Hi

১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগ একীভূত করার উদ্যোগ: নেপথ্যে কী?

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:৪৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১০ জন দেখেছে

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগকে একীভূত করে তিনটি বিভাগে রূপান্তরের একটি প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির সভায় এই চাঞ্চল্যকর প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়। মূলত একই ঘরানার এবং অতীতে একীভূত ছিল এমন বিভাগগুলোকে পুনরায় একত্রিত করার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগকে একটি ছাতার নিচে আনার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ, সংগীত এবং নৃত্যকলা বিভাগকে একত্রিত করার পাশাপাশি সংস্কৃত ও পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগকে পুনরায় একীভূত করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির গত ২২ জুনের সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, বিষয়টি সভার নির্ধারিত এজেন্ডায় না থাকলেও আলোচনার এক পর্যায়ে এটি উত্থাপিত হয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা নিজ নিজ বিভাগের চেয়ারম্যানদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করবেন এবং পরবর্তীতে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করবেন। এই আটটি বিভাগের মধ্যে বেশ কয়েকটি বিভাগ অতীতে মূল বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে নতুন পরিচয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে পালি বিভাগটি সংস্কৃত থেকে আলাদা হয় এবং ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগটি ২০০৯ সালে বিভক্ত হয়ে দুটি আলাদা সত্তা লাভ করে।

এই একীভূতকরণের নেপথ্যে বেশ কিছু যৌক্তিক ও প্রশাসনিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শীর্ষস্থানীয় শিক্ষক জানান, বেশ কিছু বিভাগে বর্তমানে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না এবং শ্রমবাজারে এসব বিভাগের ডিগ্রির চাহিদা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া অতীতে অনেক বিভাগ খোলা হয়েছিল কেবল শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের জন্য, যা বর্তমানে একাডেমিক উৎকর্ষের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা নিরসনে এই সংস্কার জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, এটি এখনো প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মতামত ও সম্মতির ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ডিনস কমিটির পরবর্তী সভায় এ নিয়ে আরও খোলামেলা আলোচনার সুযোগ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন একাডেমিক মানোন্নয়ন এবং সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের লক্ষ্যে এমন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইছে, যা উচ্চশিক্ষার মানকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে সাদা পোশাকে অভিযানে গিয়ে গণপিটুনির শিকার পুলিশ সদস্য ও সোর্স

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগ একীভূত করার উদ্যোগ: নেপথ্যে কী?

আপডেট : ০৮:৪৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগকে একীভূত করে তিনটি বিভাগে রূপান্তরের একটি প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির সভায় এই চাঞ্চল্যকর প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়। মূলত একই ঘরানার এবং অতীতে একীভূত ছিল এমন বিভাগগুলোকে পুনরায় একত্রিত করার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগকে একটি ছাতার নিচে আনার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ, সংগীত এবং নৃত্যকলা বিভাগকে একত্রিত করার পাশাপাশি সংস্কৃত ও পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগকে পুনরায় একীভূত করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির গত ২২ জুনের সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, বিষয়টি সভার নির্ধারিত এজেন্ডায় না থাকলেও আলোচনার এক পর্যায়ে এটি উত্থাপিত হয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা নিজ নিজ বিভাগের চেয়ারম্যানদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করবেন এবং পরবর্তীতে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করবেন। এই আটটি বিভাগের মধ্যে বেশ কয়েকটি বিভাগ অতীতে মূল বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে নতুন পরিচয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে পালি বিভাগটি সংস্কৃত থেকে আলাদা হয় এবং ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগটি ২০০৯ সালে বিভক্ত হয়ে দুটি আলাদা সত্তা লাভ করে।

এই একীভূতকরণের নেপথ্যে বেশ কিছু যৌক্তিক ও প্রশাসনিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শীর্ষস্থানীয় শিক্ষক জানান, বেশ কিছু বিভাগে বর্তমানে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না এবং শ্রমবাজারে এসব বিভাগের ডিগ্রির চাহিদা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া অতীতে অনেক বিভাগ খোলা হয়েছিল কেবল শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের জন্য, যা বর্তমানে একাডেমিক উৎকর্ষের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা নিরসনে এই সংস্কার জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, এটি এখনো প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মতামত ও সম্মতির ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ডিনস কমিটির পরবর্তী সভায় এ নিয়ে আরও খোলামেলা আলোচনার সুযোগ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন একাডেমিক মানোন্নয়ন এবং সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের লক্ষ্যে এমন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইছে, যা উচ্চশিক্ষার মানকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।