Hi

০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় তিন কিশোর গ্যাংয়ের প্রধানসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার

কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচজন মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। রবিবার পরিচালিত এসব পৃথক অভিযানে কুমিল্লা মহানগর, চৌদ্দগ্রাম ও মনোহরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। সোমবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান লুৎফর রহমান।

গ্রেপ্তারকৃতরা নিজ নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি, মারামারি ও আতঙ্ক সৃষ্টির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন

  1. কুমিল্লা নগরের নুরপুর এলাকার ‘স্ম্যাশ স্কোয়াড’ গ্যাংয়ের প্রধান জিসান (১৯) ও গ্যাংটির অন্যতম নেতা আড়াইওড়ার সাইফুল ইসলাম (২০)।
  2. চৌদ্দগ্রামের ‘১২০৭’ গ্যাংয়ের প্রধান তারেক হোসেন সৈকত (১৯)।
  3. চৌদ্দগ্রামের ‘১২০৭’ গ্যাংয়ের সদস্য জাফর আহমদ (২৩)।
  4. মনোহরগঞ্জের ‘পিএক্স ১০’ গ্যাংয়ের প্রধান ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, জিসানের বাড়ি নগরের তেলিকোনা গোবিন্দ পুকুরপাড় এবং সাইফুলের বাড়ি আড়াইওড়া সমিতিপাড়া এলাকায়। তারেকের বাড়ি চৌদ্দগ্রামের নলিশ্বর ও জাফরের বাড়ি কোমারডোগা মধ্যমপাড়া এলাকায়। মনোহরগঞ্জের গ্রেপ্তারকৃত কিশোরের বাড়ি পোমগাঁও গ্রামে। তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ জানায়, জেলা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নির্মূল করে জনমনে স্বস্তি ফেরাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলার ১৮টি থানায় পরিচালিত বিশেষ এই অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাঁচ দফার অভিযানে আটক দুই হাজারের বেশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সন্তান সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরসহ জেলার ১৮টি থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিয। জেলার প্রতিটি ইউনিট কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। অন্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের পাঁচ ধাপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দফায় ৬২৪, দ্বিতীয় দফায় ২৫৪, তৃতীয় দফায় ৪১৫, চতুর্থ দফায় ৩৭৯ এবং পঞ্চম দফায় ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে পঞ্চম দফার অভিযানে আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার বিরুদ্ধে খুনসহ গুরুতর ৯টি মামলা রয়েছে। বর্তমান আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা, মাদক সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন মামলার তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কুমিল্লায় তিন কিশোর গ্যাংয়ের প্রধানসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৪:৩৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচজন মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। রবিবার পরিচালিত এসব পৃথক অভিযানে কুমিল্লা মহানগর, চৌদ্দগ্রাম ও মনোহরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। সোমবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান লুৎফর রহমান।

গ্রেপ্তারকৃতরা নিজ নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি, মারামারি ও আতঙ্ক সৃষ্টির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন

  1. কুমিল্লা নগরের নুরপুর এলাকার ‘স্ম্যাশ স্কোয়াড’ গ্যাংয়ের প্রধান জিসান (১৯) ও গ্যাংটির অন্যতম নেতা আড়াইওড়ার সাইফুল ইসলাম (২০)।
  2. চৌদ্দগ্রামের ‘১২০৭’ গ্যাংয়ের প্রধান তারেক হোসেন সৈকত (১৯)।
  3. চৌদ্দগ্রামের ‘১২০৭’ গ্যাংয়ের সদস্য জাফর আহমদ (২৩)।
  4. মনোহরগঞ্জের ‘পিএক্স ১০’ গ্যাংয়ের প্রধান ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, জিসানের বাড়ি নগরের তেলিকোনা গোবিন্দ পুকুরপাড় এবং সাইফুলের বাড়ি আড়াইওড়া সমিতিপাড়া এলাকায়। তারেকের বাড়ি চৌদ্দগ্রামের নলিশ্বর ও জাফরের বাড়ি কোমারডোগা মধ্যমপাড়া এলাকায়। মনোহরগঞ্জের গ্রেপ্তারকৃত কিশোরের বাড়ি পোমগাঁও গ্রামে। তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ জানায়, জেলা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নির্মূল করে জনমনে স্বস্তি ফেরাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলার ১৮টি থানায় পরিচালিত বিশেষ এই অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাঁচ দফার অভিযানে আটক দুই হাজারের বেশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সন্তান সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরসহ জেলার ১৮টি থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিয। জেলার প্রতিটি ইউনিট কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। অন্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের পাঁচ ধাপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দফায় ৬২৪, দ্বিতীয় দফায় ২৫৪, তৃতীয় দফায় ৪১৫, চতুর্থ দফায় ৩৭৯ এবং পঞ্চম দফায় ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে পঞ্চম দফার অভিযানে আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার বিরুদ্ধে খুনসহ গুরুতর ৯টি মামলা রয়েছে। বর্তমান আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা, মাদক সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন মামলার তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।