ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন সাবেক তারকা ফুটবলার ও কোচ আন্দ্রেয়া পিরলো। ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) পক্ষ থেকে তাঁর নিয়োগ নিশ্চিতকরণের প্রক্রিয়া চললেও, একটি রাশিয়ান বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। রাজনৈতিক মহল ও দেশের ক্রীড়া প্রশাসনের একাংশ পিরলোর এই বাণিজ্যিক সংশ্রব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত অক্টোবরে, যখন পিরলো রাশিয়ার স্পোর্টস বেটিং প্রতিষ্ঠান ‘ফনবেত’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বা শুভেচ্ছা দূত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন। পরবর্তীতে সাবেক ইতালি সতীর্থ মার্কো মাতেরাজ্জির সঙ্গে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ওই প্রতিষ্ঠানের এক প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নেন তিনি। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কিংবা সেখানকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রচারে যুক্ত হওয়াকে স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন না ইতালির নীতি নির্ধারকরা। এই বাণিজ্যিক পদক্ষেপ জাতীয় দল ও পুরো ইতালীয় ফুটবলের ভাবমূর্তিকে সংকেটের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে পিরলোর এই নিয়োগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট পিনা পিচেয়ার্নো এক কড়া প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিশ্বমঞ্চে একাধিকবার ব্যর্থতার পর ইতালীয় ফুটবলে নৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু পিরলোর মতো বিতর্কিত বাণিজ্যিক চুক্তিতে যুক্ত কাউকে বেছে নেওয়া সেই প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত। সিনেট প্রধান ও ইতালীয় প্রধানমন্ত্রীর দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতা ইগনাৎসিও লা রুসা এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্ধকারে ঝাঁপ দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। অন্যদিকে মধ্যপন্থী দল আৎসিওনের নেতা কার্লো কালেন্দা সরাসরি মন্তব্য করেন যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব রাখা কোনো দেশের বাণিজ্যিক সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জাতীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক পদে রাখা অনুচিত।
মূলত ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের নতুন সভাপতি জিওভান্নি মালাগোর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এই জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আজ্জুরিদের প্রশিক্ষক হিসেবে প্রথম পছন্দ ছিলেন হাই-প্রোফাইল কোচ পেপ গার্দিওলা। তবে গার্দিওলা অপারগতা প্রকাশ করায় নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনির সমর্থনে ৪৭ বছর বয়সী পিরলোকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব ইউনাইটেড এফসির দায়িত্বে থাকা পিরলো ফুটবল ইতালিকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে আসছিলেন। পরপর তিনটি বিশ্বকাপে মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইতালি ফুটবল এমনিতেই প্রশাসনিক চাপে রয়েছে, আর এই নতুন বিতর্ক সেই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
উদ্ভূত বিতর্কের মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আন্দ্রেয়া পিরলো। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাজের সুবাদেই সম্পূর্ণ পেশাদার ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তিনি ওই চুক্তি করেছিলেন। সেখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা মতাদর্শের প্রতিফলন ছিল না। দেশের আইন ও পেশাগত বাধ্যবাধকতা মেনেই তিনি বরাবর কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। বর্তমানে রয়টার্সের সূত্রমতে, পুরো বিষয়টি ফুটবল ফেডারেশন অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনার অধীনে রেখেছে এবং এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
রিপোর্টার নাম: 





















