Hi

০৩:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড়: বারবার ছাড় দিয়েও মিলছে না সুফল

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:৫৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ জন দেখেছে

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের উদ্বেগজনক ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায়, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জুন পর্যন্ত তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এই অংক ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছিল, যা ছিল মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বেক্সিমকো ও সিকদার গ্রুপের মতো বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ায় খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা, যা মাত্র ছয় মাস আগে ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। বর্তমানে শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ৪৬ লাখে দাঁড়িয়েছে।

বিপুল এই খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহজ শর্তে ঋণ পুনঃতফসিল, ওয়ান-টাইম এক্সিট সুবিধা ও ঋণ অবলোপনসহ নানা নীতিগত সহায়তা প্রদান করেছে। তবে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, অনেক ঋণগ্রহীতা প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার সামর্থ্যও রাখেন না, যার ফলে পুনঃতফসিল নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া সুদ জমতে থাকায় খেলাপি ঋণের মোট অংক আরও বাড়ছে।

ব্যাংকিং খাতের নাজুক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করেছে। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক বাদে বাকি চারটি ব্যাংকে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের প্রভাব ছিল। অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, খেলাপিদের বারবার ছাড় দেওয়ার ফলে বাজারে ভুল বার্তা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষকে কঠোর বার্তা দিতে হবে যে বারবার নিয়ন্ত্রক ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যথায় এটি আর্থিক খাতে পদ্ধতিগত ঝুঁকি বাড়াবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্বকে দুর্বল করে দেবে।’

একজন বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বড় ঋণগ্রহীতাদের অনেকেই এখন ব্যবসায় নেই, ফলে ঋণ আদায় কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি পরামর্শ দেন, ঋণগ্রহীতার ধরন বুঝে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা প্রয়োজন। ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘ঋণ আদায়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিনিষেধের পাশাপাশি ব্যাংকারদের বাস্তবভিত্তিক ও প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সক্রিয় হতে হবে। এমন সমাধান খুঁজতে হবে যা প্রতিষ্ঠানের মূল্য ধরে রেখে সব অংশীজনের স্বার্থ রক্ষা করবে।’

বর্তমানে খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ অনুসরণ করছে। তবে ঋণগ্রহীতাদের বারবার সময় দেওয়া এবং ডাউন পেমেন্ট না নেওয়ার প্রবণতা আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিএনপির ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি কেবল কাগজেই। চাকরির আরও তথ্য: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ২ সচিব নিয়োগ, দুই বিভাগের একীভূতকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধে ট্রাম্পের উদ্যোগ আবারও আটকে দিলো আদালত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিরাপত্তার দাবিতে ঢাকা-জামালপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময়ে খেলাপি ঋণের অনুপাত ছিল ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। চাকরির আরও তথ্য: ফলে পুনঃতফসিলের অনেক আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে ব্যাংকগুলো ঋণ আদায়ে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ৫ টাকার কোনো ঋণ সুদসহ বেড়ে ১৫ টাকা ও মেয়াদোত্তীর্ণ হলে, ব্যাংক পুরো ১৫ টাকা দাবি না করে ৮ টাকায় নিষ্পত্তির কথা বিবেচনা করতে পারে।

জনপ্রিয়

সাংবাদিকতায় নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিলেন আন্দালিব রহমান পার্থ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড়: বারবার ছাড় দিয়েও মিলছে না সুফল

আপডেট : ১১:৫৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের উদ্বেগজনক ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায়, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জুন পর্যন্ত তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এই অংক ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছিল, যা ছিল মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বেক্সিমকো ও সিকদার গ্রুপের মতো বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ায় খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা, যা মাত্র ছয় মাস আগে ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। বর্তমানে শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ৪৬ লাখে দাঁড়িয়েছে।

বিপুল এই খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহজ শর্তে ঋণ পুনঃতফসিল, ওয়ান-টাইম এক্সিট সুবিধা ও ঋণ অবলোপনসহ নানা নীতিগত সহায়তা প্রদান করেছে। তবে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, অনেক ঋণগ্রহীতা প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার সামর্থ্যও রাখেন না, যার ফলে পুনঃতফসিল নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া সুদ জমতে থাকায় খেলাপি ঋণের মোট অংক আরও বাড়ছে।

ব্যাংকিং খাতের নাজুক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করেছে। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক বাদে বাকি চারটি ব্যাংকে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের প্রভাব ছিল। অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, খেলাপিদের বারবার ছাড় দেওয়ার ফলে বাজারে ভুল বার্তা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষকে কঠোর বার্তা দিতে হবে যে বারবার নিয়ন্ত্রক ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যথায় এটি আর্থিক খাতে পদ্ধতিগত ঝুঁকি বাড়াবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্বকে দুর্বল করে দেবে।’

একজন বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বড় ঋণগ্রহীতাদের অনেকেই এখন ব্যবসায় নেই, ফলে ঋণ আদায় কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি পরামর্শ দেন, ঋণগ্রহীতার ধরন বুঝে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা প্রয়োজন। ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘ঋণ আদায়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিনিষেধের পাশাপাশি ব্যাংকারদের বাস্তবভিত্তিক ও প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সক্রিয় হতে হবে। এমন সমাধান খুঁজতে হবে যা প্রতিষ্ঠানের মূল্য ধরে রেখে সব অংশীজনের স্বার্থ রক্ষা করবে।’

বর্তমানে খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ অনুসরণ করছে। তবে ঋণগ্রহীতাদের বারবার সময় দেওয়া এবং ডাউন পেমেন্ট না নেওয়ার প্রবণতা আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিএনপির ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি কেবল কাগজেই। চাকরির আরও তথ্য: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ২ সচিব নিয়োগ, দুই বিভাগের একীভূতকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধে ট্রাম্পের উদ্যোগ আবারও আটকে দিলো আদালত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিরাপত্তার দাবিতে ঢাকা-জামালপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময়ে খেলাপি ঋণের অনুপাত ছিল ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। চাকরির আরও তথ্য: ফলে পুনঃতফসিলের অনেক আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে ব্যাংকগুলো ঋণ আদায়ে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ৫ টাকার কোনো ঋণ সুদসহ বেড়ে ১৫ টাকা ও মেয়াদোত্তীর্ণ হলে, ব্যাংক পুরো ১৫ টাকা দাবি না করে ৮ টাকায় নিষ্পত্তির কথা বিবেচনা করতে পারে।