Hi

০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকট নিরসনে বাংলাদেশের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর কেন অপরিহার্য?

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১২:০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৫ জন দেখেছে

বাংলাদেশ বর্তমানে এক গভীর জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা কেবল বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি দেশের শিল্পকারখানা, কৃষি, রপ্তানি খাত এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। দীর্ঘকাল ধরে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর अत्यधिक নির্ভরশীলতার কারণে জাতীয় অর্থনীতি এক বড় ঝুঁকির সম্মুখীন। দেশের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশেরও বেশি আমদানিকৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরশীল, যা বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকা জ্বালানি ভর্তুকিতে ব্যয় হচ্ছে এবং বার্ষিক আমদানিতে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে, যা দেশের রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

বিদ্যমান সংকটের প্রভাব পোশাক শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে স্পষ্ট। গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে, যা রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া গ্রামীণ জনপদে নিয়মিত লোডশেডিং শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করছে। গত ১৫ বছরে বিদ্যুতের দাম বারবার সমন্বয় করা হলেও জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর এই পথটি টেকসই নয়। এর বিপরীতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরশক্তি একটি দীর্ঘমেয়াদী ও সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে। একবার বিনিয়োগ করলে ১৫ থেকে ২০ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি খরচ প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান ৫ শতাংশেরও কম, যা ২০৩০ সালের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় খুবই নগণ্য। এই রূপান্তরের পথে প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের ওপর উচ্চ আমদানি শুল্ক, যা অনেক ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনের মতো দেশগুলো শুল্ক ছাড় ও সহজ শর্তে ঋণের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশেও শুল্ক কাঠামো সংস্কার, আমদানিকৃত সরঞ্জামের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনা এবং কর অবকাশের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ছাদে অব্যবহৃত বিশাল জায়গা ব্যবহার করে ৩০০ গিগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া স্থগিত থাকা ৩১টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত চালু করা, গ্রিড আধুনিকায়ন এবং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির মতো এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমে শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি-কে মোবাইল এনার্জি স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করে দেশের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকর নীতি সহায়তা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই পারে বাংলাদেশকে একটি টেকসই ও জ্বালানি-স্বনির্ভর অর্থনীতির পথে এগিয়ে নিতে।

জনপ্রিয়

বেলজিয়ামকে স্তব্ধ করে সেনেগালের দাপুটে জয়: রাউন্ড অব ৩২-এ ইতিহাস গড়ার পথে আফ্রিকানরা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জ্বালানি সংকট নিরসনে বাংলাদেশের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর কেন অপরিহার্য?

আপডেট : ১২:০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ বর্তমানে এক গভীর জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা কেবল বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি দেশের শিল্পকারখানা, কৃষি, রপ্তানি খাত এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। দীর্ঘকাল ধরে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর अत्यधिक নির্ভরশীলতার কারণে জাতীয় অর্থনীতি এক বড় ঝুঁকির সম্মুখীন। দেশের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশেরও বেশি আমদানিকৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরশীল, যা বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকা জ্বালানি ভর্তুকিতে ব্যয় হচ্ছে এবং বার্ষিক আমদানিতে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে, যা দেশের রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

বিদ্যমান সংকটের প্রভাব পোশাক শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে স্পষ্ট। গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে, যা রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া গ্রামীণ জনপদে নিয়মিত লোডশেডিং শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করছে। গত ১৫ বছরে বিদ্যুতের দাম বারবার সমন্বয় করা হলেও জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর এই পথটি টেকসই নয়। এর বিপরীতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরশক্তি একটি দীর্ঘমেয়াদী ও সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে। একবার বিনিয়োগ করলে ১৫ থেকে ২০ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি খরচ প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান ৫ শতাংশেরও কম, যা ২০৩০ সালের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় খুবই নগণ্য। এই রূপান্তরের পথে প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের ওপর উচ্চ আমদানি শুল্ক, যা অনেক ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনের মতো দেশগুলো শুল্ক ছাড় ও সহজ শর্তে ঋণের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশেও শুল্ক কাঠামো সংস্কার, আমদানিকৃত সরঞ্জামের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনা এবং কর অবকাশের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ছাদে অব্যবহৃত বিশাল জায়গা ব্যবহার করে ৩০০ গিগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া স্থগিত থাকা ৩১টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত চালু করা, গ্রিড আধুনিকায়ন এবং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির মতো এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমে শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি-কে মোবাইল এনার্জি স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করে দেশের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকর নীতি সহায়তা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই পারে বাংলাদেশকে একটি টেকসই ও জ্বালানি-স্বনির্ভর অর্থনীতির পথে এগিয়ে নিতে।