Hi

০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে চারজনের প্রাণহানি: ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের তথ্যে অমিল

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের বক্তব্যের কিছুটা অমিল পাওয়া গেছে। সোমবার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, ভিকটিমদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি অনুযায়ী, একজনের চোয়াল ভেঙে যাওয়ার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি। এছাড়া লাশের চেহারা এসিডে ঝলসে যাওয়ার যে গুঞ্জন রয়েছে, তা-ও ময়নাতদন্তে প্রমাণিত হয়নি। চিকিৎসকের মতে, দীর্ঘ সময় লাশ পড়ে থাকার কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের নমুনা সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান। এর আগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, আগামী চক্রবর্তীর গলা ও মুখে রশি পেঁচিয়ে টানার ফলে তার চোখ বেরিয়ে আসে এবং চোয়াল ভেঙে যায়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে স্বজনরা কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের নিথর দেহ উদ্ধার করে। ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় নিচে দেওয়া হলো

  1. আগামী চক্রবর্তী (২৫), যিনি গণপতি চক্রবর্তীর কন্যা।
  2. প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২), যে রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত এবং দোতলার শোবার ঘরে তার দেহ পাওয়া যায়।
  3. গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২), যাদের দেহ চিলেকোঠা ও সিঁড়িতে পাওয়া যায়।
  4. মুগ্ধ দাস (২৩), যাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে; সে মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে এবং সিটি বাজারে মাছের দোকানের কর্মচারী।
  5. সিদ্ধার্থ দাস (১৯), অপর গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি, যে স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করত এবং সম্পর্কে মুগ্ধ দাসের মামাতো ভাই।

এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার মোংলা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রংপুরে চারজনের প্রাণহানি: ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের তথ্যে অমিল

আপডেট : ০৪:১৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের বক্তব্যের কিছুটা অমিল পাওয়া গেছে। সোমবার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, ভিকটিমদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি অনুযায়ী, একজনের চোয়াল ভেঙে যাওয়ার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি। এছাড়া লাশের চেহারা এসিডে ঝলসে যাওয়ার যে গুঞ্জন রয়েছে, তা-ও ময়নাতদন্তে প্রমাণিত হয়নি। চিকিৎসকের মতে, দীর্ঘ সময় লাশ পড়ে থাকার কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের নমুনা সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান। এর আগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, আগামী চক্রবর্তীর গলা ও মুখে রশি পেঁচিয়ে টানার ফলে তার চোখ বেরিয়ে আসে এবং চোয়াল ভেঙে যায়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে স্বজনরা কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের নিথর দেহ উদ্ধার করে। ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় নিচে দেওয়া হলো

  1. আগামী চক্রবর্তী (২৫), যিনি গণপতি চক্রবর্তীর কন্যা।
  2. প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২), যে রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত এবং দোতলার শোবার ঘরে তার দেহ পাওয়া যায়।
  3. গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২), যাদের দেহ চিলেকোঠা ও সিঁড়িতে পাওয়া যায়।
  4. মুগ্ধ দাস (২৩), যাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে; সে মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে এবং সিটি বাজারে মাছের দোকানের কর্মচারী।
  5. সিদ্ধার্থ দাস (১৯), অপর গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি, যে স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করত এবং সম্পর্কে মুগ্ধ দাসের মামাতো ভাই।

এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।