Hi

০১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক কারবারি কালাম গ্রেপ্তার

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মহিশালবাড়ী সাগরপাড়া গ্রামের চিহ্নিত শীর্ষ মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও গোদাগাড়ী থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গোদাগাড়ীর মাদক কারবারিদের অপতৎপরতা নিয়ে গত ১৫ জুলাই দৈনিক সানশাইন পত্রিকার মাল্টিমিডিয়ায় একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খবরটি প্রচারের পর পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং অপরাধীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নামে।

এরই মধ্যে থানায় বসে থাকা অবস্থায় কালাম ও তার স্ত্রীর একটি ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে আবুল কালাম আজাদ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই দিন তার স্ত্রী আরমিনা আক্তারও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে মুঠোফোনে হুমকি দেন।

বিষয়টি রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ ও রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানের নজরে আসলে ডিআইজির বিশেষ নির্দেশনায় তাকে গ্রেপ্তারে জোরদার অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে হেরোইন ব্যবসার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

তবে সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আবারও মাদক ব্যবসা শুরুর পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠনের অর্থের জোগানদাতা হিসেবেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ জানিয়েছে, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মাদক মামলায় ইতিপূর্বে তার যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডও হয়েছিল।

তবে পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও একই অপরাধ চক্রে জড়িয়ে পড়েন। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত তার এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বর্তমানে গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আজাদ।
তাকে আইনের আওতায় এনে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

মামার বাড়ি বেড়াতে নদীতে নিখোঁজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক কারবারি কালাম গ্রেপ্তার

আপডেট : ১১:৪৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মহিশালবাড়ী সাগরপাড়া গ্রামের চিহ্নিত শীর্ষ মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও গোদাগাড়ী থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গোদাগাড়ীর মাদক কারবারিদের অপতৎপরতা নিয়ে গত ১৫ জুলাই দৈনিক সানশাইন পত্রিকার মাল্টিমিডিয়ায় একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খবরটি প্রচারের পর পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং অপরাধীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নামে।

এরই মধ্যে থানায় বসে থাকা অবস্থায় কালাম ও তার স্ত্রীর একটি ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে আবুল কালাম আজাদ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই দিন তার স্ত্রী আরমিনা আক্তারও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে মুঠোফোনে হুমকি দেন।

বিষয়টি রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ ও রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানের নজরে আসলে ডিআইজির বিশেষ নির্দেশনায় তাকে গ্রেপ্তারে জোরদার অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে হেরোইন ব্যবসার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

তবে সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আবারও মাদক ব্যবসা শুরুর পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠনের অর্থের জোগানদাতা হিসেবেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ জানিয়েছে, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মাদক মামলায় ইতিপূর্বে তার যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডও হয়েছিল।

তবে পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও একই অপরাধ চক্রে জড়িয়ে পড়েন। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত তার এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বর্তমানে গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আজাদ।
তাকে আইনের আওতায় এনে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।