আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কার্যক্রম অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে শুক্রবার এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হেগভিত্তিক আদালতটির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের চলমান দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের অংশ হিসেবেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হলো। বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া আদালত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এখন থেকে আইসিসির সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করবে। রুবিও এক বিবৃতিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আইসিসি যদি তাদের হুমকি বন্ধ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই সংস্থার কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের ব্যবস্থা করবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে আইসিসি এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। পোনা সংকটে বিপাকে গলদা চাষিরা, উৎপাদনে না ফিরলে বন্ধ হ্যাচারির লাইসেন্স বাতিল। ব্লেন্ডারস চয়েস- ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস পেলেন যারা। গাজীপুরে গাড়িতে গুলি করে ৩ কোটি টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আইসিসির সদস্য দেশগুলোকে তাদের উদ্বেগ নিরসনে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ দেখানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। এই প্রচেষ্টার সাফল্য বা ব্যর্থতার ওপর ভিত্তি করে সময়সীমা বাড়ানো বা কমানোর বিষয়টি নির্ভর করবে। এর আগে আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই ওয়াশিংটন এই ঘোষণার মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় তৈরি করে। উল্লেখ্য যে, ওই বিচারক আইসিসির বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর সরাসরি হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রত্যাখ্যান করেছে আইসিসি। আদালতটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইতিহাসের পাতায় এই মুহূর্তটির বিচার হবে। চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী। ছয় মাস পর আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণার সঙ্গে ‘দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করে’। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, আদালতটির কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সহায়তার জন্য তারা যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার প্রতিষ্ঠার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, বৈশ্বিক বিচার ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো আইসিসি।
বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। প্রসঙ্গত, এর আগে আইসিসি নেতানিয়াহুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এমনকি নেদারল্যান্ডসে নেতানিয়াহুর হোটেলে ঢুকেও বিক্ষোভ হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে আইসিসি নিয়ে এই উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন সদস্য দেশগুলোকে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার প্রেক্ষাপটে আইসিসির কার্যক্রম ও ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনাও চলমান রয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 





















