Hi

১২:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু-কিশোরদের হাত ধরেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:০১:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৩ জন দেখেছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশু-কিশোররাই আগামীর সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী বাংলাদেশের রূপকার। তাদের সুপ্ত মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রতিভার যথাযথ বিকাশের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠন সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে বর্তমান প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, ‘তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই দেশ তোমাদের, তোমরাই এর মালিক। ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট বা আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংস্কৃতির চর্চায় পারদর্শী হয়ে নিজেদের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ হিসেবে তৈরি করতে হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে।’।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কেবল পুঁথিগত বিদ্যায় বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়। তাই জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা প্রমাণ করেছে যে, যথাযথ সুযোগ ও চর্চা পেলে শিশু-কিশোররা সব ক্ষেত্রেই নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে। কারণ, শুধু শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়।

এবারের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে সারা দেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। আগামী জুন মাসে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা ও পৌরসভা থেকে শিক্ষার্থীরা এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যুক্ত হয়েছে। সরকার পর্যায়ক্রমে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কাজ করে যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য শিশু-কিশোরদেরও একইভাবে নিজেদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে। এখন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়া হবে। ছয়-সাতটি ভাষার তালিকা থেকে শিশুরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী একটি ভাষা বেছে নিতে পারবে। তিনি বলেন, পড়ালেখা, খেলাধুলা ও বিদেশি ভাষায় দক্ষ হলে কোনো শক্তিই এই প্রজন্মের অগ্রযাত্রা আটকে রাখতে পারবে না। এ লক্ষ্য অর্জনে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ও লায়ন ড্যান্স উপভোগ করেন তিনি।

স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে অবস্থান নেওয়া হাজারো শিক্ষার্থীকে কাছে পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন। উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদরা তাকে স্বাগত জানায়। অনুষ্ঠান শেষে তিনি স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে গিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তারা করতালি ও হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানায়। তাঁকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে হাজারো শিশু-কিশোর। সেখানে পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ করে সমবেত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও হাত মেলান।

উল্লেখ্য, ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই আসরের প্রথম প্রতিযোগিতা গত ২ মে সিলেটে শুরু হয়েছিল।

এবারের আয়োজনে আগের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে নতুন করে ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হওয়ায় মোট ১০টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাচ্ছে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশু-কিশোররা। ১৬ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেশের শিশু-কিশোরদের অদম্য প্রতিভা ও আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নোয়াখালীতে ইসলামী যুব আন্দোলনের ষষ্ঠ জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শিশু-কিশোরদের হাত ধরেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১১:০১:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশু-কিশোররাই আগামীর সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী বাংলাদেশের রূপকার। তাদের সুপ্ত মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রতিভার যথাযথ বিকাশের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠন সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে বর্তমান প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, ‘তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই দেশ তোমাদের, তোমরাই এর মালিক। ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট বা আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংস্কৃতির চর্চায় পারদর্শী হয়ে নিজেদের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ হিসেবে তৈরি করতে হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে।’।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কেবল পুঁথিগত বিদ্যায় বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়। তাই জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা প্রমাণ করেছে যে, যথাযথ সুযোগ ও চর্চা পেলে শিশু-কিশোররা সব ক্ষেত্রেই নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে। কারণ, শুধু শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়।

এবারের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে সারা দেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। আগামী জুন মাসে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা ও পৌরসভা থেকে শিক্ষার্থীরা এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যুক্ত হয়েছে। সরকার পর্যায়ক্রমে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কাজ করে যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য শিশু-কিশোরদেরও একইভাবে নিজেদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে। এখন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়া হবে। ছয়-সাতটি ভাষার তালিকা থেকে শিশুরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী একটি ভাষা বেছে নিতে পারবে। তিনি বলেন, পড়ালেখা, খেলাধুলা ও বিদেশি ভাষায় দক্ষ হলে কোনো শক্তিই এই প্রজন্মের অগ্রযাত্রা আটকে রাখতে পারবে না। এ লক্ষ্য অর্জনে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ও লায়ন ড্যান্স উপভোগ করেন তিনি।

স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে অবস্থান নেওয়া হাজারো শিক্ষার্থীকে কাছে পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন। উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদরা তাকে স্বাগত জানায়। অনুষ্ঠান শেষে তিনি স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে গিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তারা করতালি ও হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানায়। তাঁকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে হাজারো শিশু-কিশোর। সেখানে পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ করে সমবেত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও হাত মেলান।

উল্লেখ্য, ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই আসরের প্রথম প্রতিযোগিতা গত ২ মে সিলেটে শুরু হয়েছিল।

এবারের আয়োজনে আগের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে নতুন করে ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হওয়ায় মোট ১০টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাচ্ছে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশু-কিশোররা। ১৬ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেশের শিশু-কিশোরদের অদম্য প্রতিভা ও আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।