Hi

১২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজয়া দশমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর, শেষ হচ্ছে দুর্গাপূজা

অশ্রুসজল বিদায়ের করুণ সুর আর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ সমাপ্তি ঘটছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার। গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই মহোৎসব আজ বিজয়া দশমীতে আনুষ্ঠানিক ইতি টানছে। মহানবমীর আরতি শেষে গতকালই বিদায়ের আবহ তৈরি হয়েছিল, আর আজ মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে পতিগৃহে ফিরে যাচ্ছেন দেবী দুর্গা। গতকাল মহানবমীর পূজা ও সন্ধ্যার উদ্দীপনাময় আরতির পরেই যেন চারপাশে বাজতে শুরু করেছিল বিদায়ের ঘণ্টা। আনন্দের দিনগুলো শেষ হলেও সবার মনে রেখে যাচ্ছেন আগামী বছরের প্রতিক্ষা আর নতুন আশার আলো।

এ বছর ৬ দিনব্যাপী চলা দুর্গাপূজায় দেশের প্রতিটি মন্দির মুখরিত ছিল ঢাক, ঢোল, কাঁসর ও শঙ্খের ধ্বনিতে। মন্দিরে মন্দিরে মন্ত্রোচ্চারণ ও প্রার্থনার মাধ্যমে বিশ্বের অশুভ শক্তি বিনাশের কামনা করেছেন ভক্তরা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিরাপত্তার খাতিরে সন্ধ্যার আগেই আজ প্রতিমা বিসর্জনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বছরান্তে দেবী দুর্গার আগমনে এ বছর ৬ দিন দেশের প্রতিটি মন্দিরে বিরাজ করছিল আনন্দ আর উদ্দীপনাময় এক পরিবেশ।

এ বছর পূজার ছুটি নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে ছুটির মেয়াদ তিন দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ। টানা পাঁচ দিনের এই ছুটি উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পূজাতে টানা ৫ দিনের এই ছুটি উৎসবের আনন্দ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে নৈসর্গিক নির্জনতা।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনগুলো হিন্দু সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উৎসব দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় করে। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আজ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকেই তুলে ধরে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বিজয়া দশমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর, শেষ হচ্ছে দুর্গাপূজা

আপডেট : ১০:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

অশ্রুসজল বিদায়ের করুণ সুর আর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ সমাপ্তি ঘটছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার। গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই মহোৎসব আজ বিজয়া দশমীতে আনুষ্ঠানিক ইতি টানছে। মহানবমীর আরতি শেষে গতকালই বিদায়ের আবহ তৈরি হয়েছিল, আর আজ মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে পতিগৃহে ফিরে যাচ্ছেন দেবী দুর্গা। গতকাল মহানবমীর পূজা ও সন্ধ্যার উদ্দীপনাময় আরতির পরেই যেন চারপাশে বাজতে শুরু করেছিল বিদায়ের ঘণ্টা। আনন্দের দিনগুলো শেষ হলেও সবার মনে রেখে যাচ্ছেন আগামী বছরের প্রতিক্ষা আর নতুন আশার আলো।

এ বছর ৬ দিনব্যাপী চলা দুর্গাপূজায় দেশের প্রতিটি মন্দির মুখরিত ছিল ঢাক, ঢোল, কাঁসর ও শঙ্খের ধ্বনিতে। মন্দিরে মন্দিরে মন্ত্রোচ্চারণ ও প্রার্থনার মাধ্যমে বিশ্বের অশুভ শক্তি বিনাশের কামনা করেছেন ভক্তরা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিরাপত্তার খাতিরে সন্ধ্যার আগেই আজ প্রতিমা বিসর্জনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বছরান্তে দেবী দুর্গার আগমনে এ বছর ৬ দিন দেশের প্রতিটি মন্দিরে বিরাজ করছিল আনন্দ আর উদ্দীপনাময় এক পরিবেশ।

এ বছর পূজার ছুটি নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে ছুটির মেয়াদ তিন দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ। টানা পাঁচ দিনের এই ছুটি উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পূজাতে টানা ৫ দিনের এই ছুটি উৎসবের আনন্দ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে নৈসর্গিক নির্জনতা।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনগুলো হিন্দু সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উৎসব দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় করে। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আজ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকেই তুলে ধরে।