Hi

০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জার্মানির অকাল বিদায়: ফুটবলারদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রভাব নিয়ে সরব লোথার ম্যাথিউস

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৬:৪৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৩ জন দেখেছে

বিশ্বকাপ থেকে জার্মানির হতাশাজনক বিদায়ে ফুটবল বিশ্বে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে এবার মুখ খুলেছেন জার্মান ফুটবলের কিংবদন্তি এবং সাবেক অধিনায়ক লোথার ম্যাথিউস। তার দাবি, জাতীয় দলের ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও বান্ধবীদের (ওয়াগস) মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই জার্মানির পারফরম্যান্সে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ম্যাথিউসের মতে, মাঠের ফুটবলের চেয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়গুলো সামলাতেই খেলোয়াড়দের বেশি সময় ব্যয় করতে হয়েছে, যা দলের মনোযোগ নষ্ট করেছে।

১৯৯০ সালে জার্মানিকে বিশ্বকাপ জেতানো এই অধিনায়ক ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, সেবারও খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্যস্ততার কারণে মাঠের পারফরম্যান্সে ধস নেমেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে বুলগেরিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপে জার্মান শিবিরেও প্রায় একই ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করেছেন তিনি। হোটেল বুকিং, যাতায়াত এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল, যেখানে কেউ কেউ বাড়তি সুবিধা পাওয়ায় অন্যদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ম্যাথিউসের ভাষায়, এটি ছিল অনেকটা ‘ফ্যামিলি ডে’র মতো, যেখানে ফুটবলের চেয়ে পারিবারিক ব্যবস্থাপনা নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে।

শুধু খেলোয়াড়দের পরিবার নয়, বরং কোচ হুলিয়ান নাগেলসমানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ম্যাথিউস। বিশেষ করে কোচ নাগেলসমানের বান্ধবী লেনা ভুরৎসেনবার্গারের নিয়মিত দলের ক্যাম্পে উপস্থিতি এবং অনুশীলনে তার সরব অবস্থানকে তিনি ‘অনভিপ্রেত’ বলে মন্তব্য করেছেন। ম্যাথিউসের মতে, কোচের ব্যক্তিগত সঙ্গীর উপস্থিতি খেলোয়াড়দের স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট করতে পারে, কারণ দলের ভেতরে কোচকে নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা তখন কঠিন হয়ে পড়ে।

যদিও বিশ্বকাপের বিপর্যয়ের পর নাগেলসমানের পদত্যাগ নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, তবে প্রধান কোচ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি এখনই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না। ম্যাথিউস অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ না করে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর নিয়ম জারির আহ্বান জানিয়েছেন। তার প্রস্তাবনা অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি সীমিত রাখা উচিত এবং কেবল কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই তাদের দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব এবং মাঠের মনোযোগ ধরে রাখতে এই শৃঙ্খলা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

জনপ্রিয়

খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসী আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযান: বিপুল গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম উদ্ধার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জার্মানির অকাল বিদায়: ফুটবলারদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রভাব নিয়ে সরব লোথার ম্যাথিউস

আপডেট : ০৬:৪৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ থেকে জার্মানির হতাশাজনক বিদায়ে ফুটবল বিশ্বে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে এবার মুখ খুলেছেন জার্মান ফুটবলের কিংবদন্তি এবং সাবেক অধিনায়ক লোথার ম্যাথিউস। তার দাবি, জাতীয় দলের ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও বান্ধবীদের (ওয়াগস) মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই জার্মানির পারফরম্যান্সে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ম্যাথিউসের মতে, মাঠের ফুটবলের চেয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়গুলো সামলাতেই খেলোয়াড়দের বেশি সময় ব্যয় করতে হয়েছে, যা দলের মনোযোগ নষ্ট করেছে।

১৯৯০ সালে জার্মানিকে বিশ্বকাপ জেতানো এই অধিনায়ক ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, সেবারও খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্যস্ততার কারণে মাঠের পারফরম্যান্সে ধস নেমেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে বুলগেরিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপে জার্মান শিবিরেও প্রায় একই ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করেছেন তিনি। হোটেল বুকিং, যাতায়াত এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল, যেখানে কেউ কেউ বাড়তি সুবিধা পাওয়ায় অন্যদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ম্যাথিউসের ভাষায়, এটি ছিল অনেকটা ‘ফ্যামিলি ডে’র মতো, যেখানে ফুটবলের চেয়ে পারিবারিক ব্যবস্থাপনা নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে।

শুধু খেলোয়াড়দের পরিবার নয়, বরং কোচ হুলিয়ান নাগেলসমানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ম্যাথিউস। বিশেষ করে কোচ নাগেলসমানের বান্ধবী লেনা ভুরৎসেনবার্গারের নিয়মিত দলের ক্যাম্পে উপস্থিতি এবং অনুশীলনে তার সরব অবস্থানকে তিনি ‘অনভিপ্রেত’ বলে মন্তব্য করেছেন। ম্যাথিউসের মতে, কোচের ব্যক্তিগত সঙ্গীর উপস্থিতি খেলোয়াড়দের স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট করতে পারে, কারণ দলের ভেতরে কোচকে নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা তখন কঠিন হয়ে পড়ে।

যদিও বিশ্বকাপের বিপর্যয়ের পর নাগেলসমানের পদত্যাগ নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, তবে প্রধান কোচ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি এখনই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না। ম্যাথিউস অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ না করে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর নিয়ম জারির আহ্বান জানিয়েছেন। তার প্রস্তাবনা অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি সীমিত রাখা উচিত এবং কেবল কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই তাদের দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব এবং মাঠের মনোযোগ ধরে রাখতে এই শৃঙ্খলা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।