Hi

০৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি-আমিরাত সম্পর্কের বরফ গলছে: বাড়ছে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্কে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা এই গুঞ্জনকে আরও জোরালো করে তুলেছে। বিশেষ করে রিয়াদ ও আবুধাবির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুই দেশ আবারও আঞ্চলিক সহযোগিতার পথে এগোচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু তৎপরতায় তেমন ইঙ্গিতই মিলছে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রধানমন্ত্রী মনসুর বিন জায়েদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই সফরকে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছে আমিরাতের প্রধান জাতীয় দৈনিক ‘দ্য ন্যাশনাল’। বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির মহাসচিব আলী আল শামসি এবং ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি, ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান আলী আল নেয়াদিসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এক সময় এই দুই দেশ ইয়েমেন সংকট নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে ছিল। ইরান-সমর্থিত হুথিদের দমনে তারা একসময় জোটবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে ইয়েমেনের সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে মতবিরোধ তৈরি হয়। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল ও হোদেইদাহ বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমিরাতের কৌশল ও সৌদি আরবের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পার্থক্য দেখা দেয়। এমনকি ওপেক থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার মতো সাহসী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয়ে ভিন্নমত দুই দেশের দূরত্ব বাড়িয়েছিল। দৃশ্যত মনে হচ্ছিল তারা যেন চিরকালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সৌদিরা ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেয় আর আমিরাত ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে (এসটিসি)’ সহায়তা করে। আমিরাতের কাছে যখন হোদেইদাহ বন্দরসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চল নিরাপদ মনে হওয়া শুরু করল, তখন তারা যুদ্ধ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। অথচ সৌদি আরব হুথিদের হাত থেকে পুরো ইয়েমেনকে মুক্ত করতে চেয়েছিল।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডের আওতায় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়েও দেশ দুটির পথে ছিল পার্থক্য। তবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফরের পরদিনই মনসুর বিন জায়েদ সৌদি সফরে যান। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই বৈঠকে কেবল দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়, বরং ইরান ও হুথিদের মতো যৌথ হুমকির বিরুদ্ধে একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বর্তমানে রিয়াদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইরান-সমর্থিত হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও কৌশলগত অবকাঠামোর জন্য নিয়মিত হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’র মাধ্যমে নিরাপত্তা বলয় তৈরির চেষ্টা করলেও তা প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি নাকচ করায় রিয়াদ এখন চীনের মধ্যস্থতায় ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে বর্তমানে হুথির হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে ইসরাইলের পরিবর্তে পাকিস্তান ও পুরোনো শত্রু তুরস্কের দিকে ঝুঁকেছে রিয়াদ।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত বুধবার শুরা কাউন্সিলে দেওয়া ভাষণে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে অবিচ্ছেদ্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর ওপর চালানো হামলা প্রমাণ করে যে সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

চলতি বছরের জুলাই মাসে সৌদি ন্যাশনাল মিডিয়া অথরিটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল্লাহ আল হামেদ দুই দেশের সম্পর্ককে অটুট বন্ধন হিসেবে আখ্যা দেন। এরপর আগস্টে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ সৌদি বাদশাহ সালমানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাকে ডিসেম্বরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের পানিবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এটিও তাদের পুনর্মিলনের একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ইরান-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। রিয়াদ এখন আর ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে যেতে আগ্রহী নয়, বরং ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে তাদের মিত্রদের দুর্বল করার কৌশলে মনোযোগ দিচ্ছে। যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজেদের অবস্থান সমন্বয়ের লক্ষ্যে উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রায়ই যাতায়াত করে থাকেন।’।

১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে যে জিসিসি গঠিত হয়েছিল, আজ ইরান ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বিপরীতে সেই ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে অনুভূত হচ্ছে। যদিও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর জিসিসির সম্মিলিত দাবি সৌদি বা আমিরাতের একক দাবির চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে, তবুও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

ভবিষ্যতে তুরস্কের এরদোয়ান ইস্যু কিংবা মুসলিম ব্রাদারহুড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নীতিগত মিল থাকা দুই দেশের জন্য এখন সময়ের দাবি হলো অতীতের দ্বন্দ্ব ভুলে এক কাতারে আসা। মোহাম্মদ বিন সালমানের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে পুনরায় ঘনিষ্ঠতা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক ইঙ্গিত বহন করছে।

জনপ্রিয়

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সৌদি-আমিরাত সম্পর্কের বরফ গলছে: বাড়ছে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ

আপডেট : ০১:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্কে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা এই গুঞ্জনকে আরও জোরালো করে তুলেছে। বিশেষ করে রিয়াদ ও আবুধাবির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুই দেশ আবারও আঞ্চলিক সহযোগিতার পথে এগোচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু তৎপরতায় তেমন ইঙ্গিতই মিলছে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রধানমন্ত্রী মনসুর বিন জায়েদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই সফরকে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছে আমিরাতের প্রধান জাতীয় দৈনিক ‘দ্য ন্যাশনাল’। বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির মহাসচিব আলী আল শামসি এবং ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি, ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান আলী আল নেয়াদিসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এক সময় এই দুই দেশ ইয়েমেন সংকট নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে ছিল। ইরান-সমর্থিত হুথিদের দমনে তারা একসময় জোটবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে ইয়েমেনের সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে মতবিরোধ তৈরি হয়। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল ও হোদেইদাহ বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমিরাতের কৌশল ও সৌদি আরবের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পার্থক্য দেখা দেয়। এমনকি ওপেক থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার মতো সাহসী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয়ে ভিন্নমত দুই দেশের দূরত্ব বাড়িয়েছিল। দৃশ্যত মনে হচ্ছিল তারা যেন চিরকালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সৌদিরা ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেয় আর আমিরাত ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে (এসটিসি)’ সহায়তা করে। আমিরাতের কাছে যখন হোদেইদাহ বন্দরসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চল নিরাপদ মনে হওয়া শুরু করল, তখন তারা যুদ্ধ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। অথচ সৌদি আরব হুথিদের হাত থেকে পুরো ইয়েমেনকে মুক্ত করতে চেয়েছিল।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডের আওতায় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়েও দেশ দুটির পথে ছিল পার্থক্য। তবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফরের পরদিনই মনসুর বিন জায়েদ সৌদি সফরে যান। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই বৈঠকে কেবল দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়, বরং ইরান ও হুথিদের মতো যৌথ হুমকির বিরুদ্ধে একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বর্তমানে রিয়াদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইরান-সমর্থিত হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও কৌশলগত অবকাঠামোর জন্য নিয়মিত হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’র মাধ্যমে নিরাপত্তা বলয় তৈরির চেষ্টা করলেও তা প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি নাকচ করায় রিয়াদ এখন চীনের মধ্যস্থতায় ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে বর্তমানে হুথির হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে ইসরাইলের পরিবর্তে পাকিস্তান ও পুরোনো শত্রু তুরস্কের দিকে ঝুঁকেছে রিয়াদ।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত বুধবার শুরা কাউন্সিলে দেওয়া ভাষণে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে অবিচ্ছেদ্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর ওপর চালানো হামলা প্রমাণ করে যে সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

চলতি বছরের জুলাই মাসে সৌদি ন্যাশনাল মিডিয়া অথরিটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল্লাহ আল হামেদ দুই দেশের সম্পর্ককে অটুট বন্ধন হিসেবে আখ্যা দেন। এরপর আগস্টে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ সৌদি বাদশাহ সালমানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাকে ডিসেম্বরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের পানিবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এটিও তাদের পুনর্মিলনের একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ইরান-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। রিয়াদ এখন আর ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে যেতে আগ্রহী নয়, বরং ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে তাদের মিত্রদের দুর্বল করার কৌশলে মনোযোগ দিচ্ছে। যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজেদের অবস্থান সমন্বয়ের লক্ষ্যে উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রায়ই যাতায়াত করে থাকেন।’।

১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে যে জিসিসি গঠিত হয়েছিল, আজ ইরান ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বিপরীতে সেই ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে অনুভূত হচ্ছে। যদিও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর জিসিসির সম্মিলিত দাবি সৌদি বা আমিরাতের একক দাবির চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে, তবুও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

ভবিষ্যতে তুরস্কের এরদোয়ান ইস্যু কিংবা মুসলিম ব্রাদারহুড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নীতিগত মিল থাকা দুই দেশের জন্য এখন সময়ের দাবি হলো অতীতের দ্বন্দ্ব ভুলে এক কাতারে আসা। মোহাম্মদ বিন সালমানের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে পুনরায় ঘনিষ্ঠতা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক ইঙ্গিত বহন করছে।