Hi

০৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে বিক্ষোভের ছবি তোলার সময় নারী সাংবাদিককে পুলিশের যৌন

নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবার এক বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে উঠে এসেছে ভয়াবহ অভিযোগ। সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন নারী সাংবাদিক পুলিশের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা ওই বিক্ষোভে পুলিশ যখন আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়, তখন সেই দৃশ্য ধারণ করার সময় একজন সহকারী কমিশনার (এসিপি) এক নারী সাংবাদিককে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। একটি এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী) দায়েরের দাবিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সেখানে শত শত সাংবাদিক বসে আছেন।

ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তাঁর সহকর্মীরা থানায় মামলা দায়ের করতে যান। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের মামলা গ্রহণ করতে গড়িমসি করেছে। এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের দাবি, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগ অপরাধ তদন্ত শাখায় (ক্রাইম ব্রাঞ্চ) স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা যেন কোনো ধরনের হামলা ও হুমকির মুখোমুখি না হয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।’।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের এমন আচরণে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (পিসিআই)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদকর্মীদের সাথে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। সাংবাদিকদের ভয়ভীতিহীন পরিবেশে কাজ করার অধিকার দেশের রাজধানীতেই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, যা ভারতের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত। পিসিআই দ্রুত অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের কোনো ভয়ভীতি ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করার ও বিভিন্ন দাবিতে জড়ো হওয়া মানুষের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ দিতে হবে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ ও জবাবদিহিতা চেয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল লিখেছেন, দিল্লি পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। একজন নারী সাংবাদিকের এফআইআর নথিভুক্ত করতে পুলিশের এই গড়িমসি প্রমাণ করে যে সরকার কাদের সুরক্ষা দিতে চায়।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, শুধুমাত্র শনিবার যন্তর মন্তর থেকে শত শত মানুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কেবল সাংবাদিকরাই নন, নারী আন্দোলনকারীদের সাথেও পুলিশের অসদাচরণের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া ও টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো আগের অমানবিক আচরণেরই পুনরাবৃত্তি।

নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা নারী ও শিক্ষার্থীরা যখন সেখানে সত্যাগ্রহ আন্দোলন করছেন, তখন তাঁদের রক্ষাকারী পুলিশই কেন তাঁদের ওপর হাত তুলছে—সেই প্রশ্ন রেখেছেন বিরোধী এই নেতা। তিনি অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, সরকার যদি ভুক্তভোগীর অভিযোগ নিতেই ভয় পায়, তবে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে কোথায়? এই ঘটনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবশ্যই জাতির কাছে জবাব দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জনপ্রিয়

ঢাকার সিএমএম আদালতে বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

দিল্লিতে বিক্ষোভের ছবি তোলার সময় নারী সাংবাদিককে পুলিশের যৌন

আপডেট : ০৩:৫৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবার এক বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে উঠে এসেছে ভয়াবহ অভিযোগ। সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন নারী সাংবাদিক পুলিশের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা ওই বিক্ষোভে পুলিশ যখন আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়, তখন সেই দৃশ্য ধারণ করার সময় একজন সহকারী কমিশনার (এসিপি) এক নারী সাংবাদিককে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। একটি এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী) দায়েরের দাবিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সেখানে শত শত সাংবাদিক বসে আছেন।

ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তাঁর সহকর্মীরা থানায় মামলা দায়ের করতে যান। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের মামলা গ্রহণ করতে গড়িমসি করেছে। এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের দাবি, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগ অপরাধ তদন্ত শাখায় (ক্রাইম ব্রাঞ্চ) স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা যেন কোনো ধরনের হামলা ও হুমকির মুখোমুখি না হয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।’।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের এমন আচরণে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (পিসিআই)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদকর্মীদের সাথে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। সাংবাদিকদের ভয়ভীতিহীন পরিবেশে কাজ করার অধিকার দেশের রাজধানীতেই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, যা ভারতের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত। পিসিআই দ্রুত অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের কোনো ভয়ভীতি ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করার ও বিভিন্ন দাবিতে জড়ো হওয়া মানুষের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ দিতে হবে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ ও জবাবদিহিতা চেয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল লিখেছেন, দিল্লি পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। একজন নারী সাংবাদিকের এফআইআর নথিভুক্ত করতে পুলিশের এই গড়িমসি প্রমাণ করে যে সরকার কাদের সুরক্ষা দিতে চায়।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, শুধুমাত্র শনিবার যন্তর মন্তর থেকে শত শত মানুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কেবল সাংবাদিকরাই নন, নারী আন্দোলনকারীদের সাথেও পুলিশের অসদাচরণের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া ও টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো আগের অমানবিক আচরণেরই পুনরাবৃত্তি।

নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা নারী ও শিক্ষার্থীরা যখন সেখানে সত্যাগ্রহ আন্দোলন করছেন, তখন তাঁদের রক্ষাকারী পুলিশই কেন তাঁদের ওপর হাত তুলছে—সেই প্রশ্ন রেখেছেন বিরোধী এই নেতা। তিনি অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, সরকার যদি ভুক্তভোগীর অভিযোগ নিতেই ভয় পায়, তবে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে কোথায়? এই ঘটনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবশ্যই জাতির কাছে জবাব দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।