Hi

০২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাতারে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

কাতারের দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ পালন করা হয়েছে। দিবসটির কর্মসূচির শুরুতে সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শনিবার দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সকলের রুহের মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-সহ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সরদার ইশতিয়াক আহমেদ এবং মোহাম্মদ মাশহুদুল কবির। এ সময় দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য নিয়ে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। দূতালয় প্রধান বারিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় মূল আলোচক ছিলেন নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ। তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের প্রেক্ষাপট এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সিপাহি-জনতার ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, জুলাই যোদ্ধা জিহাদ নুর চৌধুরী, কাতার বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবু সাইদ, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমেদ খোকন, একেএম আমিনুল হক, শাহজাহান সাজু, জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, শফিকুল ইসলাম, ইসমাইল মনসুর এবং বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেন আহমেদসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা জাতীয় ঐক্যের চেতনা ও দেশ গঠনে প্রবাসীদের ভূমিকার ওপর জোর দেন।

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান বলেন, সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ চেতনাই জাতিকে তৎকালীন সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছিল। সেই ঐক্য ও সংহতির চেতনা লালন করে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি কাতারের আইন ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রবাসীদের বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে একটি সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় শিল্পীরা কবিতা আবৃত্তি এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি আপ্যায়নের মাধ্যমে দিবসটির সমাপ্তি ঘটে। এতে কাতারপ্রবাসী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। সবশেষে আমন্ত্রিত অতিথিগণকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার-সহযোগে আপ্যায়ন করা হয়।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কাতারে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

আপডেট : ০২:১৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

কাতারের দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ পালন করা হয়েছে। দিবসটির কর্মসূচির শুরুতে সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শনিবার দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সকলের রুহের মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-সহ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সরদার ইশতিয়াক আহমেদ এবং মোহাম্মদ মাশহুদুল কবির। এ সময় দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য নিয়ে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। দূতালয় প্রধান বারিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় মূল আলোচক ছিলেন নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ। তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের প্রেক্ষাপট এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সিপাহি-জনতার ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, জুলাই যোদ্ধা জিহাদ নুর চৌধুরী, কাতার বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবু সাইদ, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমেদ খোকন, একেএম আমিনুল হক, শাহজাহান সাজু, জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, শফিকুল ইসলাম, ইসমাইল মনসুর এবং বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেন আহমেদসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা জাতীয় ঐক্যের চেতনা ও দেশ গঠনে প্রবাসীদের ভূমিকার ওপর জোর দেন।

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান বলেন, সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ চেতনাই জাতিকে তৎকালীন সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছিল। সেই ঐক্য ও সংহতির চেতনা লালন করে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি কাতারের আইন ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রবাসীদের বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে একটি সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় শিল্পীরা কবিতা আবৃত্তি এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি আপ্যায়নের মাধ্যমে দিবসটির সমাপ্তি ঘটে। এতে কাতারপ্রবাসী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। সবশেষে আমন্ত্রিত অতিথিগণকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার-সহযোগে আপ্যায়ন করা হয়।