জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদ-উল আমীন অডিটরিয়ামে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে শুরুর দিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাগরণী সংগীত পরিবেশন করা হয়।
বক্তব্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের নানা আন্দোলন ও সংকটময় মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অসামান্য অবদান রেখেছেন। শিক্ষার্থীদের সেই ঐতিহাসিক ধারা বজায় রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু ক্যারিয়ারের চিন্তা করলেই চলবে না, বরং দেশ ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা অর্জন করাও জরুরি। নিজেদের অর্জিত মেধা ও দক্ষতা দেশের কল্যাণে ব্যবহারের পাশাপাশি জুলাইয়ের স্পিরিট বা চেতনাকে সমুন্নত রেখে একটি মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম নবীনদের অভিনন্দন জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন যে, কেবল পরীক্ষার ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যেই যেন তাদের লক্ষ্য সীমাবদ্ধ না থাকে। একজন শিক্ষার্থীকে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সঙ্গে পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক, খেলাধুলা ও সাহিত্যচর্চার মতো সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার পরামর্শ দেন উপাচার্য।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল করিম বক্তব্য রাখেন। নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শারমিন মূসা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া বিভাগের পরিচিতি তুলে ধরেন প্রভাষক আশিকুর রহমান সমী এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন সাদিয়া আক্তার। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের প্রভাষক জান্নাতুন নাহার ঝিনু ও অনিকা তাবাসসুম।
রিপোর্টার নাম: 
























