Hi

১২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনার দাকোপ ও মোংলা সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ জন দেখেছে

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা দাকোপে আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আগমন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য দাকোপের নলিয়ানে একটি হেলিপ্যাড তৈরি করার পাশাপাশি এলাকার প্রধান সড়কগুলোর উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এবং পুরো অঞ্চলটিকে কড়া নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। দেশের ইতিহাসের প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর মোংলা বন্দর ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় অধিবাসী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রবল উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। নদীভাঙন রোধ, পানীয় জলের সংকট নিরসন, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগের অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে বড় ধরনের পদক্ষেপ আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উন্নয়নের সম্ভাবনায় যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থান এবার সরেজমিন দেখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করে পুরো এলাকাকে আনা হয়েছে নজরদারির আওতায়। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান সরাসরি মোংলা বন্দর ও এর সংলগ্ন জনপদ পরিদর্শনে আসছেন, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি করেছে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা ও উৎসাহ।

এর আগে সফরের প্রশাসনিক আয়োজন সরেজমিনে তদারকি করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান। খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান জানান, সফরটি সরকারি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে কোনো অনুষ্ঠান না থাকলেও প্রশাসনিকভাবে বিস্তৃত আয়োজন রাখা হয়েছে এবং স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীকে দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার কথা নিশ্চিত করেন। একইসঙ্গে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার ড. ওমর ফারুক সরকার সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বাড়তি পুলিশ পুলিশ বলয় গড়ে তোলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতও সফরটি সুশৃঙ্খল রাখতে সমন্বিত ব্যবস্থার কথা জানান।

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকার বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরবনের পথে যাত্রা করবেন। আকাশপথে সকাল ১০টার দিকে তিনি হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবনের একাংশ পরিদর্শন শেষ করে ১০টা ৩০ মিনিটে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নামবেন। পরবর্তীতে তিনি সড়কপথে লঞ্চঘাটে গিয়ে নৌযোগে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন। দুপুরে বানৌজা মোংলা জেটিতে পৌঁছে মধ্যাহ্ন বিরতির পর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে একটি বৈঠকে যোগ দেবেন। এরপর অপরাহ্ণে তিনি মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম, প্রস্তাবিত নতুন জেটি এবং বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন ঘুরে দেখবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি সমাপন শেষে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বিকেল ৫টায় রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একদিকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন, অন্যদিকে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

সুন্দরবন অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ এলাকাগুলোতে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট তদারকি ও নিরাপত্তা বেষ্টনী। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ ও সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ নির্মাণের একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে। গত আগস্টে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের পরিদর্শনের পর আজ প্রধানমন্ত্রী স্থানটি দেখবেন, যার ভিত্তিতে পরবর্তী সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ এগোবে। টার্মিনাল করার লক্ষ্য নিয়ে গত আগস্ট মাসে আকরাম পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শন করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী, বিদ্যুৎমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। প্রাথমিকভাবে স্থান নির্বাচন হলে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ অন্যান্য কাজ শুরু হবে। পরিদর্শন করবেন চায়না বিনিয়োগ ভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবন ও মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য ও অর্থায়নের বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুলফিকার আলী উল্লেখ করেন, চীন সরকারের সহায়তায় নতুন জেটি নির্মাণের নির্ধারিত স্থানটি প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন করবেন। তিনি আরও দাবি তোলেন, বড় আকৃতির জাহাজ চলাচলের সুযোগ তৈরি করতে যেন নিয়মিত চ্যানেল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বজায় রাখা হয়। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই সঠিকভাবে যেন বন্দর চ্যানেল ড্রেজিং হয়, যাতে নাব্যতা বাড়ে, তাহলে বড় বড় জাহাজ এ বন্দরে আসতে পারবে।

উল্লেখ্য, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার ও চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (এক্সিম ব্যাংক) মধ্যে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৩,৫৯২ কোটি ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা) একটি বড় ঋণচুক্তি সম্পন্ন হয়। ১২ অক্টোবর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জানায়, চুক্তি অনুযায়ী চীন সরকারের পক্ষ থেকে ২ দশমিক ৪০৪ বিলিয়ন আরএমবি ঋণ প্রদান করা হবে, যা বাস্তবায়নে কাজ করছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ইআরডির যুগ্মসচিব আলিয়া মেহের এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ফেংজুন তিয়ান। এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সরঞ্জামসহ দুটি আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার ইয়ার্ড, ডেলিভারি ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড গড়ে তোলা হবে।

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে পর্যটকদের মর্মান্তিক মৃত্যু, নিখোঁজ ১

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

খুলনার দাকোপ ও মোংলা সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট : ১১:০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা দাকোপে আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আগমন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য দাকোপের নলিয়ানে একটি হেলিপ্যাড তৈরি করার পাশাপাশি এলাকার প্রধান সড়কগুলোর উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এবং পুরো অঞ্চলটিকে কড়া নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। দেশের ইতিহাসের প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর মোংলা বন্দর ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় অধিবাসী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রবল উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। নদীভাঙন রোধ, পানীয় জলের সংকট নিরসন, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগের অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে বড় ধরনের পদক্ষেপ আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উন্নয়নের সম্ভাবনায় যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থান এবার সরেজমিন দেখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করে পুরো এলাকাকে আনা হয়েছে নজরদারির আওতায়। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান সরাসরি মোংলা বন্দর ও এর সংলগ্ন জনপদ পরিদর্শনে আসছেন, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি করেছে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা ও উৎসাহ।

এর আগে সফরের প্রশাসনিক আয়োজন সরেজমিনে তদারকি করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান। খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান জানান, সফরটি সরকারি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে কোনো অনুষ্ঠান না থাকলেও প্রশাসনিকভাবে বিস্তৃত আয়োজন রাখা হয়েছে এবং স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীকে দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার কথা নিশ্চিত করেন। একইসঙ্গে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার ড. ওমর ফারুক সরকার সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বাড়তি পুলিশ পুলিশ বলয় গড়ে তোলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতও সফরটি সুশৃঙ্খল রাখতে সমন্বিত ব্যবস্থার কথা জানান।

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকার বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরবনের পথে যাত্রা করবেন। আকাশপথে সকাল ১০টার দিকে তিনি হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবনের একাংশ পরিদর্শন শেষ করে ১০টা ৩০ মিনিটে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নামবেন। পরবর্তীতে তিনি সড়কপথে লঞ্চঘাটে গিয়ে নৌযোগে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন। দুপুরে বানৌজা মোংলা জেটিতে পৌঁছে মধ্যাহ্ন বিরতির পর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে একটি বৈঠকে যোগ দেবেন। এরপর অপরাহ্ণে তিনি মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম, প্রস্তাবিত নতুন জেটি এবং বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন ঘুরে দেখবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি সমাপন শেষে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বিকেল ৫টায় রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একদিকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন, অন্যদিকে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

সুন্দরবন অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ এলাকাগুলোতে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট তদারকি ও নিরাপত্তা বেষ্টনী। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ ও সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ নির্মাণের একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে। গত আগস্টে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের পরিদর্শনের পর আজ প্রধানমন্ত্রী স্থানটি দেখবেন, যার ভিত্তিতে পরবর্তী সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ এগোবে। টার্মিনাল করার লক্ষ্য নিয়ে গত আগস্ট মাসে আকরাম পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শন করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী, বিদ্যুৎমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। প্রাথমিকভাবে স্থান নির্বাচন হলে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ অন্যান্য কাজ শুরু হবে। পরিদর্শন করবেন চায়না বিনিয়োগ ভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবন ও মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য ও অর্থায়নের বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুলফিকার আলী উল্লেখ করেন, চীন সরকারের সহায়তায় নতুন জেটি নির্মাণের নির্ধারিত স্থানটি প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন করবেন। তিনি আরও দাবি তোলেন, বড় আকৃতির জাহাজ চলাচলের সুযোগ তৈরি করতে যেন নিয়মিত চ্যানেল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বজায় রাখা হয়। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই সঠিকভাবে যেন বন্দর চ্যানেল ড্রেজিং হয়, যাতে নাব্যতা বাড়ে, তাহলে বড় বড় জাহাজ এ বন্দরে আসতে পারবে।

উল্লেখ্য, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার ও চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (এক্সিম ব্যাংক) মধ্যে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৩,৫৯২ কোটি ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা) একটি বড় ঋণচুক্তি সম্পন্ন হয়। ১২ অক্টোবর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জানায়, চুক্তি অনুযায়ী চীন সরকারের পক্ষ থেকে ২ দশমিক ৪০৪ বিলিয়ন আরএমবি ঋণ প্রদান করা হবে, যা বাস্তবায়নে কাজ করছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ইআরডির যুগ্মসচিব আলিয়া মেহের এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ফেংজুন তিয়ান। এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সরঞ্জামসহ দুটি আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার ইয়ার্ড, ডেলিভারি ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড গড়ে তোলা হবে।