রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। দলটির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি শৌর্য দীপ্ত সূর্য জানান, প্রায় দেড়শ জন দুষ্কৃতকারী উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত জি এম কাদেরের বাসভবনে এই হামলা চালায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করা হয় এবং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। আমরা পুলিশকে ইনফর্ম করেছি। পুলিশ এখন এখানে এসেছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায়। তিনি আরও জানান, দুর্বৃত্তরা বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত তা শনাক্তের জন্য তদন্ত চলছে। পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার রেজাউল করিমও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
এই হামলার ঘটনার ঠিক আগেই জি এম কাদেরের গ্রেপ্তারের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। ‘স্বৈরাচার বিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শত শত প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনের পরও জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করছে। বিক্ষোভকারীদের মতে, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি বিগত সরকারকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার কাজটি করেছে।
বিক্ষোভ মিছিলের ব্যানারে জি এম কাদেরের প্রতিকৃতি তুলে ধরে লেখা ছিল—‘জুলাইয়ের শহিদদের রক্তের সাথে বেইমানি করে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার সাথে যোগাযোগ; জিএম কাদেরের গ্রেপ্তার চাই’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’। তারা আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনো দোসরকে আর রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন পেতে দেওয়া হবে না। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে জি এম কাদেরের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
রিপোর্টার নাম: 























