Hi

০৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফতুল্লায় শ্রমিক অসন্তোষ: শান্ত পরিস্থিতি, সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:৪৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ১১ জন দেখেছে

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় টানা তিন দিন ধরে চলে আসা শ্রমিক অসন্তোষ আপাতত থিতিয়ে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কসহ (লিংক রোড) গুরুত্বপূর্ণ কোনো পয়েন্টেই শ্রমিকদের বিক্ষোভ কিংবা সড়ক অবরোধের চিত্র দেখা যায়নি। জনজীবনও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আজ সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকরা বিক্ষোভ করতে পারে এমন সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত টহল দিচ্ছেন। তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় গিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সর্বশেষ গতকাল বুধবার আন্দোলনের তৃতীয় দিনেও এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তবে কোনো ধরনের নতুন করে বিশৃঙ্খলা যেন তৈরি না হয়, সেজন্য পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি শিল্প পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে পুরো শিল্পাঞ্চলজুড়ে। ফতুল্লা থানা-পুলিশের পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও জলকামান প্রধান প্রধান সড়কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

এর আগে গত ২ নভেম্বর থেকে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকার মেট্রো নিটিং, পলমল গার্মেন্টস ও আবির ফ্যাশনের শ্রমিকরা তাদের দাবির পক্ষে রাজপথে নামেন। আন্দোলনের প্রথম দিকে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও দ্বিতীয় দিনে তা সহিংস আকার ধারণ করে। সে সময় উত্তেজিত শ্রমিকেরা যানবাহন ভাঙচুর করেন এবং পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। ওই দিন শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে সময় টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং ৫ জন শ্রমিককে আটক করা হয়েছিল। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।

আন্দোলনের তৃতীয় দিন বুধবারও পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত ছিল। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধের চেষ্টাকালে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়, ফলে সড়কটি অবরুদ্ধ করতে ব্যর্থ হন আন্দোলনকারীরা।

টানা তিন দিনের এই বিক্ষোভের জেরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল বারবার ব্যাহত হয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগীসহ কর্মজীবী মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান। শ্রমিকদের মজুরির মতো যৌক্তিক দাবির পাশাপাশি আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বেশ উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল, যা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় অনেকটা প্রশমিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির যুক্তিসংগত দাবির পাশাপাশি একে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে গভীর মতভেদ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফতুল্লায় শ্রমিক অসন্তোষ: শান্ত পরিস্থিতি, সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আপডেট : ১১:৪৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় টানা তিন দিন ধরে চলে আসা শ্রমিক অসন্তোষ আপাতত থিতিয়ে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কসহ (লিংক রোড) গুরুত্বপূর্ণ কোনো পয়েন্টেই শ্রমিকদের বিক্ষোভ কিংবা সড়ক অবরোধের চিত্র দেখা যায়নি। জনজীবনও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আজ সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকরা বিক্ষোভ করতে পারে এমন সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত টহল দিচ্ছেন। তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় গিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সর্বশেষ গতকাল বুধবার আন্দোলনের তৃতীয় দিনেও এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তবে কোনো ধরনের নতুন করে বিশৃঙ্খলা যেন তৈরি না হয়, সেজন্য পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি শিল্প পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে পুরো শিল্পাঞ্চলজুড়ে। ফতুল্লা থানা-পুলিশের পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও জলকামান প্রধান প্রধান সড়কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

এর আগে গত ২ নভেম্বর থেকে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকার মেট্রো নিটিং, পলমল গার্মেন্টস ও আবির ফ্যাশনের শ্রমিকরা তাদের দাবির পক্ষে রাজপথে নামেন। আন্দোলনের প্রথম দিকে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও দ্বিতীয় দিনে তা সহিংস আকার ধারণ করে। সে সময় উত্তেজিত শ্রমিকেরা যানবাহন ভাঙচুর করেন এবং পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। ওই দিন শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে সময় টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং ৫ জন শ্রমিককে আটক করা হয়েছিল। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।

আন্দোলনের তৃতীয় দিন বুধবারও পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত ছিল। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধের চেষ্টাকালে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়, ফলে সড়কটি অবরুদ্ধ করতে ব্যর্থ হন আন্দোলনকারীরা।

টানা তিন দিনের এই বিক্ষোভের জেরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল বারবার ব্যাহত হয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগীসহ কর্মজীবী মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান। শ্রমিকদের মজুরির মতো যৌক্তিক দাবির পাশাপাশি আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বেশ উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল, যা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় অনেকটা প্রশমিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির যুক্তিসংগত দাবির পাশাপাশি একে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল।