Hi

০৬:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী হেনরি কাগন ও কেনসো

অণুর দুটি পরস্পর বিপরীত প্রতিচ্ছবির মধ্যে জীবনের জন্য কেন একটি রূপই প্রধান—দীর্ঘদিনের এই রাসায়নিক রহস্যের জট খোলার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি কাগন ও জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই। বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটির মতে, জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্বয়ংক্রিয় অনুঘটন প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য তাদের এই সম্মানজনক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

রসায়নশাস্ত্রে অ্যামিনো অ্যাসিডসহ কিছু অণু দুটি আয়না-প্রতিচ্ছবি রূপে থাকতে পারে। দেখতে একই হলেও এ দুটি রূপ রাসায়নিকভাবে ভিন্ন। অথচ জীবদেহে সাধারণত এদের একটি রূপই দেখা যায়, যে বৈশিষ্ট্যকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘হোমোকাইরালিটি’ বলা হয়। কেন জীবনের রসায়ন কেবল একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি বেছে নিয়েছে, তা দীর্ঘকাল ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় রহস্য ছিল। দুই বিজ্ঞানীর গবেষণা এই রহস্যের সমাধান সহজ করেছে।

গবেষণার ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হেনরি কাগন ১৯৮৬ সালে এমন একটি রাসায়নিক পদ্ধতি প্রদর্শন করেন, যার মাধ্যমে একটি প্রতিচ্ছবি তৈরির ওপর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। পরে কেনসো সোয়াই ১৯৯৫ সালে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়ার নকশা নিয়ে গবেষণা প্রকাশ করেন, যেখানে একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি তৈরির সম্ভাবনা দেখা যায়। এরপর ২০০৩ সালে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি তৈরির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন।

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব কেবল তাত্ত্বিক রসায়নেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং চিকিৎসা ও ওষুধ শিল্পে এর বিশাল অবদান রয়েছে। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে অণুর সঠিক প্রতিচ্ছবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ একই উপাদানের দুটি প্রতিচ্ছবির একটি কাঙ্ক্ষিত উপশম দিতে পারে এবং অন্যটি মানবদেহে মারাত্মক ক্ষতিকর আচরণ করতে পারে। উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালে ধাতু-জৈব কাঠামো উদ্ভাবনের জন্য সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর এম ইয়াগি রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন।

জনপ্রিয়

শারদীয় দুর্গাপূজায় ৩ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী হেনরি কাগন ও কেনসো

আপডেট : ০৪:৫২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

অণুর দুটি পরস্পর বিপরীত প্রতিচ্ছবির মধ্যে জীবনের জন্য কেন একটি রূপই প্রধান—দীর্ঘদিনের এই রাসায়নিক রহস্যের জট খোলার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি কাগন ও জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই। বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটির মতে, জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্বয়ংক্রিয় অনুঘটন প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য তাদের এই সম্মানজনক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

রসায়নশাস্ত্রে অ্যামিনো অ্যাসিডসহ কিছু অণু দুটি আয়না-প্রতিচ্ছবি রূপে থাকতে পারে। দেখতে একই হলেও এ দুটি রূপ রাসায়নিকভাবে ভিন্ন। অথচ জীবদেহে সাধারণত এদের একটি রূপই দেখা যায়, যে বৈশিষ্ট্যকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘হোমোকাইরালিটি’ বলা হয়। কেন জীবনের রসায়ন কেবল একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি বেছে নিয়েছে, তা দীর্ঘকাল ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় রহস্য ছিল। দুই বিজ্ঞানীর গবেষণা এই রহস্যের সমাধান সহজ করেছে।

গবেষণার ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হেনরি কাগন ১৯৮৬ সালে এমন একটি রাসায়নিক পদ্ধতি প্রদর্শন করেন, যার মাধ্যমে একটি প্রতিচ্ছবি তৈরির ওপর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। পরে কেনসো সোয়াই ১৯৯৫ সালে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়ার নকশা নিয়ে গবেষণা প্রকাশ করেন, যেখানে একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি তৈরির সম্ভাবনা দেখা যায়। এরপর ২০০৩ সালে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি তৈরির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন।

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব কেবল তাত্ত্বিক রসায়নেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং চিকিৎসা ও ওষুধ শিল্পে এর বিশাল অবদান রয়েছে। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে অণুর সঠিক প্রতিচ্ছবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ একই উপাদানের দুটি প্রতিচ্ছবির একটি কাঙ্ক্ষিত উপশম দিতে পারে এবং অন্যটি মানবদেহে মারাত্মক ক্ষতিকর আচরণ করতে পারে। উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালে ধাতু-জৈব কাঠামো উদ্ভাবনের জন্য সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর এম ইয়াগি রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন।