Hi

০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৭ নভেম্বরের চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে: রুহুল কবির রিজভী

শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পেছনে মূলত ৭ নভেম্বরের চেতনা কাজ করেছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্য নিয়ে দেশের মানুষ রাজপথে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবারকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের বাসায় গ্রেপ্তার করে রাখা হয়। দেশের মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।

রিজভী বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করে এবং দেশকে চরম ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেয়। গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার এক ভীতিকর সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরায় ভয় পেত। সেই অস্থির পরিস্থিতিতে ছাত্র, জনতা ও শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে বাধ্য হয়। মানুষ ভয়ে কথা বলতে পারত না, রাস্তায় চলাচল করতেও ভয় পেত। ২০০৯ সালে পুরোনো বাকশালের নতুন প্রেতাত্মার আবির্ভাব ঘটে।

তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। যার অংশ হিসেবে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ হাজার কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষকে সহায়তা প্রদান ও দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলছে।

জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিলেন। খাল খনন, স্বনির্ভরতা ও স্বাক্ষরতা অভিযানের মাধ্যমে তিনি জাতিকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলেন। কিন্তু দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তাঁকে হত্যার মাধ্যমে সেই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। তবে বারবার নানা সংকট ও ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করে ৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। খাল খনন, স্বনির্ভর কর্মসূচি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্বাক্ষরতা অভিযানের মধ্য দিয়ে জাতি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এতে জাতি আবার নতুন করে পথের দিশা পায়।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বে নয় বছরের দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে আসে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। ৭ নভেম্বরের বিপ্লবই পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে গলির ভেতর ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নির্দেশনা আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ উন্নয়ন ও উৎপাদনে এগিয়ে যায়।

রিজভী আরও জানান, জনগণ এসব অপতৎপরতা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। সরকারি দল ও প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং কেউ যাতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। অগণতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি এবং জাতীয়তাবাদী শক্তি সবসময় সজাগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৭ নভেম্বরের চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে: রুহুল কবির রিজভী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৭ নভেম্বরের চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে: রুহুল কবির রিজভী

আপডেট : ০৯:১৫:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পেছনে মূলত ৭ নভেম্বরের চেতনা কাজ করেছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্য নিয়ে দেশের মানুষ রাজপথে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবারকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের বাসায় গ্রেপ্তার করে রাখা হয়। দেশের মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।

রিজভী বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করে এবং দেশকে চরম ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেয়। গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার এক ভীতিকর সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরায় ভয় পেত। সেই অস্থির পরিস্থিতিতে ছাত্র, জনতা ও শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে বাধ্য হয়। মানুষ ভয়ে কথা বলতে পারত না, রাস্তায় চলাচল করতেও ভয় পেত। ২০০৯ সালে পুরোনো বাকশালের নতুন প্রেতাত্মার আবির্ভাব ঘটে।

তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। যার অংশ হিসেবে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ হাজার কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষকে সহায়তা প্রদান ও দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলছে।

জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিলেন। খাল খনন, স্বনির্ভরতা ও স্বাক্ষরতা অভিযানের মাধ্যমে তিনি জাতিকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলেন। কিন্তু দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তাঁকে হত্যার মাধ্যমে সেই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। তবে বারবার নানা সংকট ও ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করে ৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। খাল খনন, স্বনির্ভর কর্মসূচি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্বাক্ষরতা অভিযানের মধ্য দিয়ে জাতি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এতে জাতি আবার নতুন করে পথের দিশা পায়।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বে নয় বছরের দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে আসে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। ৭ নভেম্বরের বিপ্লবই পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে গলির ভেতর ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নির্দেশনা আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ উন্নয়ন ও উৎপাদনে এগিয়ে যায়।

রিজভী আরও জানান, জনগণ এসব অপতৎপরতা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। সরকারি দল ও প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং কেউ যাতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। অগণতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি এবং জাতীয়তাবাদী শক্তি সবসময় সজাগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।