Hi

০৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি সরকারের পক্ষে গ্রহণ করা কঠিন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আমি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী যারা পালিয়ে গেছেন তাদের কথা বলছি না। যারা এদেশে আছেন, এদের মধ্যে একটা পারসেন্টেজ, পারসেন্টেজটা কত। সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যারা আওয়ামী লীগ অ্যাকটিভলি করেছেন, তাদের সঙ্গে একটা রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া না। কোন ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়ে রিকসিলিয়েশন হয়।

উপদেষ্টা বলেন, সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরকারের কোনো দ্বিমত নেই। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। যারা এখনো দেশে আছেন এবং আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন, তাদের সঙ্গে সমঝোতা হওয়াটা ইতিবাচক হতে পারত বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো সমঝোতার জন্য একটি নির্দিষ্ট ভিত্তি ও আদি শর্ত থাকা প্রয়োজন। ওটার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশান হতে হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ টেনে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সমঝোতার মৌলিক শর্ত হলো অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুশোচনা। তিনি মনে করেন, অপরাধের দায় স্বীকার করলেও ফৌজদারি অপরাধের আইনি প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি মূলত কীভাবে বা কাদের মাধ্যমে করা হবে, তা নিয়ে আলোচনার অবকাশ ছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সমঝোতার পথে প্রধান বাধা হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন হুমকির কথা উল্লেখ করেন। উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে দলটি এবং তাদের প্রধান নেত্রীর কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব অবাক হয়ে দেখেছি, দলের প্রধান নেত্রী এখনো আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি ক্রমাগত সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।’ এই ধরনের পরিস্থিতির কারণে সরকারের পক্ষে সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্বসহ বিবেচনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান। একটা রিকনসিলিয়েশন দরকার ছিল—এই আলাপগুলো ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা প্রচুর করেছি। ফান্ডামেন্টালটা, আমরা সাউথ আফ্রিকায় যখন দেখেছি, কী হয়েছিল আসলে। রিকসিলিয়েশনের বেসিকটা হচ্ছে—যেই গ্রুপ গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল, যেই হোক না কেন—সে যে অপরাধটা করেছে, সেই অপরাধের স্বীকৃতি থাকা, সেটা নিয়ে তাদের রিপেডেন্স থাকা, অপরাধের স্বীকৃতি এবং রিপেন্ডেন্সের প্রশ্ন আছে…, কারণ অপরাধের স্বীকৃতি দিলেই আসলে ফোজদারি অপরাধ তামাদি।

জনপ্রিয়

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা: তেলের দাম বেড়ে ১০২ ডলার ছাড়াল

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা

আপডেট : ০২:৩৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি সরকারের পক্ষে গ্রহণ করা কঠিন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আমি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী যারা পালিয়ে গেছেন তাদের কথা বলছি না। যারা এদেশে আছেন, এদের মধ্যে একটা পারসেন্টেজ, পারসেন্টেজটা কত। সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যারা আওয়ামী লীগ অ্যাকটিভলি করেছেন, তাদের সঙ্গে একটা রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া না। কোন ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়ে রিকসিলিয়েশন হয়।

উপদেষ্টা বলেন, সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরকারের কোনো দ্বিমত নেই। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। যারা এখনো দেশে আছেন এবং আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন, তাদের সঙ্গে সমঝোতা হওয়াটা ইতিবাচক হতে পারত বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো সমঝোতার জন্য একটি নির্দিষ্ট ভিত্তি ও আদি শর্ত থাকা প্রয়োজন। ওটার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশান হতে হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ টেনে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সমঝোতার মৌলিক শর্ত হলো অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুশোচনা। তিনি মনে করেন, অপরাধের দায় স্বীকার করলেও ফৌজদারি অপরাধের আইনি প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি মূলত কীভাবে বা কাদের মাধ্যমে করা হবে, তা নিয়ে আলোচনার অবকাশ ছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সমঝোতার পথে প্রধান বাধা হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন হুমকির কথা উল্লেখ করেন। উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে দলটি এবং তাদের প্রধান নেত্রীর কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব অবাক হয়ে দেখেছি, দলের প্রধান নেত্রী এখনো আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি ক্রমাগত সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।’ এই ধরনের পরিস্থিতির কারণে সরকারের পক্ষে সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্বসহ বিবেচনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান। একটা রিকনসিলিয়েশন দরকার ছিল—এই আলাপগুলো ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা প্রচুর করেছি। ফান্ডামেন্টালটা, আমরা সাউথ আফ্রিকায় যখন দেখেছি, কী হয়েছিল আসলে। রিকসিলিয়েশনের বেসিকটা হচ্ছে—যেই গ্রুপ গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল, যেই হোক না কেন—সে যে অপরাধটা করেছে, সেই অপরাধের স্বীকৃতি থাকা, সেটা নিয়ে তাদের রিপেডেন্স থাকা, অপরাধের স্বীকৃতি এবং রিপেন্ডেন্সের প্রশ্ন আছে…, কারণ অপরাধের স্বীকৃতি দিলেই আসলে ফোজদারি অপরাধ তামাদি।