পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির এই যুগে জনগণের প্রত্যাশার সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে এবং নতুন সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল আধুনিকায়ন ও কাঠামোগত রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সোমবার (১৭ আগস্ট) জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের ‘মুনসুন রিভল্যুশন অডিটোরিয়াম’-এ আয়োজিত ‘গণমাধ্যম, গণআকাঙ্ক্ষা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তাগিদ দেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং স্মার্ট ডিভাইসের ব্যাপক প্রসার সভ্যতার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। গত এক হাজার বছরে সমাজে যে পরিমাণ পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, ডিজিটাল রূপান্তরের তীব্রতার কারণে গত ২০-২৫ বছরে তার চেয়েও বেশি পরিবর্তন ঘটেছে। আগে কেবল সরকার নিয়ন্ত্রিত বা নিবন্ধিত মাধ্যমগুলোকেই গণকণ্ঠ হিসেবে গণ্য করা হতো, কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে জনগণের স্বতস্ফূর্ত কণ্ঠস্বর ও আকাঙ্ক্ষা সরাসরি প্রতিফলিত হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, বিটিভি বা রেডিও’র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল কাঠামো ইন্টারনেট ও স্মার্ট ডিভাইস যুগের অনেক আগে গড়ে উঠেছিল। এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে দর্শক-শ্রোতাদের নতুন চাহিদা, ক্লাউড প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন চ্যালেঞ্জগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন। জনগণের এই আকাঙ্ক্ষাকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে সঠিকভাবে তুলে ধরতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান, উপযুক্ত প্রযুক্তি এবং দক্ষতার সুসংহত প্রয়োগ জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সেমিনারে উপস্থাপিত সুচিন্তিত আলোচনা ও প্রস্তাবনাগুলো সরকারের নীতি নির্ধারণী রোডম্যাপ তৈরি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান (অতিরিক্ত সচিব, গ্রেড-১)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য ড. সায়মা ফেরদৌস এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। সেমিনারে গণমাধ্যম গবেষক, শিক্ষক, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার নাম: 























