চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়ে আত্মগোপনের চেষ্টা চালায়। পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের অবস্থান ও অস্ত্রের মজুতের খবর পেয়ে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের এক পর্যায়ে পাল্টা তৎপরতা চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াছিনের পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পুলিশ একটি বিদেশি পিস্তল, একটি শটগান এবং ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। অভিযানের সময় কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকা মূলত ইয়াছিন বাহিনীর একক নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়। এই পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা এবং প্লট বিক্রির মাধ্যমে আধিপত্য বজায় রেখে আসছে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি এলাকায় জমি দখল, পাহাড় কাটা, প্লট বিক্রি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে; যার মধ্যে ইয়াছিন বাহিনী অন্যতম।
এর আগে ২০২৬ সালের ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের অংশগ্রহণে ওই অভিযানে ২২ জন গ্রেপ্তার হলেও শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন ও রোকন উদ্দিন সেসময় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বর্তমানের এই অভিযানটি ওই এলাকার অপরাধ চক্র দমনে পুলিশের ধারাবাহিক কার্যক্রমেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও ইয়াছিন ও রোকন উদ্দিনসহ শীর্ষ কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
রিপোর্টার নাম: 























