ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে সম্মতি জানিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার আন্দ্রেয়া পিরলো। এর আগে কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলার মতো বিশ্বখ্যাত কোচদের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা বিভিন্ন কারণে সেই দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বর্তমান বাস্তবতায় চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি দলের পুনর্গঠন ও আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার লক্ষ্যেই পিরলোর ওপর আস্থা রাখতে চলেছে ইতালি ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)।
ইতালির প্রভাবশালী ক্রীড়া দৈনিক ‘লা গাজেত্তা দেয়ো স্পোর্ত’ এবং ‘কোরিয়ে দেয়ো স্পোর্ত’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, গার্দিওলা ও আনচেলত্তির প্রত্যাখানের পর ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি এবং বিশেষ উপদেষ্টা লিওনার্দো সরাসরি যোগাযোগ করেন পিরলোর সঙ্গে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের এই তারকা মিডফিল্ডার অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দিয়ে এই গুরুদায়িত্ব পালনে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেন। দীর্ঘ ১৩ বছর ‘আজ্জুরি’ জার্সিতে মাঠের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়া পিরলোর ফুটবলীয় দর্শন ও কৌশলগত বোঝাপড়া ফেডারেশনের শীর্ষকর্তাদের মন জয় করেছে।
গত বৃহস্পতিবার সিরি ‘আ’র এক বৈঠকে মালদিনি ও লিওনার্দো তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। সেখানে তারা এমন একজন কোচ খুঁজছিলেন যিনি ইতালিয়ান ফুটবলের নাড়িনক্ষত্র জানেন এবং আধুনিক যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দল পরিচালনা করতে সক্ষম। বর্তমান সময়ে দুবাই ইউনাইটেডের কোচের দায়িত্বে থাকা ৪৭ বছর বয়সী পিরলো অতীতে জুভেন্টাসের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। তারুণ্যদীপ্ত ও আধুনিক ধারার ফুটবল চিন্তার কারণে আন্তোনিও কন্তে কিংবা রবার্তো মানচিনির মতো রক্ষণশীল বা মেজাজি কোচের চেয়ে পিরলোকেই বেশি উপযোগী মনে করছেন কর্তারা।
উল্লেখ্য, ইতালি দল গত পরপর তিনটি বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, যা ঐতিহ্যবাহী ইতালিয়ান ফুটবলের জন্য বড় একটি ধাক্কা। এই খরা কাটিয়ে উঠতে এবং ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে একটি শক্তিশালী দল গঠন করতে চায় এফআইজিসি। পিরলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে এবং তার বেতনও পূর্বসূরিদের তুলনায় সাশ্রয়ী হতে পারে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের ফেডারেল কাউন্সিলের বৈঠকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হতে পারে এবং বড় কোনো জটিলতা না থাকলে পিরলোর হাতেই উঠবে ইতালির ডাগআউটের নিয়ন্ত্রণ।
রিপোর্টার নাম: 
























