Hi

০৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেক্ষাপট: মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে কাতারের বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘আলফু মুসলিমাহ

বিশ্বজুড়ে মুসলিম নারীদের জীবন, বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান এবং তাদের দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে কাতারের আল-মুজাদিলাহ সেন্টার অ্যান্ড মসজিদ ফর উইমেন ‘আলফু মুসলিমাহ’ নামে একটি বিশেষায়িত বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এডুকেশন সিটিতে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী-কেন্দ্রিক আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিহাসজুড়ে নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল, তা একটি যৌথ বিশ্বকোষের মাধ্যমে নথিবদ্ধ করা হবে।

প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রচলিত সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা, যা মনে করে যে ইতিহাসে নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তারকারী মুসলিম নারীরা কেবল ব্যতিক্রমী কিছু ব্যক্তি ছিলেন। এর পরিবর্তে, জ্ঞানচর্চা, রাজনীতি, সমাজসেবা, অর্থনীতি এবং পারিবারিক কাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে নারীদের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের ঐতিহ্যকে সামনে নিয়ে আসা হবে।

আল-মুজাদিলাহর রিসার্চ ম্যানেজার ড. নাজাহ নাদি জানান, তরুণ প্রজন্মের জন্য মুসলিম নারীদের আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই উদ্যোগের জন্ম। তিনি বলেন, “আমরা আবিষ্কার করেছি যে ইসলামী নেতৃত্বের মডেল ধারণকারী মুসলিম নারীদের পরিসর এতটাই বিস্তৃত যে, তাদের ব্যতিক্রমী নারী হওয়ার যে ধারণা রয়েছে, তা আর টেকে না।”

প্রকল্পটি ‘রিআয়া’ বা দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধানের ইসলামী ধারণার আলোকে নারীদের নেতৃত্বকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করবে। ড. নাজাহর মতে, মুসলিম নারীদের অবদান নতুন কোনো বিষয় নয়; তারা যুগ যুগ ধরে জ্ঞান উৎপাদন ও বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। এই ইতিহাস নথিবদ্ধ করা ইসলামের পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধির জন্য অপরিহার্য।

গবেষণার পরিধি সম্পর্কে জানানো হয়, এই উদ্যোগটি ইসলামী সভ্যতাভুক্ত বিশ্বের ১১টি বিস্তৃত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর মধ্যে রয়েছে আরবি ও ফার্সি-প্রভাবিত অঞ্চল, ভারতীয় উপমহাদেশ, তুর্কি অঞ্চল, সাব-সাহারান আফ্রিকা, মালয় দ্বীপপুঞ্জ, চীন ও পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, ইংরেজিভাষী দেশসমূহ, মূল ভূখণ্ডের ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল।

গবেষণার ক্ষেত্রে কেবল নারীদের নাম বা তথ্য সংগ্রহ করাই মূল লক্ষ্য নয়, বরং ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে তাদের কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সেই বর্ণনার বিবর্তন কীভাবে ঘটেছে, তাও বিশ্লেষণ করা হবে। ড. নাজাহর ভাষ্যমতে, “নারীদের সম্পর্কে নথি আছে কি না, আমরা শুধু সেটিই জানতে আগ্রহী নই; বরং নারীদের কীভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে, সেটিও আমাদের আগ্রহের বিষয়।”

এই গবেষণায় ৫০০টিরও বেশি জীবনী অভিধান, পাণ্ডুলিপি, আর্কাইভ এবং সমকালীন ও ধ্রুপদি বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করা হবে। আল-মুজাদিলাহ সেন্টার আশা করছে, এটি কেবল জীবনী সংকলন নয়, বরং ভবিষ্যতে মুসলিম নারীদের ইতিহাস নিয়ে গবেষণার একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে।

প্রকল্পটিতে অংশগ্রহণের জন্য বিশ্বজুড়ে গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের কাছে উন্মুক্ত প্রস্তাবনা আহ্বান করা হয়েছে। আবেদনকারীরা প্রকল্পের সুপারিশকৃত তালিকা থেকে অথবা নিজস্ব গবেষণার ক্ষেত্র থেকে নারীদের নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। প্রতিটি প্রস্তাবনা আরবি বা ইংরেজি ভাষায় জমা দেওয়া যাবে এবং একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি প্রস্তাবনা দিতে পারবেন।

প্রস্তাবনাগুলো প্রকল্পের গবেষণা-পদ্ধতি ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে। অংশগ্রহণকারীদের প্রচলিত জীবনী লেখার গণ্ডি পেরিয়ে ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও নেতৃত্বের ধরন বিশ্লেষণের ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া একাডেমিক গবেষণাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে তোলার জন্য গল্প বলা বা ভিজ্যুয়াল উপকরণের ব্যবহারকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এই উন্মুক্ত প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য আল-মুজাদিলাহর নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

পরিশেষে, ড. নাজাহ নাদি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগটি মুসলিম নারীদের অবদানের একটি সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় নথি তৈরি করবে। এটি ইতিহাসের উপেক্ষিত অংশগুলোকে সামনে আনার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে তাদের পূর্বসূরিদের নেতৃত্বের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে ও নিজেদের আত্মপরিচয় গঠনে সহায়তা করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উন্মুক্ত প্রস্তাবনার আহ্বানটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্প্রতি দ্যা পেনিনসুলায় এবিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রস্তাবগুলোর গবেষণাগত মান এবং প্রকল্পের গবেষণা-পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা যাচাই করা হবে।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

