Hi

০৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার ও মিছিল নিষিদ্ধ: নতুন আচরণবিধি জারি করল নির্বাচন কমিশন

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:০১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ জন দেখেছে

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই বিধিমালার গেজেট প্রকাশিত হয়। নতুন এই নীতিমালায় নির্বাচনী প্রচারণার ধরনে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো পোস্টার ব্যবহার ও মিছিল নিষিদ্ধ করা।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া দেয়াল, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু বা কালভার্টে প্রচারসামগ্রী লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রকাশ্য মিছিল বা শোডাউন করা যাবে না। এমনকি ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান বা ট্রেন ব্যবহার করে শোভাযাত্রা করাও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নির্বাচনী প্রচারণায় আকাশযান বা হেলিকপ্টার ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালাতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, তা আগেভাগেই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থ প্রার্থীর মোট নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অপব্যবহার রোধে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকরা এআই ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক কোনো কনটেন্ট প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে পারে এমন যেকোনো ভুয়া তথ্য বা কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার বিতরণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।

ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ। সরকারি সুযোগ-সুবিধা, যানবাহন বা সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহার করা যাবে না।

নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আরও সুসংহত করা হয়েছে। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিশন তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও কমিশনের হাতে থাকবে।

বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান হিসেবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং সরকারি সুবিধা নিয়ে প্রচার চালানোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই নতুন বিধিমালা প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নির্বাচনী প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।

জনপ্রিয়

উপজেলাভিত্তিক হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, জানালেন ইসি সচিব

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার ও মিছিল নিষিদ্ধ: নতুন আচরণবিধি জারি করল নির্বাচন কমিশন

আপডেট : ১১:০১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই বিধিমালার গেজেট প্রকাশিত হয়। নতুন এই নীতিমালায় নির্বাচনী প্রচারণার ধরনে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো পোস্টার ব্যবহার ও মিছিল নিষিদ্ধ করা।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া দেয়াল, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু বা কালভার্টে প্রচারসামগ্রী লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রকাশ্য মিছিল বা শোডাউন করা যাবে না। এমনকি ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান বা ট্রেন ব্যবহার করে শোভাযাত্রা করাও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নির্বাচনী প্রচারণায় আকাশযান বা হেলিকপ্টার ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালাতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, তা আগেভাগেই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থ প্রার্থীর মোট নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অপব্যবহার রোধে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকরা এআই ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক কোনো কনটেন্ট প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে পারে এমন যেকোনো ভুয়া তথ্য বা কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার বিতরণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।

ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ। সরকারি সুযোগ-সুবিধা, যানবাহন বা সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহার করা যাবে না।

নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আরও সুসংহত করা হয়েছে। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিশন তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও কমিশনের হাতে থাকবে।

বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান হিসেবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং সরকারি সুবিধা নিয়ে প্রচার চালানোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই নতুন বিধিমালা প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নির্বাচনী প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।