Hi

১০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারের ব্যবসায়ীর মেয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তার অভিযোগ ওঠার পর তাঁর মেয়ের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে সংশ্লিষ্ট ওই নারী মার্কিন আদালতে মামলা করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার আগের নীতি থেকে সরে এসেছে।

নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পাওয়া ওই নারীর নাম থেইন্ট উইন থেট। তিনি মিয়ানমারের নাগরিক। তাঁকে স্পেশালি ডেজিগনেটেড ন্যাশনালস অ্যান্ড ব্লকড পারসনস লিস্ট (এসডিএন তালিকা) থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, চলতি বছরের জুলাই মাসে থেইন্ট উইন থেট নতুন করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তিনি যুক্তি দেখান যে, তাঁর বাবার ব্যবসায় কোনো সক্রিয় ভূমিকা তাঁর নেই। নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছিল। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্রেডিট কার্ড বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ব্যাংক হিসাব সীমিত হওয়ায় তিনি পড়ালেখা শেষ করতে পারেননি। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেকোনো সম্পদ অবরুদ্ধ হয়।

এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের একটি বিশেষ মূল্যায়নের প্রতিফলন যে, বার্মা-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট তালিকাভুক্তিটি আর কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না। মুখপাত্র আরও বলেন, বার্মার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে প্রশাসন বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ক্যাম সেন্টার দমন, মার্কিন ব্যবসার জন্য পরিবেশ উন্নত করা এবং চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় শান্তিপ্রক্রিয়াকে উৎসাহ দেওয়া। এতে আনুমানিক ১ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে প্রতারণাকেন্দ্র (স্ক্যাম সেন্টার) দমন, মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বার্মার অভ্যন্তরীণ পরিবেশের উন্নয়ন এবং চলমান সহিংসতা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় শান্তিপ্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করা।

২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় শ্বে বায়াইন ফিউ গ্রুপ অব কোম্পানিজ এবং এর প্রতিষ্ঠাতা থেইন উইন জাও ও তাঁর পরিবারকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি জান্তা সরকারের পক্ষে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিতরণে যুক্ত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিবারটি জান্তা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অন্তত ২০টি কোম্পানির মালিক। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে থেইন্ট উইন থেটের দায়ের করা একটি মামলা আদালত খারিজ করে দিয়েছিলেন। তবে গত বছর তাঁর মাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এখন তিনি মা-সহ ব্যাংককে অবস্থান করছেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে ‘জাস্টিস ফর মিয়ানমার’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটি বলছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যখন বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে, ঠিক তখনই এই ছাড় দেওয়া হলো। তাদের ভাষ্য, জান্তাকে সহায়তা দেওয়া ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মার্কিন সরকারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিন্দনীয়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর থেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন সামরিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন জান্তা সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখায় এই নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। থেইন্ট উইন থেটের আইনজীবী এরিক ফেরারি গত শুক্রবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার মার্কিন জেলা আদালতে স্বেচ্ছায় মামলাটি প্রত্যাহারের নোটিশ দিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ২০২১ সালে নির্বাচিত নেতাদের উৎখাত করা জেনারেলদের একঘরে করে রাখাই ছিল সেই নীতির লক্ষ্য। গত সপ্তাহে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বসানো সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। ওই অভ্যুত্থানের জেরে মিয়ানমারজুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মিয়ানমারের ব্যবসায়ীর মেয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০৮:০০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

মিয়ানমারের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তার অভিযোগ ওঠার পর তাঁর মেয়ের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে সংশ্লিষ্ট ওই নারী মার্কিন আদালতে মামলা করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার আগের নীতি থেকে সরে এসেছে।

নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পাওয়া ওই নারীর নাম থেইন্ট উইন থেট। তিনি মিয়ানমারের নাগরিক। তাঁকে স্পেশালি ডেজিগনেটেড ন্যাশনালস অ্যান্ড ব্লকড পারসনস লিস্ট (এসডিএন তালিকা) থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, চলতি বছরের জুলাই মাসে থেইন্ট উইন থেট নতুন করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তিনি যুক্তি দেখান যে, তাঁর বাবার ব্যবসায় কোনো সক্রিয় ভূমিকা তাঁর নেই। নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছিল। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্রেডিট কার্ড বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ব্যাংক হিসাব সীমিত হওয়ায় তিনি পড়ালেখা শেষ করতে পারেননি। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেকোনো সম্পদ অবরুদ্ধ হয়।

এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের একটি বিশেষ মূল্যায়নের প্রতিফলন যে, বার্মা-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট তালিকাভুক্তিটি আর কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না। মুখপাত্র আরও বলেন, বার্মার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে প্রশাসন বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ক্যাম সেন্টার দমন, মার্কিন ব্যবসার জন্য পরিবেশ উন্নত করা এবং চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় শান্তিপ্রক্রিয়াকে উৎসাহ দেওয়া। এতে আনুমানিক ১ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে প্রতারণাকেন্দ্র (স্ক্যাম সেন্টার) দমন, মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বার্মার অভ্যন্তরীণ পরিবেশের উন্নয়ন এবং চলমান সহিংসতা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় শান্তিপ্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করা।

২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় শ্বে বায়াইন ফিউ গ্রুপ অব কোম্পানিজ এবং এর প্রতিষ্ঠাতা থেইন উইন জাও ও তাঁর পরিবারকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি জান্তা সরকারের পক্ষে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিতরণে যুক্ত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিবারটি জান্তা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অন্তত ২০টি কোম্পানির মালিক। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে থেইন্ট উইন থেটের দায়ের করা একটি মামলা আদালত খারিজ করে দিয়েছিলেন। তবে গত বছর তাঁর মাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এখন তিনি মা-সহ ব্যাংককে অবস্থান করছেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে ‘জাস্টিস ফর মিয়ানমার’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটি বলছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যখন বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে, ঠিক তখনই এই ছাড় দেওয়া হলো। তাদের ভাষ্য, জান্তাকে সহায়তা দেওয়া ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মার্কিন সরকারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিন্দনীয়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর থেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন সামরিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন জান্তা সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখায় এই নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। থেইন্ট উইন থেটের আইনজীবী এরিক ফেরারি গত শুক্রবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার মার্কিন জেলা আদালতে স্বেচ্ছায় মামলাটি প্রত্যাহারের নোটিশ দিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ২০২১ সালে নির্বাচিত নেতাদের উৎখাত করা জেনারেলদের একঘরে করে রাখাই ছিল সেই নীতির লক্ষ্য। গত সপ্তাহে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বসানো সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। ওই অভ্যুত্থানের জেরে মিয়ানমারজুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।