Hi

০৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছরে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় ৩০০ পরিবার

গত ৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। সংস্থাটির মতে, বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, নিঃশেষ হয়ে যাওয়া পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৩০০ বলে যে ধারণা দেওয়া হয়েছে, তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে। তাঁরা নিজেরা দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে বা পরিবারগুলোর তথ্য অনুসন্ধান করে এই সংখ্যা যাচাই করেননি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এ দুর্ঘটনার সংখ্যা যেমন কমছে না, তেমনি কমছে না মৃত্যু। সব দুর্ঘটনার ধরন এক নয়, একে নিয়ন্ত্রণে পদ্ধতিও এক হতে পারে না।

সড়ক দুর্ঘটনার নিষ্ঠুরতা কত গভীর হতে পারে, তার উদাহরণ পাওয়া যায় ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বরের একটি ঘটনায়।

ওই দিন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার মূলকান্দি এলাকায় একই পরিবারের পাঁচজন প্রাণ হারান।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চাষাভদ্রা গ্রামের বাসিন্দা হরেকৃষ্ণ বাদ্যকর (৫৫), তাঁর ছেলে গোবিন্দ বাদ্যকর (২৮), পুত্রবধূ ববিতা বাদ্যকর (২৫), নাতনি রাধে বাদ্যকর (৪) ও চাচাতো ভাই রামপ্রসাদ বাদ্যকর (৩০) এক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। এক দিনের ব্যবধানে সেখানে চলছে শেষবিদায়ের প্রস্তুতি।

ওই ঘটনায় পরিবারের এতটাই বিপর্যয় নেমে এসেছিল যে, শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য নিকটাত্মীয় খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল। স্বজনদের মৃত্যুতে শোক করার মতো মানুষও যখন আর অবশিষ্ট থাকে না, তখন সেই শোকের সঙ্গে যুক্ত হয় এক কঠিন মানবিক সংকট। খাটিয়াগুলোর চারপাশে তখনো থামছে না স্বজনদের কান্না আর প্রতিবেশীদের দীর্ঘশ্বাস।

শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাঁদের সৎকার সম্পন্ন হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যুর ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। একটি পরিবারের একাধিক সদস্যের এমন মৃত্যুর ঘটনার প্রভাব পড়ে পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্য, স্বজন ও পরবর্তী প্রজন্মের ওপরও। ফলে পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক কাঠামোও ভেঙে পড়ে।

গত শনিবার জামালপুর–দেওয়ানগঞ্জ মহাসড়কের মেলান্দহ উপজেলার বুরুঙ্গা এলাকায় দ্রুতগতির ট্রাকের চাপায় একটি অটোরিকশার চার যাত্রী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ইসলামপুর উপজেলার ইন্দুল্লামারী এলাকার শিক্ষক দম্পতি মোরশেদ আলম (২৪), স্ত্রী ইকরামা (১৯) ও তাঁদের সাত মাস বয়সী শিশুকন্যা রিফা। এ ছাড়া মোটরসাইকেল আরোহী লিখন আকন্দ (৩২) প্রাণ হারান। ইকরামার চাচা ইদ্রিস আলী জানান, দুর্ঘটনায় তাঁর ভাতিজি, জামাতা ও নাতনিকে হারিয়ে পরিবারটি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে গেছে। এক শিক্ষক দম্পতির জন্য খাটিয়া দুটি রাখা হয়েছে। মাঠের এক কোণে এ দম্পতি ও তাঁদের সাত মাস বয়সী একমাত্র কন্যাসন্তানের শেষ গোসল দেওয়া হচ্ছিল। এই দম্পতি মাহমুদপুর হারুনুর রশিদ ইসলামী কমপ্লেক্সের শিক্ষক ছিলেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অটোরিকশায় যাত্রী হিসেবে একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২১১টি দুর্ঘটনায়। মাইক্রোবাসে এমন ঘটনা ৪৮টি, প্রাইভেট কারে ৩৪টি এবং অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে ১১টি ঘটেছে। অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় তিনজন করে ১৫টি, চারজন করে ৯টি, পাঁচজন করে ৭টি ও আটজন করে ৩টি দুর্ঘটনায় মোট ১৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বাসের ক্ষেত্রেও একই পরিবারের দুজন মৃত্যুর ঘটনা ১৭টি, তিনজন ৯টি ও চারজন ৬টি দুর্ঘটনায় ঘটেছে, যেখানে মোট নিহতের সংখ্যা ৮৫ জন। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যের পাশাপাশি শিশু, নারী ও প্রবীণ সদস্যরাও প্রাণ হারান। কখনো স্বামী–স্ত্রী, কখনো মা–বাবা ও সন্তান, আবার কখনো একই পরিবারের তিন থেকে সাতজন কিংবা আরও বেশি সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮৫ জন। ফলে এই সংখ্যাকে পূর্ণাঙ্গ বা চূড়ান্ত পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বুয়েটের এআরআইয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনা একটি জটিল ব্যাধি, তবে এর চিকিৎসায় যে পদ্ধতি নেওয়া হচ্ছে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানসম্মত নয়। তিনি বলেন, নিবন্ধনবিহীন অটোরিকশার মহাসড়কে চলাচল আমাদের দেশের সার্বিক অনিয়মের প্রতিফলন। পুরো পরিবারের প্রাণহানির ঘটনা যে বাড়ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সড়ক দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, সড়কে কী এভাবে নিবন্ধনবিহীন অটোরিকশা চলবে। যানবাহন ও সড়ক ব্যবস্থাপনার নানা দুর্বলতাও এ ধরনের প্রাণহানির পেছনে ভূমিকা রাখছে।

