Hi

১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্ট মার্টিনে পর্যটক বাড়ছে, পরিবেশের ওপর বাড়তি ঝুঁকির আশঙ্কা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ জন দেখেছে

পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা সেন্ট মার্টিনে পর্যটকের সংখ্যা ও রাতযাপনের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে সরকার। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপে যেতে পারবেন। এখন থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩,৫০০ পর্যটক সেখানে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন, যা আগে ২,০০০-এ সীমাবদ্ধ ছিল। এছাড়া পর্যটকদের রাতযাপনের সুযোগ ২ মাস থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ মাস করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলক পরিবেশ সংরক্ষণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ১০০ টাকা। এতে বলা হয়েছে, ১ নভেম্বর থেকেই রাতে থাকা যাবে। সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের রাতযাপন নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’, যা জানাল প্রশাসন। অনেক স্থাপনার পরিবেশ ছাড়পত্র ও অগ্নিনিরাপত্তার অনুমোদনও ছিল না। সেন্ট মার্টিনে রাতের অন্ধকারে কেয়াবন ধ্বংস করছে কারা। অতীতে পর্যটক ও রাতযাপনের সীমা নির্ধারণে পরিবেশ অধিদপ্তর, সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যুক্ত ছিল।

১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দ্বীপের প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম এবং বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা করতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। যার মধ্যে রাতের বেলা সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গানবাজনা ও বারবিকিউ নিষিদ্ধ অন্যতম। প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের সংবেদনশীলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কক্সবাজারে গণপর্যটনের সুযোগ থাকতে পারে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একসময় দ্বীপটিতে প্রায় ১,০৭৬ প্রজাতির জীববৈচিত্র্য ছিল। কিন্তু কয়েক দশকের অপরিকল্পিত পর্যটন এবং অবাধে স্থাপনা নির্মাণের কারণে দ্বীপের প্রাণপ্রকৃতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুমোদনহীন অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে ওঠায় পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছিল। বছরের বাকি সময় দ্বীপটি প্রায় পর্যটকশূন্য থাকত। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একসময় দ্বীপটিতে প্রায় ১ হাজার ৭৬ প্রজাতির জীববৈচিত্র্য ছিল।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পর্যটকদের যাতায়াত সীমিত করে।

সে সময় অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতিদিন ২,০০০ পর্যটকের সুযোগ ছিল। গত দুই মৌসুমে ২ লাখ ৩৭ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা তিন বছর আগের তুলনায় অর্ধেকের কম। পর্যটক কমায় সৈকতে বর্জ্য ফেলার হার কমেছে। এমনকি ২০২৬ সালের মে মাসে জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যটন বন্ধ থাকার সময় সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা সামুদ্রিক পরিবেশের উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। ফলে পর্যটকের ভিড়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য। বর্জ্য শোধন ও অপসারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে এসবের দূষণ সৈকত ও সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়বে। ২০২৬ সালের মে মাসে জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটন বন্ধ থাকার সময়ে সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এখন পর্যটক দৈনিক সীমা ৭৫ শতাংশ বাড়ানোয় পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিবেশকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বীপে সুপেয় পানির অভাব, পয়োবর্জ্য ও প্লাস্টিক দূষণ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বাড়তি দেড় হাজার পর্যটকের চাপ এই ভঙ্গুর অবকাঠামো কতটা নিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিনের দূষণ ও মানুষের অবাধ বিচরণের চাপ থেকে প্রাণপ্রকৃতির কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বাড়বে পয়োবর্জ্য, প্লাস্টিকের বোতল ও খাবারের মোড়ক।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মনে করেন, পর্যটক বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, আগের ২,০০০ পর্যটকের সীমা কার্যকর করতেই প্রশাসনকে বেগ পেতে হয়েছিল। এখন ৩,৫০০ পর্যটকের ওপর কার্যকর নজরদারি কীভাবে সম্ভব? এছাড়া আদায় করা ১০০ টাকা কোন খাতে ব্যয় হবে, তা নিয়েও স্বচ্ছতার দাবি তুলেছেন তিনি। তা ছাড়া পর্যটকদের কাছ থেকে আদায় করা ১০০ টাকা কোথায় ব্যয় করা হবে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন বলেন, দ্বীপের পরিবেশগত বহনক্ষমতা বিবেচনায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১,১০০ থেকে ১,২০০ পর্যটক যাওয়া যুক্তিসংগত। অথচ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই সংখ্যাটি বাড়ানো হয়েছে। তার মতে, পর্যটন ব্যবসায়ীদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে পরিবেশকে ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, জাহাজমালিক ও হোটেল ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ৬,০০০ পর্যটকের অনুমতি চেয়েছিলেন। সমঝোতার ভিত্তিতে ৩,৫০০ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা খানম দেশের বাইরে থাকায় তাঁর মতামতও জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হলেও জবাব পাওয়া যায়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক অনুদান, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং দ্বীপের জন্য একটি খসড়া মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রকৃতিবান্ধব পর্যটনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখন নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই সুফল কতটুকু টিকে থাকবে তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সেন্ট মার্টিনের প্রাণপ্রকৃতি রক্ষার জন্য পর্যটন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দূষণ রোধে কঠোর নজরদারি ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের প্রয়োজন ছিল। অথচ স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ ও ব্যবসায়িক স্বার্থে নেওয়া এই নতুন সিদ্ধান্ত দ্বীপটির বাস্তুসংস্থানকে নতুন করে সংকটে ফেলবে বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। সেন্ট মার্টিনের ‘আর্তনাদ’ শুনতে পান কি।

