Hi

০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ ফুটবলে ৩৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন উনাই সিমোন

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে গোলরক্ষকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো নিজের জাল অক্ষত রাখা। সেই চ্যালেঞ্জেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেলেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের দিনে তিনি ভেঙে দিলেন ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ওয়াল্টার জেঙ্গার ১৯৯০ বিশ্বকাপে গড়া টানা ৫১৭ মিনিট গোল না খাওয়ার ঐতিহাসিক রেকর্ড। সিমোনের এই কীর্তি কেবল একটি সংখ্যার পরিবর্তন নয়, বরং এটি স্পেনের বর্তমান রক্ষণভাগের অদম্য মানসিকতা ও তার ব্যক্তিগত একাগ্রতার এক অনন্য নিদর্শন।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি ছিল সিমোনের জন্য তিক্ত। মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার সেই বিষাদময় অধ্যায় তিনি পেছনে ফেলেছেন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। জাপানের বিপক্ষে হারের পর থেকে শুরু হওয়া তাঁর গোল না খাওয়ার সেই ধারা ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে পূর্ণতা পেল। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দে, সৌদি আরব ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও স্পেনের রক্ষণভাগকে তিনি রেখেছেন সুরক্ষিত। টানা চার ম্যাচে ক্লিন শিট এবং মোট ৫১৭ মিনিটের বেশি সময় গোল হজম না করে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল সিমোনের জন্য মাইলফলক স্পর্শ করার মঞ্চ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকেই তিনি ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে ইকার ক্যাসিয়াসের গড়া ৪৭৬ মিনিটের স্প্যানিশ রেকর্ড অতিক্রম করেন। এরপর ওয়াল্টার জেঙ্গার দীর্ঘ ৩৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে যখন মাঠের বড় পর্দায় সেটি প্রদর্শিত হলো, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের উল্লাস ছিল বাঁধভাঙা। সিমোন অবশ্য নিজের কৃতিত্বের চেয়ে দলের ঐক্যের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ম্যাচের পর তিনি সতীর্থদের পজিশন ঠিক রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রমাণ করেছেন, একজন গোলরক্ষকের মূল শক্তি তাঁর রক্ষণভাগের সাথে যোগাযোগ এবং বোঝাপড়ায়।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে সিমোনের এই উত্থান যেন এক রূপকথার গল্প। ২০১৫ সাল থেকে দে লা ফুয়েন্তের সাথে কাজ করা সিমোন যুব পর্যায় থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ২০২৩ নেশনস লিগ এবং ২০২৪ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেনের স্বপ্নের সারথি হয়ে উঠেছেন তিনি। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে যখন গোলবন্যা দেখা যায়, তখন সিমোনের এই ‘দুর্ভেদ্য প্রাচীর’ হয়ে ওঠার গল্পটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই দুর্দান্ত ফর্ম স্পেনকে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয়

জামায়াতের শরিয়াহ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়: মির্জা ফখরুল

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বিশ্বকাপ ফুটবলে ৩৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন উনাই সিমোন

আপডেট : ০৫:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে গোলরক্ষকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো নিজের জাল অক্ষত রাখা। সেই চ্যালেঞ্জেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেলেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের দিনে তিনি ভেঙে দিলেন ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ওয়াল্টার জেঙ্গার ১৯৯০ বিশ্বকাপে গড়া টানা ৫১৭ মিনিট গোল না খাওয়ার ঐতিহাসিক রেকর্ড। সিমোনের এই কীর্তি কেবল একটি সংখ্যার পরিবর্তন নয়, বরং এটি স্পেনের বর্তমান রক্ষণভাগের অদম্য মানসিকতা ও তার ব্যক্তিগত একাগ্রতার এক অনন্য নিদর্শন।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি ছিল সিমোনের জন্য তিক্ত। মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার সেই বিষাদময় অধ্যায় তিনি পেছনে ফেলেছেন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। জাপানের বিপক্ষে হারের পর থেকে শুরু হওয়া তাঁর গোল না খাওয়ার সেই ধারা ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে পূর্ণতা পেল। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দে, সৌদি আরব ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও স্পেনের রক্ষণভাগকে তিনি রেখেছেন সুরক্ষিত। টানা চার ম্যাচে ক্লিন শিট এবং মোট ৫১৭ মিনিটের বেশি সময় গোল হজম না করে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল সিমোনের জন্য মাইলফলক স্পর্শ করার মঞ্চ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকেই তিনি ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে ইকার ক্যাসিয়াসের গড়া ৪৭৬ মিনিটের স্প্যানিশ রেকর্ড অতিক্রম করেন। এরপর ওয়াল্টার জেঙ্গার দীর্ঘ ৩৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে যখন মাঠের বড় পর্দায় সেটি প্রদর্শিত হলো, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের উল্লাস ছিল বাঁধভাঙা। সিমোন অবশ্য নিজের কৃতিত্বের চেয়ে দলের ঐক্যের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ম্যাচের পর তিনি সতীর্থদের পজিশন ঠিক রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রমাণ করেছেন, একজন গোলরক্ষকের মূল শক্তি তাঁর রক্ষণভাগের সাথে যোগাযোগ এবং বোঝাপড়ায়।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে সিমোনের এই উত্থান যেন এক রূপকথার গল্প। ২০১৫ সাল থেকে দে লা ফুয়েন্তের সাথে কাজ করা সিমোন যুব পর্যায় থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ২০২৩ নেশনস লিগ এবং ২০২৪ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেনের স্বপ্নের সারথি হয়ে উঠেছেন তিনি। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে যখন গোলবন্যা দেখা যায়, তখন সিমোনের এই ‘দুর্ভেদ্য প্রাচীর’ হয়ে ওঠার গল্পটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই দুর্দান্ত ফর্ম স্পেনকে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।