দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সুন্দরের চর্চা ও গণমানুষের সাংস্কৃতিক জাগরণের ব্রত নিয়ে কাজ করে আসা ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘চুনারুঘাট সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ’ তাদের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। এ উপলক্ষে গত ১ ও ২ অক্টোবর চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় দুই দিনব্যাপী ‘বৈচিত্র্যের উৎসব’। ‘শিল্প-সংস্কৃতি-সংগ্রাম আমাদের মুক্তির অভিযাত্রা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই উৎসবে পাহাড় ও সমতলের সংস্কৃতির মিশেলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলা তৈরি হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি তার বক্তব্যে চুনারুঘাটের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে সরকারি সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, একটি মহল অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যাদের বিরুদ্ধে সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। এছাড়া চুনারুঘাটকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নিয়ে এই পরিষদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, চুনারুঘাটে সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। একটি মহল দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; আমরা সবাই সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের মোকাবিলা করব।
উৎসবের বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল, জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল হক চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিয় পালের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ইউএনও গালিব চৌধুরী, পিপি মোহাম্মদ আবদুল হাই, অ্যাডভোকেট এনামুল হক সেলিম, সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন সামছু, প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ ফারুক উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমানসহ অনেকে।
উৎসবের প্রথম দিন ১ অক্টোবর বিকেলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও পুতুল তৈরির প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয়। এরপর কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিন ২ অক্টোবর ‘এসো রঙিন করি মুখ’ কর্মসূচির পর জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেলে ত্রিপুরাদের ‘হোজাগিরি’, মণিপুরী ও ঐতিহ্যবাহী ‘বাহা’ নৃত্যসহ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল, ঝুমুর ও সমবেত নৃত্য পরিবেশিত হয়। দ্বিতীয় দিন (২ অক্টোবর) দুপুরে ‘এসো রঙিন করি মুখ’ কর্মসূচির পর জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
উৎসবের চূড়ান্ত পর্যায়ে আয়োজিত আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পর মঞ্চস্থ হয় কবি চন্দ্রাবতী রচিত বিখ্যাত নাটক ‘মলুয়া’। পরিশেষে প্রখ্যাত শিল্পী লাভলী দেবের সংগীতানুষ্ঠান ও গাজীর গীতের মধ্য দিয়ে বর্ণিল এই আয়োজনের সফল সমাপ্তি ঘটে। ১৯৮৯ সালের ১ অক্টোবর যাত্রা শুরুর পর থেকে সংগঠনটি মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করে এবং অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
রিপোর্টার নাম: 

