স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬৪

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সেন্ট মার্টিনে পর্যটক বাড়ছে, পরিবেশের ওপর বাড়তি ঝুঁকির আশঙ্কা

আপডেট : ০৮:০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা সেন্ট মার্টিনে পর্যটকের সংখ্যা ও রাতযাপনের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে সরকার। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপে যেতে পারবেন। এখন থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩,৫০০ পর্যটক সেখানে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন, যা আগে ২,০০০-এ সীমাবদ্ধ ছিল। এছাড়া পর্যটকদের রাতযাপনের সুযোগ ২ মাস থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ মাস করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলক পরিবেশ সংরক্ষণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ১০০ টাকা। এতে বলা হয়েছে, ১ নভেম্বর থেকেই রাতে থাকা যাবে। সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের রাতযাপন নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’, যা জানাল প্রশাসন। অনেক স্থাপনার পরিবেশ ছাড়পত্র ও অগ্নিনিরাপত্তার অনুমোদনও ছিল না। সেন্ট মার্টিনে রাতের অন্ধকারে কেয়াবন ধ্বংস করছে কারা। অতীতে পর্যটক ও রাতযাপনের সীমা নির্ধারণে পরিবেশ অধিদপ্তর, সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যুক্ত ছিল।

১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দ্বীপের প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম এবং বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা করতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। যার মধ্যে রাতের বেলা সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গানবাজনা ও বারবিকিউ নিষিদ্ধ অন্যতম। প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের সংবেদনশীলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কক্সবাজারে গণপর্যটনের সুযোগ থাকতে পারে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একসময় দ্বীপটিতে প্রায় ১,০৭৬ প্রজাতির জীববৈচিত্র্য ছিল। কিন্তু কয়েক দশকের অপরিকল্পিত পর্যটন এবং অবাধে স্থাপনা নির্মাণের কারণে দ্বীপের প্রাণপ্রকৃতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুমোদনহীন অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে ওঠায় পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছিল। বছরের বাকি সময় দ্বীপটি প্রায় পর্যটকশূন্য থাকত। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একসময় দ্বীপটিতে প্রায় ১ হাজার ৭৬ প্রজাতির জীববৈচিত্র্য ছিল।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পর্যটকদের যাতায়াত সীমিত করে।

সে সময় অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতিদিন ২,০০০ পর্যটকের সুযোগ ছিল। গত দুই মৌসুমে ২ লাখ ৩৭ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা তিন বছর আগের তুলনায় অর্ধেকের কম। পর্যটক কমায় সৈকতে বর্জ্য ফেলার হার কমেছে। এমনকি ২০২৬ সালের মে মাসে জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যটন বন্ধ থাকার সময় সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা সামুদ্রিক পরিবেশের উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। ফলে পর্যটকের ভিড়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য। বর্জ্য শোধন ও অপসারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে এসবের দূষণ সৈকত ও সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়বে। ২০২৬ সালের মে মাসে জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটন বন্ধ থাকার সময়ে সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এখন পর্যটক দৈনিক সীমা ৭৫ শতাংশ বাড়ানোয় পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিবেশকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বীপে সুপেয় পানির অভাব, পয়োবর্জ্য ও প্লাস্টিক দূষণ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বাড়তি দেড় হাজার পর্যটকের চাপ এই ভঙ্গুর অবকাঠামো কতটা নিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিনের দূষণ ও মানুষের অবাধ বিচরণের চাপ থেকে প্রাণপ্রকৃতির কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বাড়বে পয়োবর্জ্য, প্লাস্টিকের বোতল ও খাবারের মোড়ক।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মনে করেন, পর্যটক বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, আগের ২,০০০ পর্যটকের সীমা কার্যকর করতেই প্রশাসনকে বেগ পেতে হয়েছিল। এখন ৩,৫০০ পর্যটকের ওপর কার্যকর নজরদারি কীভাবে সম্ভব? এছাড়া আদায় করা ১০০ টাকা কোন খাতে ব্যয় হবে, তা নিয়েও স্বচ্ছতার দাবি তুলেছেন তিনি। তা ছাড়া পর্যটকদের কাছ থেকে আদায় করা ১০০ টাকা কোথায় ব্যয় করা হবে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন বলেন, দ্বীপের পরিবেশগত বহনক্ষমতা বিবেচনায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১,১০০ থেকে ১,২০০ পর্যটক যাওয়া যুক্তিসংগত। অথচ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই সংখ্যাটি বাড়ানো হয়েছে। তার মতে, পর্যটন ব্যবসায়ীদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে পরিবেশকে ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, জাহাজমালিক ও হোটেল ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ৬,০০০ পর্যটকের অনুমতি চেয়েছিলেন। সমঝোতার ভিত্তিতে ৩,৫০০ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা খানম দেশের বাইরে থাকায় তাঁর মতামতও জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হলেও জবাব পাওয়া যায়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক অনুদান, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং দ্বীপের জন্য একটি খসড়া মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রকৃতিবান্ধব পর্যটনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখন নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই সুফল কতটুকু টিকে থাকবে তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সেন্ট মার্টিনের প্রাণপ্রকৃতি রক্ষার জন্য পর্যটন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দূষণ রোধে কঠোর নজরদারি ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের প্রয়োজন ছিল। অথচ স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ ও ব্যবসায়িক স্বার্থে নেওয়া এই নতুন সিদ্ধান্ত দ্বীপটির বাস্তুসংস্থানকে নতুন করে সংকটে ফেলবে বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। সেন্ট মার্টিনের ‘আর্তনাদ’ শুনতে পান কি।