Hi

০৮:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা ও সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা তুরস্কের

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা করেছে তুরস্ক। এ লক্ষ্যে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রিয়াদে অতিরিক্ত সেনা ও অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তুরস্কের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা। গত সোমবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে মক্কা জোটের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যৌথ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর অংশ হিসেবে খুব দ্রুত সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা ও বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

তুরস্কের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গত বছর থেকেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষায় আঙ্কারা কারিগরি দল, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন রেখেছে। এবার এই সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জ্যেষ্ঠ এক তুর্কি কর্মকর্তা জানান, নতুন করে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, কারিগরি কর্মী, জরুরি সাড়া দেওয়ার বিশেষ দল এবং যুদ্ধসক্ষম সেনাসদস্য সৌদি আরবে পাঠানো হবে। ২০১০ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় সীমিত পরিসরে সেনাসদস্য পাঠানো সম্ভব হলেও, বড় আকারের সেনা মোতায়েনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। মক্কা কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় প্রকল্পটির প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল।’। একই সঙ্গে তুরস্ক যে ঝুঁকি নেবে এবং সামরিকভাবে যতটা সম্পৃক্ত হবে, সেটিও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখা সম্ভব হবে।’।

তুরস্কের প্রেসিডেন্সির পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য মুরাত ইয়েসিলতাশ জানিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দেশটির গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে মক্কা চুক্তি এবং সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে। তবে এই সেনা পাঠানোর উদ্দেশ্য কেবলই আত্মরক্ষামূলক সহায়তা প্রদান। আঙ্কারার পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্তত একটি কমান্ড ঘাঁটিতে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সামরিক বাহিনী মোতায়েনের বিলটিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এর মাধ্যমে রিয়াদ, পবিত্র শহরগুলো এবং পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় অংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে তুর্কি কর্তৃপক্ষের। পাশাপাশি তারা রিয়াদ ও দেশটির পবিত্র শহরগুলোর প্রতিরক্ষাতেও ভূমিকা রাখবে।

পার্লামেন্টের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পর সৌদি আরবে অভিজ্ঞ পাইলট ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তবে ঠিক কতজন পাইলট বা কতটি বিমান পাঠানো হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। তুর্কি বাহিনী সৌদি ও পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে একটি যৌথ সমন্বয় ঘাঁটিতে কাজ করবে এবং তাদের নিজস্ব কমান্ড ইউনিটের জন্য আলাদা একটি ঘাঁটিও থাকবে। তুর্কি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, তারা বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন না এবং ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছাও নেই। তাদের প্রত্যাশা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তিটিও আমাদের অনুমোদন করতে হবে। এসব বাহিনীর কাজ হবে ইয়েমেনে থাকা হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা।

মুরাত ইয়েসিলতাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, তুরস্কের প্রাথমিক সামরিক সম্পৃক্ততা আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি। মূলত রিয়াদের নিরাপত্তার সাথে যুক্ত হয়ে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করাই আঙ্কারার মূল লক্ষ্য। পুরো সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে কমান্ড ঘাঁটি প্রকল্পের কারিগরি দলগুলো সৌদি আরবে তাদের কার্যক্রম চালিয়েছে এবং প্রকল্পটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন কেবল তুরস্কের আইনসভার অনুমোদনের অপেক্ষাতেই পুরো প্রক্রিয়াটি ঝুলে আছে।

জনপ্রিয়

সরকারিভাবে পালিত হবে মোট ৯২টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা ও সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা তুরস্কের

আপডেট : ০৭:২৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা করেছে তুরস্ক। এ লক্ষ্যে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রিয়াদে অতিরিক্ত সেনা ও অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তুরস্কের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা। গত সোমবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে মক্কা জোটের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যৌথ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর অংশ হিসেবে খুব দ্রুত সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা ও বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

তুরস্কের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গত বছর থেকেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষায় আঙ্কারা কারিগরি দল, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন রেখেছে। এবার এই সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জ্যেষ্ঠ এক তুর্কি কর্মকর্তা জানান, নতুন করে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, কারিগরি কর্মী, জরুরি সাড়া দেওয়ার বিশেষ দল এবং যুদ্ধসক্ষম সেনাসদস্য সৌদি আরবে পাঠানো হবে। ২০১০ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় সীমিত পরিসরে সেনাসদস্য পাঠানো সম্ভব হলেও, বড় আকারের সেনা মোতায়েনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। মক্কা কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় প্রকল্পটির প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল।’। একই সঙ্গে তুরস্ক যে ঝুঁকি নেবে এবং সামরিকভাবে যতটা সম্পৃক্ত হবে, সেটিও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখা সম্ভব হবে।’।

তুরস্কের প্রেসিডেন্সির পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য মুরাত ইয়েসিলতাশ জানিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দেশটির গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে মক্কা চুক্তি এবং সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে। তবে এই সেনা পাঠানোর উদ্দেশ্য কেবলই আত্মরক্ষামূলক সহায়তা প্রদান। আঙ্কারার পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্তত একটি কমান্ড ঘাঁটিতে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সামরিক বাহিনী মোতায়েনের বিলটিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এর মাধ্যমে রিয়াদ, পবিত্র শহরগুলো এবং পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় অংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে তুর্কি কর্তৃপক্ষের। পাশাপাশি তারা রিয়াদ ও দেশটির পবিত্র শহরগুলোর প্রতিরক্ষাতেও ভূমিকা রাখবে।

পার্লামেন্টের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পর সৌদি আরবে অভিজ্ঞ পাইলট ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তবে ঠিক কতজন পাইলট বা কতটি বিমান পাঠানো হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। তুর্কি বাহিনী সৌদি ও পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে একটি যৌথ সমন্বয় ঘাঁটিতে কাজ করবে এবং তাদের নিজস্ব কমান্ড ইউনিটের জন্য আলাদা একটি ঘাঁটিও থাকবে। তুর্কি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, তারা বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন না এবং ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছাও নেই। তাদের প্রত্যাশা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তিটিও আমাদের অনুমোদন করতে হবে। এসব বাহিনীর কাজ হবে ইয়েমেনে থাকা হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা।

মুরাত ইয়েসিলতাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, তুরস্কের প্রাথমিক সামরিক সম্পৃক্ততা আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি। মূলত রিয়াদের নিরাপত্তার সাথে যুক্ত হয়ে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করাই আঙ্কারার মূল লক্ষ্য। পুরো সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে কমান্ড ঘাঁটি প্রকল্পের কারিগরি দলগুলো সৌদি আরবে তাদের কার্যক্রম চালিয়েছে এবং প্রকল্পটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন কেবল তুরস্কের আইনসভার অনুমোদনের অপেক্ষাতেই পুরো প্রক্রিয়াটি ঝুলে আছে।