৃতির দান দেশি ফলের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণিল ‘ফল উৎসব ২০২৬’। গত ২৭ জুন বিকেলে প্রথম আলোর দিনাজপুর কার্যালয়ে আয়োজিত এই উৎসবটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও বন্ধুত্বের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুসহ হরেক রকমের মৌসুমি ফলের সমারোহে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে সজীব ও সুবাসিত।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী বেদানা ও বোম্বাই লিচু। এছাড়া আম, কাঁঠাল, লটকন, কামরাঙা ও আনারসের মতো পুষ্টিকর ফলের পসরা সাজিয়ে বন্ধুসভার সদস্যরা উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের প্রাণকেন্দ্রে ছিল ‘ফল নিয়ে কথন, আড্ডা ও কবিতা আবৃত্তি’। আলাপচারিতার ফাঁকে উপস্থিত অতিথি ও বন্ধুরা দেশি ফলের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং মানবদেহে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি, প্রকৃতি ও ফলকে উপজীব্য করে রচিত বিখ্যাত কবিদের কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠানটিকে এক নান্দনিক উচ্চতায় নিয়ে যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও দিনাজপুর জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান সাজু এবং প্রথম আলোর দিনাজপুর প্রতিনিধি ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা রাজিউল ইসলাম। এছাড়াও বন্ধুসভার সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই আনন্দঘন আয়োজনে অংশ নেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বর্তমান সময়ের অস্বাস্থ্যকর ফাস্টফুড ও ভেজাল খাবারের অভ্যাস ত্যাগ করে দেশি ও মৌসুমি ফল গ্রহণে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফলদ বৃক্ষরোপণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন অতিথিরা। তারা বলেন, প্রতিটি বন্ধু যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে ফলদ গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করেন, তবে তা প্রকৃতি ও জনস্বাস্থ্য উভয় ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আড্ডা, আলোচনা ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই উৎসবটি কেবল বিনোদনই নয়, বরং স্বাস্থ্যসচেতনতা ও বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তার বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে।
রিপোর্টার নাম: 
