প্রেক্ষাপট: মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে কাতারের বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘আলফু মুসলিমাহ

আপডেট : ০২:৫০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বজুড়ে মুসলিম নারীদের জীবন, বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান এবং তাদের দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে কাতারের আল-মুজাদিলাহ সেন্টার অ্যান্ড মসজিদ ফর উইমেন ‘আলফু মুসলিমাহ’ নামে একটি বিশেষায়িত বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এডুকেশন সিটিতে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী-কেন্দ্রিক আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিহাসজুড়ে নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল, তা একটি যৌথ বিশ্বকোষের মাধ্যমে নথিবদ্ধ করা হবে।

প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রচলিত সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা, যা মনে করে যে ইতিহাসে নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তারকারী মুসলিম নারীরা কেবল ব্যতিক্রমী কিছু ব্যক্তি ছিলেন। এর পরিবর্তে, জ্ঞানচর্চা, রাজনীতি, সমাজসেবা, অর্থনীতি এবং পারিবারিক কাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে নারীদের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের ঐতিহ্যকে সামনে নিয়ে আসা হবে।

আল-মুজাদিলাহর রিসার্চ ম্যানেজার ড. নাজাহ নাদি জানান, তরুণ প্রজন্মের জন্য মুসলিম নারীদের আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই উদ্যোগের জন্ম। তিনি বলেন, “আমরা আবিষ্কার করেছি যে ইসলামী নেতৃত্বের মডেল ধারণকারী মুসলিম নারীদের পরিসর এতটাই বিস্তৃত যে, তাদের ব্যতিক্রমী নারী হওয়ার যে ধারণা রয়েছে, তা আর টেকে না।”

প্রকল্পটি ‘রিআয়া’ বা দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধানের ইসলামী ধারণার আলোকে নারীদের নেতৃত্বকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করবে। ড. নাজাহর মতে, মুসলিম নারীদের অবদান নতুন কোনো বিষয় নয়; তারা যুগ যুগ ধরে জ্ঞান উৎপাদন ও বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। এই ইতিহাস নথিবদ্ধ করা ইসলামের পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধির জন্য অপরিহার্য।

গবেষণার পরিধি সম্পর্কে জানানো হয়, এই উদ্যোগটি ইসলামী সভ্যতাভুক্ত বিশ্বের ১১টি বিস্তৃত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর মধ্যে রয়েছে আরবি ও ফার্সি-প্রভাবিত অঞ্চল, ভারতীয় উপমহাদেশ, তুর্কি অঞ্চল, সাব-সাহারান আফ্রিকা, মালয় দ্বীপপুঞ্জ, চীন ও পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, ইংরেজিভাষী দেশসমূহ, মূল ভূখণ্ডের ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল।

গবেষণার ক্ষেত্রে কেবল নারীদের নাম বা তথ্য সংগ্রহ করাই মূল লক্ষ্য নয়, বরং ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে তাদের কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সেই বর্ণনার বিবর্তন কীভাবে ঘটেছে, তাও বিশ্লেষণ করা হবে। ড. নাজাহর ভাষ্যমতে, “নারীদের সম্পর্কে নথি আছে কি না, আমরা শুধু সেটিই জানতে আগ্রহী নই; বরং নারীদের কীভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে, সেটিও আমাদের আগ্রহের বিষয়।”

এই গবেষণায় ৫০০টিরও বেশি জীবনী অভিধান, পাণ্ডুলিপি, আর্কাইভ এবং সমকালীন ও ধ্রুপদি বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করা হবে। আল-মুজাদিলাহ সেন্টার আশা করছে, এটি কেবল জীবনী সংকলন নয়, বরং ভবিষ্যতে মুসলিম নারীদের ইতিহাস নিয়ে গবেষণার একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে।

প্রকল্পটিতে অংশগ্রহণের জন্য বিশ্বজুড়ে গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের কাছে উন্মুক্ত প্রস্তাবনা আহ্বান করা হয়েছে। আবেদনকারীরা প্রকল্পের সুপারিশকৃত তালিকা থেকে অথবা নিজস্ব গবেষণার ক্ষেত্র থেকে নারীদের নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। প্রতিটি প্রস্তাবনা আরবি বা ইংরেজি ভাষায় জমা দেওয়া যাবে এবং একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি প্রস্তাবনা দিতে পারবেন।

প্রস্তাবনাগুলো প্রকল্পের গবেষণা-পদ্ধতি ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে। অংশগ্রহণকারীদের প্রচলিত জীবনী লেখার গণ্ডি পেরিয়ে ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও নেতৃত্বের ধরন বিশ্লেষণের ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া একাডেমিক গবেষণাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে তোলার জন্য গল্প বলা বা ভিজ্যুয়াল উপকরণের ব্যবহারকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এই উন্মুক্ত প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য আল-মুজাদিলাহর নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

পরিশেষে, ড. নাজাহ নাদি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগটি মুসলিম নারীদের অবদানের একটি সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় নথি তৈরি করবে। এটি ইতিহাসের উপেক্ষিত অংশগুলোকে সামনে আনার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে তাদের পূর্বসূরিদের নেতৃত্বের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে ও নিজেদের আত্মপরিচয় গঠনে সহায়তা করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উন্মুক্ত প্রস্তাবনার আহ্বানটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্প্রতি দ্যা পেনিনসুলায় এবিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রস্তাবগুলোর গবেষণাগত মান এবং প্রকল্পের গবেষণা-পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা যাচাই করা হবে।