এই দুর্ঘটনার পেছনে যানবাহনের ফিটনেস না থাকা, চালকদের অদক্ষতা, বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো, মোটরসাইকেলে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা এবং ট্রাফিক আইন না মানাকে দায়ী করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে যাতায়াতের প্রবণতাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আগের দিনও এই মাঠে তাঁরা হাসি–আনন্দে সময় কাটিয়েছেন শিক্ষার্থী ও সহকর্মী শিক্ষকদের সঙ্গে।

দুর্ঘটনা কমিয়ে প্রাণহানি রোধে মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ, গ্রামীণ সড়কের সাথে নিরাপদ সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত নজরদারির সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এছাড়া সড়ক ব্যবস্থাপনা সংস্থাসমূহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ না থেকে, দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, কারণ প্রতিটি মৃত্যুই একটি পরিবারের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছরে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় ৩০০ পরিবার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছরে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় ৩০০ পরিবার

আপডেট : ০৫:৩১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

গত ৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। সংস্থাটির মতে, বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, নিঃশেষ হয়ে যাওয়া পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৩০০ বলে যে ধারণা দেওয়া হয়েছে, তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে। তাঁরা নিজেরা দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে বা পরিবারগুলোর তথ্য অনুসন্ধান করে এই সংখ্যা যাচাই করেননি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এ দুর্ঘটনার সংখ্যা যেমন কমছে না, তেমনি কমছে না মৃত্যু। সব দুর্ঘটনার ধরন এক নয়, একে নিয়ন্ত্রণে পদ্ধতিও এক হতে পারে না।

সড়ক দুর্ঘটনার নিষ্ঠুরতা কত গভীর হতে পারে, তার উদাহরণ পাওয়া যায় ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বরের একটি ঘটনায়।

ওই দিন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার মূলকান্দি এলাকায় একই পরিবারের পাঁচজন প্রাণ হারান।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চাষাভদ্রা গ্রামের বাসিন্দা হরেকৃষ্ণ বাদ্যকর (৫৫), তাঁর ছেলে গোবিন্দ বাদ্যকর (২৮), পুত্রবধূ ববিতা বাদ্যকর (২৫), নাতনি রাধে বাদ্যকর (৪) ও চাচাতো ভাই রামপ্রসাদ বাদ্যকর (৩০) এক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। এক দিনের ব্যবধানে সেখানে চলছে শেষবিদায়ের প্রস্তুতি।

ওই ঘটনায় পরিবারের এতটাই বিপর্যয় নেমে এসেছিল যে, শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য নিকটাত্মীয় খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল। স্বজনদের মৃত্যুতে শোক করার মতো মানুষও যখন আর অবশিষ্ট থাকে না, তখন সেই শোকের সঙ্গে যুক্ত হয় এক কঠিন মানবিক সংকট। খাটিয়াগুলোর চারপাশে তখনো থামছে না স্বজনদের কান্না আর প্রতিবেশীদের দীর্ঘশ্বাস।

শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাঁদের সৎকার সম্পন্ন হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যুর ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। একটি পরিবারের একাধিক সদস্যের এমন মৃত্যুর ঘটনার প্রভাব পড়ে পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্য, স্বজন ও পরবর্তী প্রজন্মের ওপরও। ফলে পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক কাঠামোও ভেঙে পড়ে।

গত শনিবার জামালপুর–দেওয়ানগঞ্জ মহাসড়কের মেলান্দহ উপজেলার বুরুঙ্গা এলাকায় দ্রুতগতির ট্রাকের চাপায় একটি অটোরিকশার চার যাত্রী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ইসলামপুর উপজেলার ইন্দুল্লামারী এলাকার শিক্ষক দম্পতি মোরশেদ আলম (২৪), স্ত্রী ইকরামা (১৯) ও তাঁদের সাত মাস বয়সী শিশুকন্যা রিফা। এ ছাড়া মোটরসাইকেল আরোহী লিখন আকন্দ (৩২) প্রাণ হারান। ইকরামার চাচা ইদ্রিস আলী জানান, দুর্ঘটনায় তাঁর ভাতিজি, জামাতা ও নাতনিকে হারিয়ে পরিবারটি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে গেছে। এক শিক্ষক দম্পতির জন্য খাটিয়া দুটি রাখা হয়েছে। মাঠের এক কোণে এ দম্পতি ও তাঁদের সাত মাস বয়সী একমাত্র কন্যাসন্তানের শেষ গোসল দেওয়া হচ্ছিল। এই দম্পতি মাহমুদপুর হারুনুর রশিদ ইসলামী কমপ্লেক্সের শিক্ষক ছিলেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অটোরিকশায় যাত্রী হিসেবে একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২১১টি দুর্ঘটনায়। মাইক্রোবাসে এমন ঘটনা ৪৮টি, প্রাইভেট কারে ৩৪টি এবং অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে ১১টি ঘটেছে। অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় তিনজন করে ১৫টি, চারজন করে ৯টি, পাঁচজন করে ৭টি ও আটজন করে ৩টি দুর্ঘটনায় মোট ১৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বাসের ক্ষেত্রেও একই পরিবারের দুজন মৃত্যুর ঘটনা ১৭টি, তিনজন ৯টি ও চারজন ৬টি দুর্ঘটনায় ঘটেছে, যেখানে মোট নিহতের সংখ্যা ৮৫ জন। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যের পাশাপাশি শিশু, নারী ও প্রবীণ সদস্যরাও প্রাণ হারান। কখনো স্বামী–স্ত্রী, কখনো মা–বাবা ও সন্তান, আবার কখনো একই পরিবারের তিন থেকে সাতজন কিংবা আরও বেশি সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮৫ জন। ফলে এই সংখ্যাকে পূর্ণাঙ্গ বা চূড়ান্ত পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বুয়েটের এআরআইয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনা একটি জটিল ব্যাধি, তবে এর চিকিৎসায় যে পদ্ধতি নেওয়া হচ্ছে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানসম্মত নয়। তিনি বলেন, নিবন্ধনবিহীন অটোরিকশার মহাসড়কে চলাচল আমাদের দেশের সার্বিক অনিয়মের প্রতিফলন। পুরো পরিবারের প্রাণহানির ঘটনা যে বাড়ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সড়ক দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, সড়কে কী এভাবে নিবন্ধনবিহীন অটোরিকশা চলবে। যানবাহন ও সড়ক ব্যবস্থাপনার নানা দুর্বলতাও এ ধরনের প্রাণহানির পেছনে ভূমিকা রাখছে।

এই দুর্ঘটনার পেছনে যানবাহনের ফিটনেস না থাকা, চালকদের অদক্ষতা, বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো, মোটরসাইকেলে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা এবং ট্রাফিক আইন না মানাকে দায়ী করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে যাতায়াতের প্রবণতাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আগের দিনও এই মাঠে তাঁরা হাসি–আনন্দে সময় কাটিয়েছেন শিক্ষার্থী ও সহকর্মী শিক্ষকদের সঙ্গে।

দুর্ঘটনা কমিয়ে প্রাণহানি রোধে মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ, গ্রামীণ সড়কের সাথে নিরাপদ সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত নজরদারির সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এছাড়া সড়ক ব্যবস্থাপনা সংস্থাসমূহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ না থেকে, দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, কারণ প্রতিটি মৃত্যুই একটি পরিবারের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়।